সকালে টয়লেটে ঢুকে মাত্র দুই মিনিট ভেবে ফোন হাতে নেন। এরপর ফেসবুক, রিলস বা ভিডিও দেখতে দেখতে কখন যে ১৫–২০ মিনিট কেটে যায়, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। কিন্তু চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা— টয়লেটে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার এই অভ্যাস শুধু সময় নষ্টই নয়, এটি পাইলস, অ্যানাল ফিশার, কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টয়লেটে ১০ মিনিটের বেশি বসে থাকলে মলদ্বার ও পেলভিক অংশের শিরাগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। বিশেষ করে ফোন ব্যবহার করলে মানুষ শরীরের স্বাভাবিক মলত্যাগের সংকেত উপেক্ষা করে দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকে। এতে মল কোলনে বেশি সময় থেকে শক্ত হয়ে যায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বাড়ে।হিন্দুস্তান টাইমসের স্বাস্থ্য বিষয়ক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এমন তথ্য।
১০ মিনিটের বেশি টয়লেটে থাকলে যা হতে পারে
- পাইলস (হেমোরয়েড): দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে মলদ্বারের শিরাগুলো ফুলে যেতে পারে, যা পাইলসের ঝুঁকি বাড়ায়।
- অ্যানাল ফিশার: শক্ত মল বের হওয়ার সময় মলদ্বারে ছোট ফাটল তৈরি হতে পারে। এতে তীব্র ব্যথা ও রক্তপাত হতে পারে।
- কোষ্ঠকাঠিন্য: স্বাভাবিক মলত্যাগের অভ্যাস ব্যাহত হলে মল আরও শক্ত হয়ে যায়, ফলে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
- পেলভিক ফ্লোরের ওপর চাপ: একই ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় বসে থাকলে পেলভিক পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা ভবিষ্যতে আরও জটিলতার কারণ হতে পারে।
পাইলস কি কোলন ক্যানসারে পরিণত হয়?
চিকিৎসকদের মতে, পাইলস থেকে কোলন ক্যানসার হয় না। দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন রোগ।তবে সমস্যাটি অন্য জায়গায়। অনেক সময় কোলন ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ— যেমন মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া, মলত্যাগের অভ্যাস বদলে যাওয়া বা দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য— মানুষ ভুল করে পাইলস ভেবে অবহেলা করেন। ফলে প্রকৃত রোগটি শনাক্ত হতে দেরি হয় এবং ক্যানসার অগ্রসর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, যদি দীর্ঘদিন রক্তপাত, ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বা মলত্যাগের অভ্যাসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
যেভাবে ঝুঁকি কমাবেন
- টয়লেটে ফোন বা অন্য কোনো স্ক্রিন ডিভাইস ব্যবহার না করাই ভালো।
- ৫–১০ মিনিটের মধ্যে মলত্যাগের কাজ শেষ করার চেষ্টা করুন।
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
- প্রতিদিন আঁশযুক্ত খাবার খান।
- নিয়মিত শরীরচর্চা করুন।
- প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে টয়লেটে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
চিকিৎসকদের মতে, টয়লেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের জায়গা নয়। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় সেখানে বসে থাকা একটি ছোট অভ্যাস মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি পাইলস, ফিশার ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। পাশাপাশি মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত বা দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গকে কখনোই শুধু পাইলস ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে গুরুতর রোগও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব।