Image description

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ১ দফার (শেখ হাসিনার পতন) ঘোষণা কীভাবে এসেছিল, এটা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।     

রাশেদ খাঁন লেখেন, জুলাই গণহত্যার তৃতীয় দিন ১৮ জুলাই অসংখ্য মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। সন্ধ্যার কাছাকাছি সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আহনাফ সাঈদ খান আমাকে কল করে বলে, ভাই, বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলকে মাঠে নামতে বলেন। এবার সরকার পতনের আন্দোলনের দিকে যেতে হবে। এত হত্যার পরে আর কোটা সংস্কার আন্দোলন হতে পারে না। 

তিনি বলেন, তার আগে আন্দোলন চলাকালীন সময় আমি আসিফ মাহমুদকে জানিয়ে রেখেছিলাম, বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর পুরোপুরি সমর্থন ও ছাত্রদলসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ইতোমধ্যে আন্দোলনে অংশগ্রহণ আছে। যেকোনও ধরনের রাজনৈতিক সহযোগিতা বা সমর্থন লাগলে সেটা আমি অ্যারেঞ্জ করতে পারবো। তখন আসিফ মাহমুদ আমাকে বলে, ভাই, আমি কখন কোথায় থাকি বলা যায় না, আপনার সাথে আহনাফ যোগাযোগ রাখবে। সেই সূত্র ধরেই আহনাফ আমার সাথে যোগাযোগ করে।
 
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, আমি আহনাফকে তখন জিগ্যেস করি, এটা কি শুধু তোমার না, আসিফদের কথা? আহনাফ তখন আমাকে জানায়, এটা আমাদের কথা, আসিফের কথা। আমি বলি, তাহলে কিন্তু তোমাদের ১ দফার দিকে যেতে হবে। আহনাফ আমাকে জানায়, এই হত্যার একমাত্র প্রতিশোধ শেখ হাসিনার পতন। আপনি আস্থা রাখেন, ১ দফার ঘোষণা আসবেই.... এরপর আমি এ বিষয়ে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাউদ্দিন আহমেদকে বলি, ছাত্ররা তো বিএনপিসহ সব দলকে মাঠে নেমে যেতে বলে, তারা ১ দফার ঘোষণা দেবে। তখন জনাব সালাউদ্দিন আহমেদ আমাকে বলে, দেখো এত হত্যার পরে তো কোটা সংস্কার আন্দোলন আর করা যায় না। তারা সত্যিই ১ দফার ঘোষণা দিলে, এবার বিএনপি শেষ লড়াইটা লড়বে। 
 
তিনি বলেন, আমি তাকে বলি, আস্থা রাখেন, ১ দফা আসবেই। তারপর, তিনি বিএনপির সে-সময়কার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের সাথে কথা বলে সরকার পতনের নেপথ্যের সমস্ত প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেন.... হ্যাঁ, এটা জুলাইয়ে ইতিহাস। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের রাজনৈতিক সমন্বয় ছাত্র নেতাদের আহ্বানে বিএনপিই করেছে। ইতিহাস স্বীকার করতে কষ্ট হলেও, এটাই জুলাইয়ের নেপথ্যের ইতিহাস।