গ্যাস সংকটসহ বিভিন্ন কারণে গাজীপুরে দুই শতাধিক ছোট ও সাব-কন্ট্রাক্টিং পোশাক কারখানায় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে শনিবার (৮ আগস্ট) পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
কারখানা শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সরকারি ছুটি ছিল। এর সঙ্গে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার মিলিয়ে কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। কিছু কারখানায় কয়েকটি সেকশনে কাজ চললেও বাকি ইউনিট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মূলত গ্যাস সংকট থাকায় দিনের কমপক্ষে ৩-৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকায় উৎপাদন ব্যয় কমানোর জন্য এ ছুটি দেওয়া হয়েছে। টানা ছুটির আনন্দ থাকলেও শ্রমিকরা কারখানার উৎপাদন নিয়ে শঙ্কিত।
শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিল্পাঞ্চলগুলোর একটি। এখানে কয়েক হাজার তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, স্পিনিং, ডাইং, ওয়াশিং, সিরামিক, ওষুধ, প্লাস্টিক ও বিভিন্ন উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানা রয়েছে। গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে যেসব শিল্পকারখানা চার দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে, এসব কারখানার বেশির ভাগই তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, নিটিং, ডাইং ও ওয়াশিং খাতের। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনেক কারখানাই উৎপাদন সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কারখানা মালিকদের অভিযোগ, অব্যাহত গ্যাস–সংকটের কারণে দিন দিন তাদের অর্ডার কমে যাচ্ছে। এই সমস্যাগুলো অব্যাহত থাকলে এ শিল্প ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। গ্যাসের সমস্যার কারণে সরকারি ছুটির সঙ্গে মিল রেখে শ্রমিকদের চার দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে ভবিষ্যতে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত সমস্যা সমাধানের তাগিদ দিয়েছেন তারা।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২ এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, সরকারি ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে গাজীপুরে ২০ ভাগ (দুই শতাধিক) কারখানায় টানা ৪ দিন ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, কারখানা বন্ধের পেছনে শুধুমাত্র গ্যাসের স্বল্প চাপই একমাত্র কারণ নয়। যারা এই পরিস্থিতির জন্য পুরোপুরি গ্যাস সংকটকে দায়ী করছেন, তাদের তথ্যকে তিনি ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে আখ্যা দেন। গ্যাসের নিম্নচাপের কারণে আগেও বিভিন্ন সময় কারখানাগুলোতে স্বল্পমেয়াদি ছুটি দেওয়া হয়েছে। বর্তমান অবস্থাকে তিনি খুব বড় কোনও সমস্যা হিসেবে দেখছেন না।
তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাজীপুরে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় সাড়ে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। অর্থাৎ ৪৫ ভাগ গ্যাসের ঘাটতির কারণেই শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় প্রয়োজনীয় চাপ থাকছে না। বিশেষ করে সকাল ও দিনের বেলায় উৎপাদন সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হচ্ছে।