Image description

যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ অঙ্গরাজ্যের প্রাথমিক নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের প্রগতিশীল শিবির যেমন উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে, তেমনি রিপাবলিকান ভোটাররাও দলীয় নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী নভেম্বরে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এসব ফল দুই দলের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) মিশিগান, ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া, কানসাস ও মিসৌরিতে অনুষ্ঠিত ভোটে সবচেয়ে আলোচনায় ছিল মিশিগানের ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী নির্বাচন। সেখানে প্রগতিশীল নেতা আবদুল এল-সায়েদ ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে মধ্যপন্থী কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেন। স্টিভেন্স পেয়েছেন ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট।

জয়ের ব্যবধান খুবই কম হলেও এল-সায়েদের এই বিজয়কে প্রগতিশীল রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চিকিৎসক ও সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এল-সায়েদের নির্বাচনী প্রচারে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, ধনীদের ওপর বেশি কর আরোপ এবং ইসরায়েলকে শর্তহীন মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি ছিল প্রধান ইস্যু। তার পক্ষে প্রচারে অংশ নেন বার্নি স্যান্ডার্স ও আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজের মতো প্রগতিশীল নেতারা।

নভেম্বরে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প মিশিগানে জয় পাওয়ায় এই সিনেট আসনকে ডেমোক্র্যাটদের জন্য কঠিন লড়াই হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

মিশিগানে প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকটি আসনেও প্রগতিশীল প্রার্থীরা সাফল্য পেয়েছেন। সানরাইজ মুভমেন্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা উইলিয়াম লরেন্স সপ্তম কংগ্রেসীয় আসনে ডেমোক্র্যাট মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন। ডেট্রয়েটে বর্তমান কংগ্রেস সদস্য শ্রী থানেদারকে পরাজিত করেছেন প্রগতিশীল প্রার্থী ডোনাভান ম্যাককিনি। থানেদারের পক্ষে ইসরায়েলপন্থী প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সমর্থন থাকলেও ভোটাররা ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে প্রগতিশীলদের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। এল-সায়েদ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাননি এবং সাধারণ নির্বাচনে মধ্যপন্থী ও স্বতন্ত্র ভোটারদের সমর্থন অর্জন তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

অন্যদিকে মিসৌরিতে প্রগতিশীলদের প্রত্যাবর্তনের আশা ধাক্কা খেয়েছে। সাবেক কংগ্রেস সদস্য কোরি বুশ দলীয় মনোনয়ন পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হয়েছেন। দুই বছর আগে তাকে হারানো ওয়েসলি বেল আবারও ডেমোক্র্যাট মনোনয়ন ধরে রেখেছেন। বুশ ৪০ শতাংশেরও কম ভোট পেয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে দুই প্রার্থীর অবস্থানও এই নির্বাচনে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

মিসৌরিতে রিপাবলিকান ভোটারেরাও দলীয় নেতৃত্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বিপুল ব্যবধানে প্রত্যাখ্যান করেছেন। একটি প্রস্তাবে নাগরিক উদ্যোগে অঙ্গরাজ্যের সংবিধান সংশোধনের নিয়ম কঠোর করার পরিকল্পনা ছিল। প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট পড়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ। একইভাবে অঙ্গরাজ্যের আয়কর ধাপে ধাপে তুলে দেওয়ার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

প্রতিবেশী কানসাসেও রিপাবলিকান নেতৃত্বের সমর্থিত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সরাসরি নির্বাচনের প্রস্তাব নাকচ করেছেন ভোটাররা। আদালতের সাম্প্রতিক কয়েকটি রায় নিয়ে অসন্তুষ্ট রিপাবলিকান নেতারা এই উদ্যোগকে সমর্থন দিয়েছিলেন।

ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের জয়ী নির্বাচনী এলাকাতেও নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য মারি গ্লুসেনক্যাম্প পেরেজ। যদিও প্রাথমিক নির্বাচন পেরিয়েছেন, নভেম্বরে তাকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হতে পারে।

ভার্জিনিয়াতেও সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। এসব আসনের ফলও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাঁচ অঙ্গরাজ্যের ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে যে স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও ইসরায়েলনীতি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের ভেতরে প্রগতিশীলদের প্রভাব বাড়ছে। তবে সাধারণ নির্বাচনে সফল হতে মধ্যপন্থী ভোটারদের আস্থা অর্জন তাদের জন্য অপরিহার্য।

একই সঙ্গে রিপাবলিকানদের জন্যও ফলাফল সতর্কবার্তা বহন করছে। ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন থাকলেও দলীয় নেতৃত্বের প্রতিটি নীতির সঙ্গে তাদের ভোটাররা একমত নন। বিশেষ করে মিসৌরি ও কানসাসের ব্যালট প্রস্তাবের ফল সেই বাস্তবতাই সামনে এনেছে।

আগামী নভেম্বরে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়ে তাই দুই দলের সামনেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নিজেদের মূল সমর্থকদের ধরে রাখার পাশাপাশি মধ্যপন্থী ভোটারদের আস্থা অর্জন করা।