Image description

অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া নিউজ পোর্টাল এশিয়া পোস্টে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জড়িত শিক্ষকদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমকে সভাপতি এবং অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কোন শিক্ষক জড়িত রয়েছেন, সে সম্পর্কে তথ্যানুসন্ধান করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য কমিটির সভাপতিকে বলা হয়েছে।

 

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অধ্যাপক মো. গোলাম ছাদিক (ফার্মেসি বিভাগ), অধ্যাপক মোহাম্মদ আমীরুল ইসলাম (প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগ), অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান (প্রাণিবিদ্যা বিভাগ)।

 

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন মিডিয়া ও সূত্রে জানা যায় যে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক পলাতক ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পতিত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ফ্যাসিস্ট সংগঠন আওয়ামী লীগ-এর সাথে গোপন যোগাযোগে লিপ্ত রয়েছেন। তার মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কর্মরত কিছু শিক্ষকের নামও রয়েছে।’

 

‘উপরিউক্ত গোপন তৎপরতায় রাবির কোন কোন শিক্ষক জড়িত রয়েছেন, সে সম্পর্কে তথ্যানুসন্ধান করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য কমিটির সভাপতিকে বলা হয়েছে।’

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘পলাতক ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পতিত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ফ্যাসিস্ট সংগঠন আওয়ামী লীগ-এর সাথে গোপন যোগাযোগে লিপ্ত থাকার বিষয়টি রাবি কর্তৃপক্ষ গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। এধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন, বিচারিক প্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের শামিল। এসব অপতৎপরতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশে বিভ্রান্তি ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ মনে করে।’

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর গোপন তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রকাশিত শিক্ষকদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একজন সিন্ডিকেট সদস্যের নেতৃত্বে অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

 

তিনি আরও বলেন, এশিয়া পোস্টের প্রতিবেদনে কয়েকজন শিক্ষকের নাম আংশিক বা ডাকনামে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি প্রকৃত অভিযুক্তদের পরিচয় নিশ্চিত করবে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘এশিয়া পোস্টে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এসেছে। প্রতিবেদনে অনেক শিক্ষকের আংশিক নাম ও ডাকনাম ব্যবহার করা হয়েছে। সঠিক ব্যক্তিদের শনাক্ত করতেই আজ পাঁচ সদস্যের একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'