মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত গুমসংক্রান্ত খসড়া আইনের সমালোচনাা করে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গুম কমিশনের সাবেক সদস্য নাবিলা ইদ্রিস। মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই আইনের বেশ কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানান।
তার মতে, খসড়া আইনের প্রস্তাবিত বিধানগুলো গুমের শিকার পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে রুদ্ধ করবে এবং উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আইনি হয়রানি ও শাস্তির মুখে ফেলবে।
নাবিলা ইদ্রিসের ফেসবুক স্ট্যাটাসে মূলত আইনের দুটি বিশেষ ধারার কার্যকারিতা ও এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরা হয়।
খসড়া আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো পরিবার যদি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ দায়ের করে, তবে সেই অভিযোগের তদন্ত সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনী নিজেই করবে। এই বিধানের কঠোর সমালোচনা করে নাবিলা ইদ্রিস বলেন, এর ফলে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিজেই তদন্ত করে নিজেদের দায়মুক্ত দেখানোর সুযোগ পাবে, যা নিরপেক্ষতার পরিপন্থী।
প্রস্তাবিত আইনের ধারা ২১-এ বলা হয়েছে, তদন্তের পর যদি আদালতে গুমের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে অভিযোগকারী বা ভুক্তভোগী পরিবারের ৫ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড হবে। সাবেক এই কমিশন সদস্য মনে করেন, এই ধরনের শাস্তির বিধান থাকলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ভয়ে মুখ খুলতেই সাহস পাবে না।
সোমবার মন্ত্রিসভায় গুম সংক্রান্ত নতুন এই আইনের খসড়া অনুমোদন পায়। রাষ্ট্রীয় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ আসার পর তা নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে তদন্ত করার জন্য একটি স্বতন্ত্র কাঠামোর দাবি দীর্ঘদিনের।
তবে মানবাধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযুক্ত বাহিনী নিজেই যদি তদন্তের দায়িত্ব পায়, তবে তা থেকে ন্যায়বিচার আশা করা কঠিন। তাছাড়া, মিথ্যা অভিযোগের জিগির তুলে ৫ বছরের কারাদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির বিধান থাকলে তা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ওপর এক ধরনের চরম মনস্তাত্ত্বিক চাপ এবং আইনি হুমকি তৈরি করবে।
সাবেক কমিশন সদস্যের এই বক্তব্য প্রকাশের পর আইনটির কার্যকারিতা ও এর খসড়া সংশোধনের দাবি জোরালো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।