সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাইহীন, মনগড়া ও কাল্পনিক তথ্য ছড়িয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।
সংগঠনটি বলছে, কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধে জড়িত থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু বিগত সরকারের সময়ে চাকরি করার কারণে পেশাদার, সৎ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আজ সোমবার রাতে সংগঠনের সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক ডাবলু এক বিবৃতিতে এসব কথা জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ প্রধান থেকে শুরু করে রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার, অফিসার ইনচার্জসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিগত সরকারের সহযোগী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কোনো কর্মকর্তার নতুন পদায়নের পরপরই তাকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিমাত্রায় নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এতে আরও বলা হয়, কিছু ব্যক্তি নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সক্রিয়কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জনমনে বিদ্বেষ সৃষ্টি এবং তাদের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।
পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন বলছে, কোনো পুলিশ সদস্য অতীতে গুম, খুন, দমন-পীড়ন, নির্যাতন কিংবা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কিন্তু কেবল বিগত সরকারের আমলে দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো কর্মকর্তাকে ঢালাওভাবে অভিযুক্ত করা অনুচিত।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, এসব অপপ্রচারের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পুলিশ কর্মকর্তাদের মনোবল দুর্বল করা, সদ্য পদায়ন পাওয়া কর্মকর্তাদের বিতর্কিত করা এবং সামগ্রিকভাবে পুলিশ বাহিনীকে ডিমোরালাইজড করা। একই সঙ্গে এসব প্রচারণার মাধ্যমে জনমনে পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি এবং সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।
এ ধরনের প্রচারণা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি বলছে, পুলিশ বাহিনীকে ডিমোরালাইজড করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত মানহানিকর প্রচারণা ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্ব রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সচেতন নাগরিক, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছে সংগঠনটি।