সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন প্রস্তাবিত বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের যৌথ বিবৃতিতে সমর্থন দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এই সমর্থন সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নয়। বাংলাদেশ যুদ্ধজাহাজ বা সামরিক সদস্য পাঠাবে কিনা, সেটি এখনও পরিষ্কার নয়।
সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের অবস্থান আগের মতোই হতে পারে। নীতিগত সমর্থন থাকবে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, তথ্যবিনিময়, প্রশিক্ষণ ও উদ্ধার কার্যক্রমেও সহযোগিতা হতে পারে। কিন্তু জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া অন্য কোনও দেশের ভূখণ্ডে গিয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম।
বিশ্লেষকদের কেউ সিদ্ধান্তটিকে সময়োপযোগী বলছেন। তাদের মতে, এতে সৌদি আরবসহ মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বাড়বে। তৈরি হতে পারে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি বিনিময়ের সুযোগ।
অপরদিকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জোটের কার্যপরিধি স্পষ্ট হওয়া জরুরি। কারণ লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেবকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার সঙ্গে হুতি গোষ্ঠী, ইরান এবং সৌদি আরবের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা জড়িত। সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নিলে বাংলাদেশও সেই বিরোধে জড়িয়ে পড়তে পারে।
‘সমর্থন ও যুদ্ধে অংশ নেওয়া এক বিষয় নয়’
সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহফুজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “সৌদি আরবের নেতৃত্বে ২০১৫ সালে ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেরোরিজম কোয়ালিশন—আইএমসিটিসি গঠিত হয়েছিল। ২০১৭ সালের নভেম্বরে জোটটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশও ওই জোটের সদস্য ছিল।”
তিনি বলেন, “সে সময় জোটের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল—আমরা নীতিগত ও মনস্তাত্ত্বিক সমর্থন দেবো, কিন্তু জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া কোনও সংঘাতে যুদ্ধ করার জন্য সৈন্য পাঠাবো না। সৌদি আরবের ভূখণ্ড কিংবা মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থাপনাগুলো সরাসরি আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি ভিন্নভাবে বিবেচনা করা হতে পারে।”
প্রস্তাবিত নতুন বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের সঙ্গে আগের উদ্যোগটির কিছু সাদৃশ্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এবারের বৈঠকে ৪৩টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা অংশ নিলেও যৌথ বিবৃতিতে সমর্থন জানিয়েছে ১৪টি দেশ। বাংলাদেশও সমর্থনকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। তবে যৌথ বিবৃতিতে সমর্থন দেওয়া এবং সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া এক বিষয় নয়।”
মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমার ধারণা বাংলাদেশ নীতিগতভাবে এই উদ্যোগে সম্মতি জানিয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ অবিলম্বে যুদ্ধজাহাজ বা সামরিক সদস্য পাঠাবে। সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণের প্রশ্ন এলে জাতিসংঘের অনুমোদন, সরকারের সুস্পষ্ট নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সংসদীয় সমর্থনের বিষয় সামনে আসবে।”
সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত। সৌদি আরবের সঙ্গে শ্রমবাজার, রেমিট্যান্স, বিনিয়োগসহ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে।
তার মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতি যখন বিকাশের পর্যায়ে রয়েছে, তখন সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুরোধ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে দেশটিকে অসন্তুষ্ট করতে সরকার চাইবে না। এ কারণেও বাংলাদেশ নীতিগতভাবে জোটটির পাশে দাঁড়াতে পারে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সম্ভাব্য অবস্থান আগের মতোই হতে পারে—সৌদি আরবের ভূখণ্ড বা ইসলামের পবিত্র স্থান আক্রান্ত হলে প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতা বিবেচনা করা হবে। কিন্তু সৌদি আরবের হয়ে অন্য কোনও ভূখণ্ডে গিয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়া হবে না। জাতিসংঘের ছাতার নিচে কোনও বৈধ আন্তর্জাতিক অভিযান হলে বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের বিষয় বিবেচনা করতে পারে।”
হুতি ও ইরান প্রশ্নে সতর্কতা
প্রস্তাবিত জোটের ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির কথাও বলেছেন মাহফুজুর রহমান। তার মতে, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেবের বর্তমান উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী। তারা ইরান-সমর্থিত এবং দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একটি সশস্ত্র শক্তি।
হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নিলে বাংলাদেশ অনিচ্ছাকৃতভাবে সৌদি আরব ও ইরানকেন্দ্রিক বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জড়িয়ে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, “এ ধরনের সংঘাত শেষ পর্যন্ত শুধু সামুদ্রিক নিরাপত্তার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। এটি সুন্নি-শিয়া ভূ-রাজনৈতিক বিভাজনের রূপ নিতে পারে। একই ধর্মের মানুষের মধ্যে বিভাজন ও সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকবে। তাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ কৌশল হলো সরাসরি যুদ্ধ বা আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে অংশ না নেওয়া।”
হুতিদের সামরিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “হুতিরা দীর্ঘ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা একটি ব্যাটল-হার্ডেনড বা যুদ্ধ-অভিজ্ঞ শক্তি। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক চাপেও তাদের সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া যায়নি। ফলে নতুন জোটটি হুতিদের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর সামরিক শক্তি হিসেবে দাঁড়াতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।”
তার মতে, উদ্যোগটির সামরিক কার্যকারিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক উদ্দেশ্যও রয়েছে। সৌদি আরব দেখাতে চাইছে, সংকটের সময় কয়েকটি দেশ এখনও তার পাশে রয়েছে।
মাহফুজুর রহমান বলেন, “ইরানের সঙ্গে প্রতিযোগিতার কারণে সৌদি আরবের আঞ্চলিক নেতৃত্ব কিছুটা চাপের মধ্যে রয়েছে। এ জোটের মাধ্যমে দেশটি দেখাতে চাইছে, এখনও তার নেতৃত্বে অনেক দেশ ঐক্যবদ্ধ হতে প্রস্তুত। ফলে এটি শুধু সামরিক উদ্যোগ নয়; সৌদি আরবের আঞ্চলিক নেতৃত্ব ও প্রভাব প্রদর্শনের একটি ভূ-রাজনৈতিক বার্তাও।”
তার মতে, বাংলাদেশের উচিত শুরুতেই নিজের ভূমিকার সীমা পরিষ্কার করা। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, তথ্যবিনিময় এবং মানবিক ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহযোগিতা করা যেতে পারে। তবে এমন কোনও অভিযানে যুক্ত হওয়া উচিত নয়, যা বাংলাদেশকে হুতি, ইরান কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাতের প্রত্যক্ষ পক্ষ হিসেবে দাঁড় করায়।
বাণিজ্যপথে বাংলাদেশের স্বার্থ
বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের বড় অংশ সমুদ্রপথে পরিচালিত হয়। তৈরি পোশাকসহ ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকামুখী পণ্যবাহী জাহাজ ভারত মহাসাগর থেকে এডেন উপসাগর, বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খালে প্রবেশ করে।
এই অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। অনেক নৌযানকে আফ্রিকা ঘুরে চলতে হয়। এতে যাত্রার সময় বাড়ে। বাড়ে জ্বালানি খরচ, পরিবহন ভাড়া ও বিমা ব্যয়।
এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের রফতানি খাতে। আমদানি করা খাদ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয়ও বেড়ে যায়।
জোটটি যদি বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বাড়াতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ উপকৃত হতে পারে। রফতানি পণ্য সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো সহজ হবে। পরিবহন ব্যয়ের চাপও কমতে পারে।
যৌথ প্রশিক্ষণ, সামুদ্রিক নজরদারি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার, মাইন অপসারণ, সাইবার নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা তথ্যবিনিময়ের ক্ষেত্রেও সুযোগ তৈরি হতে পারে। এসব অভিজ্ঞতা বঙ্গোপসাগরে অবৈধ মাছ শিকার, অস্ত্র ও মাদক পাচার, মানবপাচার এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র অবকাঠামো সুরক্ষায় কাজে লাগতে পারে।
‘ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ’
নিরাপত্তা বিশ্লেষক, বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা এ আর এম শহীদুল ইসলাম (আবু রুশদ) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “বাংলাদেশের জন্য এটি একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় যে কৌশলগত পরিবর্তন ঘটছে, সেই বাস্তবতায় বাংলাদেশ সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ শ্রমবাজার, তৈরি পোশাক রফতানি, জ্বালানি, বিনিয়োগ ও বৈদেশিক সহায়তার ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর নির্ভরশীল। তাই আবেগের ভিত্তিতে নয়, জাতীয় স্বার্থ ও বাস্তবতা বিবেচনায় পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতি নির্ধারণ করতে হবে।”
আবু রুশদ বলেন, “সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিসরের মতো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো কৌশলগত সম্পর্ক থাকলে তা আমাদের সশস্ত্র বাহিনী, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অবস্থানের জন্য লাভজনক হবে। অধিকাংশ মূলধারার মুসলিম দেশ যে উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের উপস্থিতি নিরাপত্তার দিক থেকেও সহায়ক হতে পারে।”
তার মতে, বাংলাদেশ এ ধরনের প্ল্যাটফর্মে থাকলে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন ইস্যুতে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে পারবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায়ও ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবে।
জ্বালানি নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ জ্বালানি সংগ্রহ করে। একই অঞ্চল থেকে রেমিট্যান্স, অনুদান ও বিনিয়োগ আসে। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক নাগরিক সেখানে কাজ করেন। ফলে এসব দেশের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন।”
‘সামরিক-কূটনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হবে’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “এ জোটে অংশগ্রহণ করায় সৌদি আরব ও অন্যান্য মিত্র দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক-কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।”
তিনি বলেন, “আঞ্চলিক নীতিনির্ধারণ ও ভূ-রাজনৈতিক দিক দিয়ে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও শক্তিশালী হতে পারে।” তাই তিনি এটিকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন।
তবে এতে কী ধরনের ঝুঁকি বা চ্যালেঞ্জ হতে পারে, তা সরকারের সংশ্লিষ্ট শাখার পর্যালোচনার বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
‘নিঃশর্তভাবে ইতিবাচক বলা কঠিন’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এবং পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষক ড. মো. আবদুল মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “সিদ্ধান্তটি মূল্যায়নের আগে জোটের ভৌগোলিক কার্যপরিধি, বাংলাদেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি পরিষ্কারভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, “বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের কতটা পণ্য পরিবহন হয়, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য দেখা দরকার। বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের তেল পরিবহনের প্রধান কৌশলগত পথ হলো হরমুজ প্রণালি। অন্যদিকে বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগরের পথটি মূলত ভূমধ্যসাগর ও সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার সঙ্গে পণ্য পরিবহনে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য পণ্য যদি এই পথে চলাচল করে, তাহলে ওই রুটের নিরাপত্তায় আমাদের স্বার্থ অবশ্যই রয়েছে।”
তবে সংঘাতকেন্দ্রিক সামরিক জোটে যুক্ত হলে বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সেই সংঘাতের অংশ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
ড. মান্নান বলেন, “বাংলাদেশের মতো একটি ছোট শক্তির পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত সংঘাত থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকা। কিন্তু একটি সংঘাতকেন্দ্রিক সামরিক জোটে যুক্ত হলে বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সেই সংঘাতের অংশ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।”
তার মতে, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমবাজার, অর্থনীতি ও কৌশলগত নির্ভরতা রয়েছে। ফলে দেশটির অনুরোধ উপেক্ষা করা কঠিন হতে পারে। তবে কোনও সামরিক উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আগে জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত স্বাধীনতা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
হুতি গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় বাহিনী নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযান অনেক বেশি জটিল। তাদের জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত হবে এবং পাল্টা অভিযানে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে—এসব প্রশ্ন থেকে যায়।
তিনি বলেন, “জোটে বাংলাদেশের ভূমিকা রাজনৈতিক সমর্থনে সীমিত থাকবে, নাকি নৌবাহিনী মোতায়েন, টহল, গোয়েন্দা তথ্যবিনিময় বা সামরিক অভিযানে বিস্তৃত হবে, তা স্পষ্ট করা জরুরি। এসব বিষয় পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্তটিকে নিঃশর্তভাবে ইতিবাচক বলা কঠিন।”
এই বিশ্লেষকদের মূল্যায়নে একটি বিষয়ে মিল রয়েছে। বাংলাদেশের ভূমিকার সীমা পরিষ্কার থাকতে হবে। বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ, তথ্যবিনিময়, উদ্ধার ও মানবিক কার্যক্রমে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। তবে আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে অংশ নিলে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ঝুঁকি বাড়বে।
এ কারণে জোটের সনদ, কমান্ড কাঠামো, আর্থিক দায় এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য সামরিক ভূমিকা সম্পর্কে সরকারের বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।