স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মন্ত্রী বলেছেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালকে ৬০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। আগামী বছর থেকেই ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। পাশাপাশি জেলার প্রতিটি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
আজ রবিবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে পাঁচ দিনব্যাপী বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন বিএনপির মহাসচিব। নেপালের সহযোগিতায় কর্মসূচিটির আয়োজন করে ঠাকুরগাঁও ডায়াবেটিস সমিতি।
মন্ত্রী ফখরুল উল্লেখ করেন, ঠাকুরগাঁও জেলার মানুষ যেন সহজেই বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পায়, সে লক্ষ্যেই হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মেডিকেল কলেজ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, প্রতিটি থানায় ফ্রি আই ক্যাম্প আয়োজনের চেষ্টা থাকবে। এসব কার্যক্রম কীভাবে নিয়মিত পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ অত্যন্ত উদ্যোগী ও পরিশ্রমী। যেসব মানুষ আর্থিক বা ভৌগোলিক কারণে চক্ষু বিশেষজ্ঞের সেবা থেকে বঞ্চিত হন, তাদের জন্য এ ধরনের ফ্রি আই ক্যাম্প একটি বড় সুযোগ। এতে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে চোখের পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন প্রতীক কার্কি, এনএনআইএসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. চেতরাজ প্রান্ত, নেপালের বিরাটনগর আই হাসপাতালের চেয়ারম্যান পদ্ম নারায়ণ চৌধুরী, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিনসহ জেলার চিকিৎসক, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, পাঁচ দিনব্যাপী এ চক্ষু ক্যাম্পে জেলার বিভিন্ন এলাকার অসহায় ও স্বল্প আয়ের মানুষের বিনামূল্যে চোখের পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা পরামর্শ এবং নির্বাচিত রোগীদের অস্ত্রোপচারের জন্য প্রাথমিক বাছাই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।