Image description

চট্টগ্রাম নগরীর গণপরিবহন সংকট মেটাতে ‘মনোরেল’ প্রকল্পকে অবাস্তব ও অযৌক্তিক বলে চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নতুন মহাপরিকল্পনা। চট্টগ্রাম মহানগরী মহাপরিকল্পনা (২০২৫-২০৫০)-এর অধীনে প্রস্তুত করা খসড়া ট্রাফিক অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট মাস্টারপ্ল্যানে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।

গতকাল শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে মাস্টারপ্ল্যানের খসড়াটি প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরীতে মনোরেল বা মেট্রোরেলের মতো ভারী ও ব্যয়বহুল পরিবহনব্যবস্থা পরিচালনার মতো পর্যাপ্ত যাত্রী তৈরি হবে না। নগরীর বিদ্যমান ফ্লাইওভারগুলোর কারণে উড়ালপথে (এলিভেটেড) নতুন লাইন নির্মাণ অবকাঠামোগতভাবে সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। আর মাটির নিচ দিয়ে (আন্ডারগ্রাউন্ড) নির্মাণ করতে গেলে যে বিপুল অর্থ প্রয়োজন হবে, বিনিয়োগ হিসেবে তা ফেরত আসার সম্ভাবনা নেই বলেও মাস্টারপ্ল্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।

খসড়া মাস্টারপ্ল্যানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুন ওরাসকম গ্রুপ ও আরব কন্ট্রাক্টরস গ্রুপের একটি যৌথ উদ্যোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। তবে আরব কন্ট্রাক্টরস ও ওরাসকম সিটি করপোরেশনের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তির কথা অস্বীকার করেছে।

গত ২০ জুন আগামীর সময়ে "সবাইকে বোকা বানিয়ে মনোরেলে অদ্ভুত ধোঁকাবাজি" শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যেখানে বিদেশি কোম্পানির নাম ব্যবহার করে একটি চক্রের সিটি করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি উঠে আসে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর মিসরীয় দূতাবাসের একটি ভার্বাল নোটের সূত্র ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর সিটি করপোরেশন চুক্তিটি বাতিল ঘোষণা করে। অনুসন্ধানে এই চক্রের সঙ্গে প্রতারক কাউসার আলম চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এলেও তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি চসিক।

যে কারণে মনোরেলকে অযৌক্তিক বলা হয়েছে

সিডিএর মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নকারী দল তাদের প্রতিবেদনে জানায়, বর্তমানে নগরীতে যে পরিমাণ যাত্রী যাতায়াত করেন, তা ২৫ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প পরিচালনার জন্য যথেষ্ট নয়। তাদের হিসাবে, ২০৫০ সাল নাগাদও যাত্রী চাহিদা এই মাত্রায় পৌঁছাবে না।

যাত্রী জরিপের বরাত দিয়ে মাস্টারপ্ল্যানে বলা হয়েছে, চড়া ভাড়ার মনোরেল ব্যবহারের মতো আর্থিক সামর্থ্য সাধারণ যাত্রীদের নেই। বিদ্যমান বাসভাড়ার চেয়ে বেশি দিয়ে পর্যাপ্ত যাত্রী না উঠলে বিনিয়োগ তুলে আনা সম্ভব হবে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া সিডিএ এভিনিউসহ গুরুত্বপূর্ণ করিডোরে ইতিমধ্যে ফ্লাইওভার নির্মিত হওয়ায় তার ওপর দিয়ে নতুন করে মনোরেল লাইন নেওয়ার প্রকৌশলগত সুযোগ নেই বলেও জানানো হয়েছে।

বিকল্প হিসেবে বাস সার্ভিসের প্রস্তাব

সিডিএর পরিকল্পনা দলের মতে, চট্টগ্রামের পরিবহন সংকট মেটাতে ২৫ হাজার কোটি টাকার মনোরেলের বদলে একটি সুশৃঙ্খল ও আধুনিক বাস সার্ভিসই তুলনামূলক কার্যকর সমাধান হতে পারে।

মাস্টারপ্ল্যানে বলা হয়েছে, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, পার্কিং ব্যবস্থাপনা এবং একটি সমন্বিত বাস কোম্পানির আওতায় নতুন বাস নামিয়ে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকায় পুরো চট্টগ্রাম শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মনে করছে পরিকল্পনা দল। এই অঙ্ক প্রস্তাবিত মনোরেল প্রকল্পের ব্যয়ের প্রায় আট ভাগের এক ভাগ।