Image description

ডা. মো. মোরশেদ আলম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) ছিলেন। সংযুক্ত ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেজ অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু) হাসপাতালে। আওয়ামী লীগপন্থি চিকিৎসকের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সদস্য এই চিকিৎসককে গত ২২ জুন বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত ৩০ জুলাই তার আগের আদেশ বাতিল করে রাজধানী ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পদায়ন করে।

ডা. জেরিন সিকদার। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপ-স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা বিষয়ক সম্পাদক। সহকারী সার্জন হিসেবে গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ছিলেন। সম্প্রতি, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নুরপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তাকে পদায়ন করে সংযুক্তিতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার করা হয়েছে।

এদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক এ এস এম আলী ইমাম গত ২৩ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক আদেশে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি হয়ে আসেন। একইভাবে আহসানুল হক নামের ঢামেক ছাত্রলীগের এক নেতাও সম্প্রতি ঢামেকেই পদায়ন পেয়েছেন।

তদবিরের হাট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়!নিকডু ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে ডা. মো. মোরশেদ আলম

ডা. মোরশেদ, জেরিন সিকদার, আলী ইমাম বা আহসানুল হক শুধু নন, এ রকম প্রতিনিয়ত মোটা অঙ্কের টাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বা বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতাদের ‘ম্যানেজ’ করে পদায়ন বাগিয়ে নেওয়ার খবর আসছে।

কথা ছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বদলি-পদায়ন হবে অটোমেশনে। অটোমেশন চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। নার্সদের ক্ষেত্রে পাইলট আকারে এমনটা করে সুফল পাওয়া গেছে। এরপর সর্বত্র এই পদ্ধতি চালুর সব আয়োজনও করে গেছে অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও একই সুরে কথা হচ্ছিল। কিন্তু এখন সর্বত্র অটোমেশন চালুর পরিবর্তে তদবির ও অর্থের বিনিময়ে বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এরই মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বেড়েছে বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতি প্রত্যাশীদের চাপ। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং বদলি-পদায়ন ও পদোন্নতি দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কক্ষের সামনে ভিড় বেড়েছে।

গত ২৮ জুলাই লোকজনের চাপ দেখে এক কর্মকর্তাকে জাগো নিউজের এই প্রতিবেদক জিজ্ঞেস করেন, ‘এত লোক কেন?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘তদবির বেড়ে গেছে।’

অভিযোগ আছে, সম্প্রতি পদোন্নতি ও পদায়নে অর্থ লেনদেন হচ্ছে। এমনকি রাজনৈতিক বিবেচনায়ও বদলি ও পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সরল স্বীকারোক্তি, ‘অটোমেশন প্রক্রিয়া চালু করিনি। বরং চিকিৎসকদের তুষ্ট রাখতে তাদের পছন্দমতো পদায়ন করা হচ্ছে।’

সম্প্রতি রাজধানীর এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে বদলির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ধরনা দেন এক চিকিৎসক। একাধিক দিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বলে দেওয়ার পরও কাজ হয়নি। এমনকি তার দরখাস্তেও তাদের একজনের সুপারিশ ছিল। পরে সংশ্লিষ্ট ডেস্কে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে কাজটি করিয়ে নেন তিনি। আক্ষেপ করে ওই চিকিৎসক বলেন, ‘তাহলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চালায় কে? মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, নাকি টাকা?

এলএম আতঙ্ক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে, তালিকা দেয় ড্যাব

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আওয়ামী লীগপন্থি স্বাচিপের আজীবন সদস্যদের (এলএম) নিয়ে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরই মধ্যে তাদের তালিকা করে রেখেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ভুলবশত কোনো এলএমের বদলি বা পদায়নের সুপারিশ করলেও তালিকায় নাম থাকলে তা আমলে নেওয়া যাবে না। যেমন কথা তেমনই কাজ হওয়ার কথা। কিন্তু নির্দেশনাটি যেমন অনৈতিক তেমনি কর্মচারীরাও অনৈতিক কাজই করেন। এলএমদের সুপারিশ এলে আমলে নেন না। তবে, মোটা অঙ্কের টাকা পেলে ফেরানও না।

তবে, এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে বিএনপিপন্থি ড্যাবের তালিকা ধরে বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতি হচ্ছে বলে জাগো নিউজকে জানিয়েছেন একাধিক চিকিৎসক। এমনকি কে কাকে ধরে কত টাকায় কাজ করিয়ে নিয়েছেন, এটিও ওপেন সিক্রেট। তবে লেনদেনে উভয়পক্ষের সুবিধামতো হওয়ায় কেউ মুখ খোলেন না।

চলতি সপ্তাহে ড্যাবের শীর্ষ দুই নেতার একজন একটি বড় তালিকা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের হাতে দিয়েছেন।

এ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাগো নিউজকে বলেছেন, ‘তালিকা তো দিতেই পারে। তবে, সব পদোন্নতি মেধার ভিত্তিতে হয়। আর পদায়ন চিকিৎসকদের তুষ্টির জন্য করা হচ্ছে। যারা এত বছর ঢাকায় ছিলেন, তাদের বাইরে আর যারা বাইরে ছিলেন তাদের একটু কাছাকাছি কি আনবো না?’

তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন, ‘যোগ্যতা বিচারে পদায়ন, পদোন্নতি হয় না, হয় ড্যাবের তালিকা ধরে।’

এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে কাগজ দেখিয়ে বলেছেন, ‘এটি তো তদবিরের কাগজ শুধু নয়, কোটি টাকার বান্ডেল এখানে।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে স্বাচিপের ভূত

এদিকে, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে স্বাচিপের ভূত’ দাবি করে বিবৃতি দিয়েছেন ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ। বুধবার (২৯ জুলাই) নিজের ফেসবুক পোস্টে বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘গতকাল (২৮ জুলাই) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং সহকারী ও সহযোগী পরিচালক হিসেবে অনেকগুলো পদায়ন ও পদোন্নতি দেখতে পেলাম। হঠাৎ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বিনা তদবিরে নিজ উদ্যোগে এতগুলো পদোন্নতি দেখে প্রথমে বিস্মিত হয়েছি। খোঁজখবর নিয়ে আরও বেশি বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছি এ কারণে যে, এ পদোন্নতির তালিকায় বিগত স্বৈরাচার আমলে ভিন্নমতের চিকিৎসকদের নির্যাতনকারী, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নামকরা নির্যাতনকারী এবং স্বাচিপের বেশ কয়েকজন সদস্যও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।’

‘পদোন্নতির তালিকায় ভিন্নমতের চিকিৎসকদের নির্যাতনকারী, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নামকরা নির্যাতনকারী ও স্বাচিপের কয়েকজন সদস্যও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।’ — ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ

ড্যাব সভাপতি বলেন, ‘এখানে আরও একটি ব্যাপার আমাকে বিস্মিত করেছে যে, এ পদোন্নতির কার্যক্রমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্তা-ব্যক্তির সমন্বয়ে একটি কমিটি অতিদ্রুত, কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া, কাউকে জিজ্ঞাসা করা ছাড়া এ কার্যক্রমটি সম্পন্ন করেছে। আমরা এ কার্যক্রমের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং একই সঙ্গে এই পদোন্নতি বাতিলের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। গত ১৭ বছরে যারা পদবঞ্চিত এবং অবহেলিত তাদের ব্যাপারে এরূপ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর আহ্বান জানাচ্ছি।’

চলিত দায়িত্বে পদোন্নতির হিড়িক

ড্যাবের তদবিরে বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতির বাইরেও চলতি দায়িত্বে পদোন্নতির হিড়িক পড়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শূন্যপদে তাৎক্ষণিকভাবে কাজ চালিয়ে নেওয়ার জন্য ফিডার পদের যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতা, কর্মদক্ষতা ও সন্তোষজনক চাকরির ভিত্তিতে অধ্যাপক বা পরিচালক পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়। সাধারণত ছয় মাসের জন্য এ দায়িত্ব দেওয়া হলেও এর বেশি সময় প্রয়োজন হলে পদোন্নতি কমিটির অনুমোদন নিতে হয়।

অথচ, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়েছেন, এখনো পদায়ন হয়নি, এমন চিকিৎসকরাও বছর না ঘুরতেই চলতি দায়িত্বে ওপরের পদে পদোন্নতি নিচ্ছেন। এমনকি পদোন্নতির বিভিন্ন শর্ত পূরণ না করলেও রাষ্ট্রপতির প্রমার্জনা নিয়ে সুপার নিউমারারি পদোন্নতিপ্রাপ্ত লোকেরাও আছেন এ চলতি দায়িত্বের মধ্যে। সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির পাওয়ার বছর না ঘুরতেই চলতি দায়িত্বে অধ্যাপক হয়ে যাচ্ছেন অনেকে। এ নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিযোগিতাও তৈরি হয়েছে। অনেকে এ অবস্থা দেখে নিজেও আবেদন করছেন, অন্যকে উৎসাহিত করছেন, এখন সুযোগ নিয়ে নাও। সবাই মিলে ভিড় জমাচ্ছেন মন্ত্রণালয়ে।

মন্ত্রণালয়ের করিডোরে নোয়াখালী থেকে আসা এক চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘সবাই তো তদবির করে পদায়ন নিচ্ছেন, পদোন্নতি পাচ্ছেন। তাই আমিও এসেছি। দেখি কী হয়!’

তার কথার সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে এ প্রতিবেদক এমন চলতি দায়িত্বে পদায়নের একগুচ্ছ আদেশের সন্ধান পেয়েছেন। তবে ব্যক্তি মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় এসবের কোনো তালিকা প্রকাশ করছে না জাগো নিউজ।

চিকিৎসকদের বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতিতে অটোমেশন চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা অটোমেশন চালু করিনি। এর কারণ হলো, চিকিৎসকদের সুবিধা ও সন্তুষ্টির কথা বিবেচনা করে তাদের নিজ জেলা বা নিকটবর্তী জেলায় পদায়ন করা হচ্ছে। এতে চিকিৎসকরা পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারেন এবং নিজেদের এলাকার মানুষের সেবা করার সুযোগ পান। এতে তারা সন্তুষ্টও হচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা পর্যায়ক্রমে চিকিৎসকদের নিজ জেলা বা নিকটবর্তী জেলায় বদলি করছি। আর ঢাকার মেডিকেল কলেজগুলোতে যারা কর্মরত, তাদের শিক্ষক হিসেবে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে পদায়নের ক্ষেত্রেও নিকটবর্তী জেলা বিবেচনা করা হচ্ছে। যেমন, রাজশাহীর কোনো চিকিৎসক শিক্ষক হিসেবে ভালো হলে তাকে খুলনা বা অন্য কোনো মেডিকেল কলেজে পদায়ন করা হচ্ছে। আমরা এই প্রক্রিয়াতেই এগোচ্ছি।’

এ প্রসঙ্গে ড্যাবের সভাপতি একটা বিবৃতি দিয়েছেন যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে স্বাচিপের ভূত চেপেছে। এটা আপনার চোখে পড়েছে কি না? প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেখেছি। আমার জানামতে এরকম কিছু না। আমি স্বাচিপ বা ড্যাব এগুলো বুঝি না। ডাক্তার ইজ ডাক্তার। ভালো যারা, যাদের যখন পোস্টিং করা দরকার, তাদের আমরা খুব মিনিমাম লেভেলে আগের মতো আমরা করি না। প্রয়োজন অনুযায়ী বা প্রার্থনা অনুযায়ী করতেছি।’

ড্যাবের পক্ষ থেকে বদলি ও পদায়নের তালিকা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তালিকা আমার কাছে দিতেই পারে, এতে আমি কিছু মনে করি না। অনেকেই চাইতে পারেন। তবে আমি অন্যায় করছি কি না, সেটা সাংবাদিকরা দেখবেন। আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলতে পারি, কোনো চাপের কাছে আমি কাজ করি না। অনেক তালিকা আমার কাছে আসে। দেশের স্বার্থে এবং চিকিৎসকদের সন্তুষ্টির জন্য যেটুকু করা প্রয়োজন, সেটুকুই করি।’

তিনি বলেন, ‘একজন চিকিৎসক যদি ১০ বছর ধরে ঢাকার বাইরে থাকেন এবং রাজনৈতিক কারণে তাকে ঢাকায় আনা না হয়, সেটা তো ন্যায়সংগত নয়। তাকে একটু কাছাকাছি আনা কিংবা যারা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় আছেন, তাদের কিছুটা বাইরে পাঠানো—এসব বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। আমরা বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে অনেকগুলো মানদণ্ড মেনে চলার চেষ্টা করছি।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতিতে তদবিরের চাপ বেড়েছে কি না- এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘তদবির অনেক কমে গেছে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে আমরা কমিটি করে দিয়েছি। শতভাগ মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। কোনো চিকিৎসক বলতে পারবেন না যে পক্ষপাতিত্ব করে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। পদোন্নতির সংখ্যাও খুবই কম।’

চিকিৎসকদের বদলি-পদায়নে অটোমেশন চালু করা হয়নি। চিকিৎসকদের সুবিধা ও সন্তুষ্টির কথা বিবেচনা করে তাদের নিজ জেলা বা নিকটবর্তী জেলায় পদায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া পদোন্নতি হচ্ছে শতভাগ মেধার ভিত্তিতে এবং আমি চাপের মুখে কোনো কাজ করি না।— স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

তিনি বলেন, ‘সুপারনিউমারারি পদে কিছু পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। এজন্য একটি স্বাধীন কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। আমি কখনো কাউকে এ বিষয়ে বলিনি বা জিজ্ঞাসাও করিনি। এখন পর্যন্ত যদি ১০০টি বদলি হয়ে থাকে, এর ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশই অন্যরা করেছে। আমি ৫ শতাংশও করি না। মেধার ভিত্তিতে যেসব প্রস্তাব আসে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিই। কোনো অন্যায় না করার চেষ্টা করি এবং চাপের মুখে কোনো কাজ করি না। যেসব বদলির বিষয়ে আমার সন্দেহ হয় বা মনে হয় কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, সেগুলো আমি বন্ধ করে দিই।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি তো মানুষ। অনেক ক্ষমতাবান মানুষের মধ্যে আমাকে কাজ করতে হচ্ছে। এর মধ্যেও ইনশাআল্লাহ ভালো করার চেষ্টা করছি। এর মধ্যে দু-একটি ভুল হয়ে যেতেও পারে। এজন্য আমি দুঃখিত থাকবো।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বে নিয়োজিত এক শীর্ষ কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা অটোমেশন করেছি ঘুস বাণিজ্য বন্ধ করতে, মেধার ভিত্তিতে পদায়ন করতে। যার রেজাল্ট ও পারফরম্যান্স যত ভালো, সে তত কাছে বা প্রত্যাশিত পদায়ন পাবে।’

তিনি বলেন, ‘অটোমেশনে আমাদের তেমন খরচ হয়নি। আমাদের সরকারের নিজস্ব জনবল দিয়েই আমরা কাজটা করেছি। তারাই সব করেছে। এখানে অতিরিক্ত কোনো ব্যয় করার প্রয়োজন হয়নি।’

অটোমেশন বনাম বর্তমান পদ্ধতি

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বদলি-পদায়নে অটোমেশন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ ব্যবস্থার লক্ষ্য ছিল তদবির ও ঘুসের সুযোগ কমিয়ে মেধা, যোগ্যতা, চাকরির রেকর্ড ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে চিকিৎসকদের পদায়ন করা।

সংশ্লিষ্ট এক শীর্ষ কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, যার ফলাফল ও কর্মদক্ষতা যত ভালো, অটোমেশন ব্যবস্থায় তার পছন্দের বা প্রত্যাশিত স্থানে পদায়নের সুযোগ তত বেশি থাকার কথা। পুরো প্রক্রিয়াটি সরকারি নিজস্ব জনবল দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল, ফলে অতিরিক্ত ব্যয়েরও প্রয়োজন হয়নি।

বর্তমান পদ্ধতি

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে অটোমেশন চালু করা হয়নি। চিকিৎসকদের নিজ জেলা বা নিকটবর্তী জেলায় পদায়ন এবং দীর্ঘদিন ঢাকার বাইরে থাকা চিকিৎসকদের কাছাকাছি আনার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঢাকার মেডিকেল কলেজে কর্মরত চিকিৎসকদেরও শিক্ষক হিসেবে পদায়নের ক্ষেত্রে নিকটবর্তী জেলা বিবেচনা করা হচ্ছে। মন্ত্রীর দাবি, বদলি-পদায়নে প্রয়োজন, চিকিৎসকদের সন্তুষ্টি ও একাধিক মানদণ্ড বিবেচনা করা হচ্ছে এবং পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে মেধার ভিত্তিতে।