Image description

জামালপুরে কুকুরের গলায় দড়ি বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৩ জুলাই মেলান্দহের মাহমুদপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের এ ঘটনা সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অভিযুক্ত রাজু সরকারকে আটক করা হয়। এবং ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রাণী অধিকারকর্মীরা।

স্থানীয়রা জানান, রাজু সরকারের একটি ছাগলকে কুকুরটি কামড় দেওয়ার অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটায়। তবে কুকুরের কামড়ে ছাগলটি মারা যায়নি বলেও জানান তারা।

অভিযুক্তের ছেলের স্ত্রী সানজানা আক্তার বললেন, ‘কাজটা ভুল হয়ে গেছে। আগেও ছাগল মেরেছে, আজকে ছাগল মারলো, কালকে মুরগি খাচ্ছে। আবার মানুষেরও কামড় দিতে পারে। তাই রাগের মাথায় এমনটা হয়েছে।’

জেলা যুবদলের সদস্যসচিব সোহেল রানা বলেছেন, ‘মেলান্দহ উপজেলায় একজন ব্যক্তি কুকুরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমরা সরাসরি সেখানে গিয়ে তাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি এবং পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছি। আমরা আশা করি এ ধরনের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডে কেউ জড়াবে না। মানুষ যেমন ভালোবাসার দাবিদার, তেমনি অবলা প্রাণীর প্রতিও মানবিক আচরণ করা উচিত।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরা বললেন, ‘মাহমুদপুর ইউনিয়নের একজন ব্যক্তি একটি প্রাণী হত্যা করেছে বলে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আমরা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করি। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে অভিযুক্তকে খুঁজে বের করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি তার অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।’

 

তিনি আরও বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না এই মর্মে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে তার কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। প্রাণী সংরক্ষণ ও প্রাণী কল্যাণ বিষয়েও তাকে অবহিত করা হয়েছে।’

তবে প্রাণী অধিকারকর্মীদের বক্তব্য, প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯ অনুযায়ী পশুর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ ও নির্যাতনের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। প্রকাশ্যে একটি প্রাণীকে গাছে ঝুলিয়ে হত্যার ঘটনায় শুধু মুচলেকা নিয়ে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।