ক্যান্সার শনাক্তকরণ গবেষণায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি পেয়েছেন চাঁদপুরের গবেষক ড. আবু আলী সিনা। অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞান খাতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ গবেষণা অনুদান ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (এনএইচএমআরসি) ইনভেস্টিগেটর গ্র্যান্ট (ইমার্জিং লিডারশিপ লেভেল-২) অর্জন করেছেন তিনি।
এই অনুদানটি প্রায় ১৬ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় ১৪ কোটির বেশি টাকার। এই অর্থ ব্যয় করা হবে ড. সিনার নেতৃত্বাধীন সিনা ল্যাবে ক্যান্সার শনাক্তকরণবিষয়ক গবেষণায়। সম্প্রতি এনএইচএমআরসি প্রকাশ করেছে চলতি বছরের অনুদানপ্রাপ্ত গবেষকদের তালিকা।
এনএইচএমআরসি গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার সুস্পষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতে এই অনুদান প্রদান করে। অস্ট্রেলিয়ায় স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ অর্থায়ন হিসেবে বিবেচিত।
সিনা ল্যাব জানিয়েছে, নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে রক্তভিত্তিক নতুন প্রজন্মের বায়োমার্কার শনাক্তকরণ, ন্যানোপ্রযুক্তিনির্ভর ডায়াগনস্টিক প্ল্যাটফর্ম উন্নয়ন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্তের প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষণা পরিচালিত হবে। লক্ষ্য হলো এমন প্রযুক্তি তৈরি করা, যার মাধ্যমে ক্যান্সার আরও দ্রুত, নির্ভুল ও সহজভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
সিনা ল্যাব আরও জানায়, এই অর্থায়ন গবেষণার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন শিক্ষার্থী ও গবেষকদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় অংশ নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে গবেষণার ফল পরীক্ষাগার থেকে বাস্তব চিকিৎসা প্রযুক্তিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়াও আরও গতিশীল হবে।
অনুদান পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ড. আবু আলী সিনা জানান, এই অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত নয়। তার শিক্ষার্থী, সহকর্মী, গবেষণা-সহযোগী, মেন্টর এবং পরিবারের দীর্ঘদিনের সমর্থন ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল এটি। তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
এক বিবৃতিতে সিনা ল্যাব কর্তৃপক্ষ জানায়, এই সাফল্য গবেষণাগারের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, গবেষণা-সহযোগী, মেন্টর এবং শুভানুধ্যায়ীদের দীর্ঘদিনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। একই সঙ্গে ল্যাবের সাবেক পিএইচডি গবেষক ড. তানভীর আহমেদের গবেষণাকে এই প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে উল্লেখ করে তাকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
ড. আবু আলী সিনার বাড়ি চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট এলাকায়। তার বাবা শহীদুল্লা মাস্টার ও মা সুরাইয়া বেগম। বর্তমানে তিনি স্ত্রী সাবিহা সুলতানা এবং ছেলে জাবির ইবনে হাইয়্যানকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে বসবাস করছেন।
গবেষণাগার সূত্রে জানা যায়, এই অর্থায়নের মাধ্যমে ক্যান্সার শনাক্তকরণ প্রযুক্তিকে আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করার গবেষণা এগিয়ে যাবে। এর ফলে ভবিষ্যতে রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করার সুযোগ বাড়বে, যা রোগীদের চিকিৎসার ফলাফল উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আন্তর্জাতিক গবেষণায় ড. আবু আলী সিনার এই সাফল্য বাংলাদেশের গবেষকদের সক্ষমতাকে বিশ্বদরবারে আরও উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরেছে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তিনি একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে শিক্ষা ছুটিতে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস (ইউএনএসডব্লিউ), সিডনিতে সিনা ল্যাবের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।