এক-এগারো হিসেবে পরিচিত ২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রাজনীতিকে উন্মোচন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে গবেষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও শিক্ষক ড. মোবাশ্বের হাসানের ‘ন্যারেটিভস অব অথরিটারিয়ানিজম’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এক-এগারোকে উন্মোচন করতে হবে। এটার উদ্দেশ্য কী ছিল? কেন বি-রাজনীতিকরণ?
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী শাসনের শুরুটা এক-এগারো থেকেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে নিশ্চিহ্ন করার কাজ এক-এগারো থেকে শুরু হয়েছে। ওই তাঁবেদারি ব্যবস্থা অর্থাৎ বি-রাজনীতিকরণ ব্যবস্থার ফলই হচ্ছে গত ১৭ বছর। এটা আসলে কী? এটা কি মুসোলিনির ফ্যাসিজমের চেয়ে খারাপ ছিল? জাতির মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র যার লক্ষ্য, সেই রিজিমটা কী?’
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের বোঝা উচিত, এক-এগারো এবং পরবর্তী যে শাসন ব্যবস্থা তাতে শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ডকে একেবারে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বলে কিছু নেই। অর্থনীতির কী অবস্থা তা তো আপনারা জানেন। আপনার ন্যায্য মজুরি নেই; শ্রমের অধিকার নেই। এটাকে তো আমাদের ডিফাইন করতে হবে।’
রাষ্ট্র গঠনের বড় সমস্যা ফরমায়েশি বুদ্ধিজীবী জানিয়ে উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, ‘আপনারা যদি খেয়াল করেন দেখবেন, রাষ্ট্রের ফরমায়েশি বুদ্ধিজীবীরা কীভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্ব করে। এই প্রশ্নের যতদিন মীমাংসা না হবে, ততদিন পর্যন্ত রাষ্ট্র গঠনের সংগ্রাম অব্যাহত রাখাটাই সবচেয়ে জরুরি। কারণ, তথ্য যখন বিকৃত করা হয় তখন তাত্ত্বিকতা আরও বেশি বিকৃত হয়।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, ‘আমরা অনেক সীমাবদ্ধতার কথা বলি। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এমন বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। আমরা যেমন প্রত্যাশা করেছিলাম হয়তো সব কিছু হয়নি। কিন্তু এর মানে এটা নয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের তুলনা দিয়ে আগের ফ্যাসিস্ট সরকারকে বাংলাদেশে জাস্টিফাই করব। সেই একটা ধারা। এর বিরুদ্ধে আমাদেরকে সোচ্চার হতে হবে।’
সাবেক রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা যে গণতন্ত্র এবং মুক্ত মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছি, তা যেন বজায় থাকে। আমরা আজ স্বাধীনতা উপভোগ করছি, কিন্তু এর অপব্যবহার যেন না হয়। পরিবারে আমরা যে ভাষা ব্যবহার করি না, সেই ভাষা যেন রাজনীতিতে না আসে। বড়দের সম্মান এবং ছোটদের স্নেহ করার যে সংস্কৃতি আমাদের আছে, তা যেন বজায় থাকে।’
লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন বলেন, ‘যেই সোসাইটি তার পেইনফুল হিস্ট্রিকে মনে রাখে না বা একনলেজ করে না, সেই সোসাইটিতে আসলে ওই ঘটনার রিপিটেশন হয়। এই যে গুম বা খুন বা আমাদের কথা বলতে না পারা, এগুলোকে যদি আমরা একনলেজ না করি, রিস্ক হচ্ছে সামনের দিনগুলোতে এগুলো আবার রিপিটেশন হবে। সেই জায়গা থেকে এই বইয়ের একটা বড় গুরুত্ব আছে।’
গ্রন্থিকের প্রকাশক রাজ্জাক রুবেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লেখক ও শিক্ষক আসিফ বিন আলী, অর্থনীতিবিদ জ্যোতি রহমান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক শাহেদ আলম প্রমুখ।