Image description

ফরিদপুর জেনারেল (সদর) হাসপাতালে এক গৃহবধূকে মারধর এবং জোর করে তার নবজাতক ছেলেসন্তানকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে।

 

খবর পেয়ে ৯৯৯-এর মাধ্যমে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছালে অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

 

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে হাসপাতালের গাইনি ও লেবার ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

 

ভুক্তভোগী নুসরাত আক্তার (২০) ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের মৃগী তেতুলতলা গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি তার নবজাতক ছেলেসন্তানসহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

নুসরাতের পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দেড় বছর আগে উলুকান্দা গ্রামের প্রবাসী সিয়াম মৃধার সঙ্গে নুসরাতের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। গর্ভধারণের পরও সেই নির্যাতন বন্ধ হয়নি। প্রায় ১০ মাস আগে স্বামী সৌদি আরব চলে যাওয়ার পর শাশুড়িসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা তার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করেন। দুই মাস আগে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তারা।

 

পরিবার আরও জানায়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রসববেদনা শুরু হলে নুসরাতকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে নুসরাতের শাশুড়ি আছিয়া বেগমের নেতৃত্বে কয়েকজন হাসপাতালে এসে নবজাতককে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে নুসরাতকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ সময় তার মা মর্জিনা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

 

মর্জিনা বেগম জানান, যৌতুকের দাবি পূরণ না হওয়ায় বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে নির্যাতন করেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তিনি আরও দাবি করে বলেন, সৌদি আরবে থাকা তার ছেলেকেও মেয়েজামাই সিয়াম মৃধা আটকে রেখে নির্যাতন করছেন এবং কোনো কাজ বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিচ্ছেন না।

 

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।