রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মীদেরকে মারধর করে পুলিশে দেওয়ার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জিএস সালাহউদ্দীন আম্মারসহ রাকসু অন্য নেতাদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এসময় হাতে একটি বেলচা নিয়ে আম্মারকে চড়াও হতে দেখা যায়। যা নিয়ে ক্যাম্পাস ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়।
এরই মধ্যে টাইমস অব বাংলাদেশ নামে এক ইংরেজি পত্রিকা আম্মারের কাঁধে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ঝুলিয়ে কার্টুনসহ ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বেপরোয়া আম্মারের রাজত্ব’ শীর্ষক প্রতিবেদন ছেপেছে। তার হাতে বেলচা থাকলেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে এমন কার্টুন আঁকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডিজিটাল অনুসন্ধানী মিডিয়া দ্য ডিসেন্টের সম্পাদক কদরুদ্দিন শিশির।
তার প্রশ্ন, “রিয়েল ঘটনায় কি ওর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল? নাকি এটাও ‘কার্টুনিস্টের স্বাধীনতা’?”
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে কদরুদ্দিন শিশির লেখেন, “মিডিয়াতে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখলাম, আম্মারের হাতে গতকাল বেলচা ছিল। কিন্তু টাইমস অব বাংলাদেশ এর এই ক্যারিকেচারে বেলচার পাশাপাশি তার কাঁধে আগ্নেয়াস্ত্র ঝুলানো দেখাচ্ছে। রিয়াল ঘটনায় কি ওর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল? নাকি এটাও ‘কার্টুনিস্ট এর স্বাধীনতা’? এভাবে ‘ইতিহাস’ তৈরি করছে মিডিয়া?”
টাইমস অব বাংলাদেশ পত্রিকার সেই কার্টুন সংবলিত রিপোর্টে ‘বেলচা’ নিয়ে যা উল্লেখ করা হয়:
বেলচা হাতে তাণ্ডব: “অতিসম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আম্মারকে এক শিক্ষার্থীর দিকে বেলচা হাতে তেড়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় তিনি ওই শিক্ষার্থীকে ‘মাটিতে পুঁতে ফেলার’ হুমকি দেন।”
“ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, তিনি লাঠিসোঁটা নিয়ে লাইব্রেরির পাঠকক্ষে ঢুকে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটাচ্ছেন। পরে জানা যায়, একটি প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে প্রক্টর দপ্তরে মীমাংসার বৈঠক চলছিল। সেখানে মো. আনাস নামের এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ আখ্যা দিয়ে প্রক্টরের সামনেই চড়-থাপ্পড় মারেন আম্মার ও রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির। আনাসের মুঠোফোনে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার ছবি দেখে তার ওপর এই হামলা চালানো হয়।”
“পরবর্তীতে আনাস ও তার সঙ্গীরা লাইব্রেরির পাঠকক্ষে আশ্রয় নিলে আম্মার এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা রড, বাঁশ ও বেল্ট নিয়ে সেখানে চড়াও হন। হামলায় গুরুতর আহত হন আনাস, মাহমুদুল ও হাসিব নামের তিন শিক্ষার্থী। এমনকি তাদের রক্ষা করতে আসা সাধারণ শিক্ষার্থীরাও মারধরের শিকার হন। আহত মাহমুদুলকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও তাকে টানাটানি ও লাথি মারে হামলাকারীরা।”
“আইন হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়ে আম্মারের স্পষ্ট জবাব, ‘আমরা মার খাইনি, মার দিয়েছি। প্রশাসনের ওপর ভরসা রেখে লাভ নেই।’”
“বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবশ্য ঘটনাটিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেছে। সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীম জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রসঙ্গত, গতকাল (২৭ জুলাই) প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় রাবির এক নারী শিক্ষার্থীকে ছুরি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অস্ত্রের হুমকি এবং মানসিক হয়রানির অভিযোগ উঠে ছাত্রদল কর্মী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল দপ্তরে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে প্রক্টর কর্তৃক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকলে অভিযুক্তের পক্ষ হয়ে সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী এবং বর্তমান ছাত্রদলকর্মী আনাস অশোভন আচরণ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাকসু জিএস সালাহউদ্দীন আম্মার এবং আনাসের মধ্যে হাতাহাতি হয়। সেসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করে