Image description

ইরানে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রতিবাদে অনশন ধর্মঘট শুরু করেছেন দেশটির সবচেয়ে বড় কারাগারের বন্দিরা। রাজধানী তেহরানের কাছে অবস্থিত ঘেজেল হিসার কারাগারের অন্তত ১ হাজার ৫০০ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি এই গণঅনশনে অংশ নিয়েছেন। এমনকি প্রতিবাদস্বরূপ নিজেদের ঠোঁট সেলাই করে নেওয়ার মতো মর্মান্তিক পদক্ষেপও নিয়েছেন অনেক বন্দি।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর শেয়ার করা একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, বন্দিরা কারাগারের করিডোরে বসে ‘মৃত্যুদণ্ডকে না বলুন’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে নিজেদের দাবির পক্ষে সমর্থন চাচ্ছেন। ছয় দিন পার হলেও কারা কর্তৃপক্ষের সাড়া না পেয়ে এক বন্দি সুচ-সুতা দিয়ে তার ঠোঁট জোড়া লাগিয়ে সেলাই করার মর্মান্তিক দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করেন। তীব্র অসুস্থতায় আক্রান্ত বন্দিদের চিকিৎসার জন্য কারারক্ষীরা রুমের দরজাও খুলছে না বলে ভিডিওতে অভিযোগ করা হয়।

২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মৃত্যুদণ্ডবিরোধী এই ক্যাম্পেইনে যুক্ত বন্দিরা জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে এবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণে অনশন বেছে নিয়েছেন।

 

তেহরানের এক সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কিংবা উত্তপ্ত পরিস্থিতি কিছুটা কমলেই সরকারের নিষ্ঠুরতা আরও বেড়ে যায় এবং ফাঁসির হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পায়। ঘেজেল হিসার কারাগারের বাইরে বন্দিদের স্বজনেরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ শুরু করলে কারা কর্তৃপক্ষ তাদের ওপরও সহিংস দমনপীড়ন চালিয়েছে।

অসলোভিত্তিক সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস-এর তথ্যমতে, চলতি বছরে ইতোমধ্যে অন্তত ৪২৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে এবং আরও শত শত বন্দি মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। গত বছরও অন্তত ৭৯৫ জনের মৃত্যুদণ্ড মাদকসংক্রান্ত মামলায় কার্যকর করা হয়েছিল।

 

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও মানবাধিকার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ইরানে আসামি পক্ষকে আইনজীবীর সুযোগ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার না দিয়েই নির্যাতনমূলক স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে এই রায়গুলো দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান