Image description

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা, বড় অবকাঠামো প্রকল্প এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কেও পরিবর্তন আসবে— এমন প্রত্যাশা ছিল অনেকের। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পরও অতীতে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও ঠিকাদারি নেটওয়ার্ক এখনো বিভিন্নভাবে সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, দরদাতা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের একাধিক ব্যক্তির দাবি, প্রকাশ্যে না থাকলেও দেশের বাইরে অবস্থান করে কিছু ব্যক্তি তাদের ঘনিষ্ঠ প্রতিনিধি বা অংশীদারদের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাদের অধিকাংশ ব্যবসা-বাণিজ্য এখনো চালু আছে। পরিবর্তন হয়েছে শুধু পরিচালনাকারী।

অভিযোগে আরো উঠে আসে, আওয়ামী ঘনিষ্ঠদের পরিচালনাধীন রাজধানী ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের প্রধান প্রধান ব্যবসায়িক খাত যেমনÑশিপিং, কনস্ট্রাকশন, খাদ্য আমদানি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, জ্বালানি খাত বর্তমানে পরিচালনা করছেন বিএনপি নেতারা। ব্যাংক খাতের একাধিক সূত্রমতে, হুন্ডি ও অফশোর চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাচার চলছে, যার বড় অংশ যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের ব্যাংকিং রুটে। আর অবৈধ চ্যানেলে পাঠানো এসব অর্থ যাচ্ছে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে।

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্য দলটির সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িতরাই করেছিলেন। ওই সময় প্রায় ৭০ শতাংশ মেগা প্রকল্প আওয়ামী ঘরানার ব্যবসায়ীরা পেয়েছিলেন। সরকারি টেন্ডার, প্রকিউরমেন্ট, বড় প্রকল্পের বরাদ্দ এবং আমদানি লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় তাদের দলীয় প্রভাব ছিল সুস্পষ্ট। অভিযোগ আছে, আওয়ামী লীগ নেতাদের এসব প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা রক্ষা ও বিনা বিনিয়োগে ব্যবসা করার সুযোগ নিয়ে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা সেসব ব্যবসা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তার লভ্যাংশের নির্দিষ্ট অংশ ওইসব পলাতক ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দিচ্ছেন।

অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান সরকারের সময়ে তারা এখনো প্রকাশ্যে না এসে বিদেশে বসে আবার অন্য কারো সহায়তায় টেন্ডারবাজি করে বাগিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। এক সময় তারা আগের দাপটে একক আধিপত্য নিয়ে প্রশাসনিক কাজ হাতিয়ে নিতেন। এখনো তারা একটি নিজস্ব বলয় তৈরি করেছেন।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, অ্যালায়েন্স পাওয়ার নামের প্রোপ্রাইটরশিপ প্রতিষ্ঠানের ফাউন্ডার গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানীর এসএম আল ইমরান হোসেন। তিনি একাধারে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি)-এর তড়িৎ কৌশল বিভাগের সম্পাদক।

অভিযোগ আছে, বর্তমানে আল ইমরান যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। এছাড়া এখনো তার কাছের লোক দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন টেন্ডার বাণিজ্য। শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত আল ইমরান দেশের বিদ্যুৎ খাতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসা ও একচেটিয়া দরপত্র (টেন্ডার) নিয়ন্ত্রণ করছেন। এছাড়াও তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডেসকোর পাশাপাশি গণপূর্ত অধিদপ্তর, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটি, বাংলাদেশ জাদুঘর, মৎস্য অধিদপ্তর, পুলিশ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সঙ্গেও কাজ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ সচিবালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, এখনো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি; স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্থানীয় সরকারসহ সরকারের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ উইংয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ব্যবসায়ীরা ‘বিশেষ’ সহায়তায় টেন্ডারকাজ করে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অ্যালায়েন্স পাওয়ার নামের কোম্পানিকে কালোতালিকাভুক্ত করার জন্য চিঠি দিয়েছেন কয়েকজন দরদাতা। চিঠির আবেদনে বলা হয়েছে, ডেসকো কর্তৃক ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল অ্যাক্সেসরিজ সরবরাহের কার্যাদেশ বাতিল এবং ওই প্রতিষ্ঠানকে কালোতালিকাভুক্ত করা হোক।

দরদাতাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে চলতি মাসের ২ তারিখে বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখা থেকে চিঠির অভিযোগের বিষয়ে বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসিকে (ডেসকো) জানানো হয়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে দেওয়া দরদাতাদের চিঠির অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিগত সময়ে ডেসকোর ক্রয় কার্যক্রম, বিশেষ করে আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল অ্যাক্সেসরিজ কেনার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। যেখানে তারা একাধিকবার দরপত্র বাতিল এবং নির্দিষ্ট দরদাতাকে কার্যসম্পাদনের আদেশ প্রদান করে।

এছাড়াও ওই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশেষ সুবিধা প্রদান, কারিগরি সহযোগিতার মাধ্যমে একক দরদাতা পদ্ধতি গ্রহণ এবং প্রাক্কলিত মূল্যের শতকরা আট শতাংশের উপরের মূল্যে দরদাতা নির্ধারণে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রভাবের মাধ্যমে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইঞ্জিনিয়ার এস এম আল-ইমরান প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডেসকোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কোটি কোটি টাকার আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল অ্যাক্সেসরিজ কেনাকাটায় দুর্নীতির শীর্ষে বলে তারা অভিযোগ দেন।

ডেসকোর নিয়মিত কজন দরদাতা অভিযোগ করে বলেন, আমরা টেন্ডার ড্রপ করলেও কখনো কাজ পাইনি। ডেসকোর নিয়মিত কাজ অ্যালায়েন্স পাওয়ারই পায়।

তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের সময় ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১১ কেভি ও ৩৩ কেভি আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল অ্যাক্সেসরিজের যেসব টেন্ডার আহ্বান করা হয়, সেসব দরপত্র একক গ্রহণযোগ্যতার দরদাতা নির্ধারণ করা হয়। যদিও সব দরপত্রে অধিকসংখ্যক দরদাতা অংশগ্রহণ করেন। দরপত্রগুলো বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, দরপত্রে যে শর্তগুলো আরোপ করা হয়, এর মধ্যে টাইপ টেস্ট রিপোর্ট বিভিন্ন সময় দরপত্র প্রকাশের পর পরিবর্তন করা হয়।

২০২৫ সালে যে দরপত্র আহ্বান করা হয়, সেখানে ওই বিশেষ কোম্পানিটি অংশগ্রহণ না করায় দরপত্রটি বাতিল করা হয়। পুনরায় ২০২৬ সালে যে দরপত্র আহ্বান করা হয়, সেখানেও একইভাবে টেন্ডারের কিছুদিন আগে ওই শর্তারোপের মাধ্যমে দরপত্রটির কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। এভাবে ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালে অনুরূপভাবে একই কোম্পানি, অর্থাৎ অ্যালায়েন্স পাওয়ারকেই কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখা সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই ডেসকোর আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল অ্যাক্সেসরিজ কেনার দরপত্রের বিষয় নিয়ে অ্যালায়েন্স পাওয়ারের অভিযোগের ভিত্তিতে বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক জরুরি ভিত্তিতে অবহিত করার জন্য ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ে ডেসকো তাদের চিঠি পাঠিয়ে জবাব দেয়। এতে তারা বলেছে, আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল অ্যাক্সেসরিজ কেনার দরপত্রে মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে অ্যালায়েন্স পাওয়ার সব শর্ত পূর্ণ করে।

অ্যালায়েন্স পাওয়ারের ওয়েবসাইট ভিজিট করে সেখানে দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে কেউ ফোন ধরেননি। এছাড়াও সেখানে দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী কোনো অফিস বা ভবনের অবকাঠামো পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে বেশ কজন ব্যবসায়ী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, শুধু ক্ষমতার জোরে আর সাবেক পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার এলাকার ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় তিনি (আল-ইমরান) বারবার টেন্ডারে ডেসকোর কাজ পান। তারা অভিযোগ করে বলেন, তার নেই কোনো অফিস, বিদেশে পালিয়ে আছেন। অ্যালায়েন্স পাওয়ারের নেই কোনো পরিচালনাকারীও। ডেসকো টেন্ডারে কোনো অদৃশ্য শক্তির বলে বর্তমান সরকারের আমলেও তারা কাজ পেয়ে যাচ্ছে। আর আমাদের সবকিছু থাকার পরও ডেসকোর শর্তের বেড়াজালে বারবার দরপত্র থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছি।

অ্যালায়েন্স পাওয়ারের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার এসএম আল-ইমরানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে কল ধরে তিনি সাংবাদিক পরিচয় শোনার পর কথা বলতে রাজি হননি। পরে তাকে বলা হয়, আপনার কোম্পানির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেওয়া হয়েছেÑএ ব্যাপারে আপনি কিছু জানেন কী এবং আপনার অফিসের ঠিকানা কোথায়। কিন্তু এসব বিষয় তিনি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাকে (এ প্রতিবেদক) চিনি না, আপনার সঙ্গে কথা বলব না’ বলে ফোন কেটে দেন।

বিষয়টি নিয়ে ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহমেদকে মোবাইলে কল করলে তিনি কল ধরেননি। মেসেজ পাঠালেও এ বিষয়ে কোনো উত্তর দেননি।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) সবুর হোসেন আমার দেশকে বলেন, কয়েকজন দরদাতা অ্যালায়েন্স পাওয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে একে কালোতালিকাভুক্ত করার আবেদন করেন। আমরা বিষয়টি জানার জন্য ডেসকোকে চিঠি দিয়েছি। তারা জানিয়েছে, অ্যালায়েন্স পাওয়ার ইজিপি টেন্ডারে সব শর্ত ফুলফিল করেছে; এজন্য ওই কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হবে। তবে একই প্রতিষ্ঠান কেন বারবার কাজ পাচ্ছেÑএমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ডেসকোর, তাদের জিজ্ঞাসা করুন’ বলে এড়িয়ে যান।

সবুর হোসেন বলেন, আমাদের কাজ হচ্ছে মন্ত্রণালয়ের পলিসি লেভেল দেখা, নীতিমালা প্রণয়ন করা। তবে এমন অবস্থায় আছি যে, মাইক্রো লেভেলে কাজও আমাদের দেখতে হয়। তিনি বলেন, ডেসকো চিঠির জবাব দেওয়ার পর বর্তমানে বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পতিত কর্তৃত্বপরায়ণ চোরতন্ত্রের আমলে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী ব‍্যবসাপ্রতিষ্ঠানের হাতে সরকারি ক্রয় খাতের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এ পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে ডেসকোর প্রতি যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ ও উত্থাপিত অভিযোগ নিরসনে সরকারের সদিচ্ছার পরিচায়ক। তিনি বলেন, অভিযোগের মূল বিষয় যেহেতু ক্রয় প্রক্রিয়ায় সুকৌশল ও যোগসাজশের দুর্নীতি, সে কারণে এ অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত প্রতিকার ডেসকোর কাছে প্রত্যাশা করাই অনুচিত।

তিনি বলেন, ন‍্যূনতম গ্রহণযোগ্যতার স্বার্থে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত করা অপরিহার্য। এক্ষেত্রে আইএমইডি, দুদক এবং ওসিএজি প্রতিনিধিসহ ক্রয় ও সংশ্লিষ্ট খাতে নিরপেক্ষ কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া উচিত। যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষ তদন্তে ক্রয়নীতির লঙ্ঘন প্রমাণিত হলে সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে ক্রয় বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত প্রতিযোগিতা, একই প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক আধিপত্য এবং দরপত্রের শর্ত নিয়ে বিতর্কের অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রতিটি অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের দায় নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

তাদের মতে, ই-জিপি চালুর পর অনেক ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বেড়েছে। কিন্তু বড় ও বিশেষায়িত প্রকল্পে কারিগরি যোগ্যতার শর্ত, পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের কারণে অনেক সময় প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে যায়। সে সুযোগে অনিয়মের অভিযোগও তৈরি হয়।