Image description

প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারে অতিরিক্ত চার্জ প্রত্যাহারের ঘোষণা এলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। এখনো প্রতি মাসে মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাট গুনতে হচ্ছে গ্রাহকদের। বিদ্যুতের দাম বাড়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত চার্জ বহাল থাকায় বাড়ছে অসন্তোষ। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

রাজধানীর পশ্চিম আগারগাঁওয়ের বাসিন্দা আবদুর রহমান প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করেছিলেন ১ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য পেলেন ১২৬৯ টাকা। বাকি ২৩১ টাকাই কেটে নেয়া হয়েছে ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়ায়।

 
তিনি বলেন, ‘একেতো বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, চার্জ সব উঠিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু সেটা করা হয়নি। অর্থাৎ, বিদ্যুতের দাম বাড়ল কিন্তু চার্জ আগে যা ছিল, তা-ই আছে। এটা তো আমাদের জন্য একটা বাড়তি চাপ।’
 
যদিও গত ২৫ মে সরকারের শততম দিন পূর্তির সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, প্রত্যাহার করা হয়েছে প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ।
 
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছিলেন, ‘জনদুর্ভোগ লাঘব করার জন্য প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।’
 
তবে, সরকারি ঘোষণা কোথায় কার্যকর হয়েছে, তা জানেন না গ্রাহকরা। বরং জুন থেকে গুণতে হচ্ছে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল। সেইসঙ্গে প্রতি মাসে কেটে নেয়া হচ্ছে ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ আর মিটার ভাড়া।
 
বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার নিয়ে শুরু থেকেই ছিল নানা প্রশ্ন। এখন এই প্রিপেইড মিটার চার্জ নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অবস্থান জানানো হচ্ছে এক রকম, আর বাস্তব চিত্র এর বিপরীত। এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই ধোঁয়াশায় গ্রাহকরা।
 
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত চার্জের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে শিগগিরই।
 
বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ বলেন, 

 

গ্রাহকের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। এ বিষয়ে শিগগিরই আমাদের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হবে।

 

প্রিপেইড মিটার নিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের এই লুকোচুরি খেলাকে প্রতারণা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
 
কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, ‘সরকারের আদেশ প্রতিপালন না হওয়াটা প্রশাসনের বড় বিপর্যয়। সেইসঙ্গে এটা সুশাসন সংকটের ভয়াবহ আলামত। সুতরাং, এটাকে কোনোভাবেই খাটো করে দেখা যায় না।’  
 
দেশে বর্তমানে ৫ কোটির বেশি গ্রাহকের মধ্যে প্রিপেইড মিটারের আওতায় এসেছেন ৮৭ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক।