Image description

ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা হতাহতের প্রকৃত তথ্য গোপন করা হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পেন্টাগন ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক পন্থায়’ তথ্য লুকানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সিআইএর সাবেক পরিচালক লিও পানেটা। গত আড়াই মাস যাবৎ মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর কোনো ধরনের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং করেনি। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ধাক্কা সামলাতে এই লুকোচুরি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইরানের হামলায় মার্কিন ঘাঁটিতে ঠিক কত সেনা আহত হয়েছেন, সেই হিসাব প্রকাশ না করায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তথ্য সচেতনভাবে আড়াল করা হচ্ছে। যুদ্ধের দায় এড়িয়ে যাওয়ার এটি একটি অত্যন্ত লজ্জাজনক কৌশল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ ও হতাহতের চিত্র

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলতি মাসের শুরুতেই ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে উভয় পক্ষই নিয়মিত একে অপরের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ নাগাদ এই যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

 

এছাড়া প্রায় ৪৩০ জন মার্কিন সেনা এই সংঘাতে আহত হয়েছেন। আহত সেনাদের বড় একটি অংশ অবশ্য পরে আবার দায়িত্বে ফিরে গেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে পেন্টাগনের ওয়েবসাইট থেকে মৃত সেনার সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একে তারা কারিগরি ত্রুটি হিসেবে দাবি করলেও সমালোচকরা রাজনৈতিক কৌশল বলেই মনে করছেন।

গণমাধ্যমের ওপর নজিরবিহীন কড়াকড়ি

যুদ্ধের শুরু থেকেই সরকারি গোপনীয়তা বজায় রাখার অজুহাতে গণমাধ্যমের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। পেন্টাগনের ভেতরে সংবাদকর্মীদের অবাধ যাতায়াত এবং প্রেস অ্যাক্সেসের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী সংবাদমাধ্যমগুলোকে পাশ কাটিয়ে সরকারপন্থি পডকাস্টার ও ইনফ্লুয়েন্সারদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটনে কর্মরত সংবাদকর্মীদের মতে, এর আগে উপসাগরীয় যুদ্ধ বা আফগান যুদ্ধের সময়ও গণমাধ্যমের ওপর এমন নজিরবিহীন কড়াকড়ি দেখা যায়নি। পেন্টাগনের বর্তমান নেতৃত্ব সংবাদমাধ্যমকে অংশীদার না ভেবে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাজনীতি ও নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ

যুক্তরাষ্ট্রে এই যুদ্ধ সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের স্পষ্ট কোনো কৌশল না থাকায় এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ন্যারেটিভ নিজেদের পক্ষে রাখতেই এই তথ্য গোপনের কৌশল নেওয়া হয়েছে।

 

পেন্টাগন অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তারা নিয়মিত এবং বাস্তবসম্মত আপডেট দিয়ে আসছে। তবে সমালোচকরা মতে, যতই তথ্য লুকানোর চেষ্টা করা হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত সত্য ঠিকই প্রকাশ পাবে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান