রাজধানীর সড়কগুলোর বেহাল দশা বহুদিন ধরে। বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তায়নের নামে বছরের পর বছর ধীর গতিতে কাজ চলছে। আবার কোনো কোনা সড়কে উন্নয়নের নামে সংস্কারের কাজ চলছে। কোথাও কোথাও আবার বিদ্যুতের আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল বসানো হচ্ছে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি সব সড়কের একই দশা। পাড়া মহল্লার অলিগলিতে বর্ষার পানি জমে সড়কগুলো ভেঙেচুরে বিশালাকার গর্ত, নর্দমা তৈরি হয়েছে। যেখান দিয়ে গাড়ি তো দূরের কথা রিকশাও চলে না। এমন পরিস্থিতিকে নগরবাসী বছরের পর বছর ধরে ভোগন্তি পোহাতে হচ্ছে। অথচ সরকারকে আয়কর, যানবাহনের নিবন্ধন ফি, ফিটনেস ফি, রুট পারমিট, টোকেন ট্যাক্সসহ নানা ধরনের কর ও ফি পরিশোধ করেও সেবা থেকে বঞ্চিত পরিবহন মালিক, চালক ও যাত্রীরা। প্রশ্ন উঠেছে ঢাকার সড়কগুলোতে চলাচলরত বিভিন্ন যানবাহন থেকে সরকার বছরে কোটি কোটি টাকা আয় করলেও সে তুলনায় সেবার মান খুবই নগণ্য।
ঢাকা শহরের আয়তন বলতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুই সিটি করপোরেশন মিলিয়ে প্রায় ৩০৬ বর্গকিলোমিটার বোঝানো হয়। ঢাকা মহানগরের ডিএনসিসি এবং ডিএসসিসি মিলিয়ে মোট সড়ক নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৩,০০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রধান সড়ক, সংযোগ সড়ক এবং অসংখ্য গলি-উপগলি অন্তর্ভুক্ত। এই আয়তনের মাত্র প্রায় ৭ থেকে ৮% রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেখানে পরিকল্পিত অনেক আন্তর্জাতিক শহরে সড়কের জন্য ২০ থেকে ৩ শতাংশ বা তারও বেশি জমি বরাদ্দ থাকে। এ কারণেই ঢাকায় যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে রাস্তার স্বল্পতাকে ধরা হয়। বিশ্বব্যাংকের এক জরিপে দেখা গেছে রাজধানী ঢাকার মোট সড়কের শতকরা ২৫ ভাগই বিভিন্নভাবে দখল হয়ে গেছে। বাকী সড়কগুলো দিয়ে যানবাহন চলাচল করে।এর প্রভাব গিয়ে পড়ে যানবাহন চলাচলে বাধার সৃষ্টি করে। এতে করে বিভিন্ন এলাকায় যানজট লেগেই থাকে।
সরকারি হিসাবে বাংলাদেশে পরিবহন খাত থেকে সরকার বর্তমানে বছরে প্রায় ৩ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, এই টাকা কার্যকর বাস্তবায়ন হলে এটি ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। যেহেতু দেশের নিবন্ধিত যানবাহনের বড় অংশই ঢাকা মেট্রো এলাকায়, তাই অর্থনীতিবিদদের মতে, জাতীয় পরিবহন রাজস্বের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ঢাকাকেন্দ্রিক কার্যক্রম থেকে আসে। যদিও সরকার এ বিষয়ে আলাদা সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা জুরাইন রেলগেট থেকে দয়াগঞ্জ মোড় পর্যন্ত সড়ক। গেন্ডারিয়া নতুন রাস্তা হিসেবে পরিচিত দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির এখন বেহাল দশা। আড়াই কিলোমিটারের এই সড়কটি খানাখন্দে ভরা, বেশিরভাগ স্থানেই কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। আবার কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও দেবে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই বড় বড় গর্তে পানি জমে একেক জায়গা যেন ডোবায় পরিণত হয়েছে। দেখে বোঝার উপায় নেই গর্তের আকৃতি ছোট না বড়? এতে গাড়ি চালাতে হয় বেশ ধীরে, সতর্ক হয়ে। এসব গর্তে গাড়ির চাকা পড়া মাত্রই ডানে-বামে দোল খাচ্ছে। এতে গর্তের নিচে চাকা পড়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। ভাঙা রাস্তাকে নিয়তি মেনে জীবনঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন চলছে শত শত যানবাহন। যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তেমনি তারা আতঙ্কিত।
শুধু এই সড়কের দৃশ্যই এমন নাজুক বিষয়টি তেমন নয়, রাজধানীর অধিকাংশ সড়কের অবস্থা আরও খারাপ। পাড়া-মহল্লার অলিগলির অবস্থা আরও খারাপ। ভাঙাচোরা, খোঁড়াখুঁড়ি-কাটাকাটি কিংবা খানাখন্দের কারণে এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে অধিকাংশ সড়ক। গর্তগুলো সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টির পানিতে এবং প্রতিনিয়ত ভারী যানবাহন চলাফেরা করায় ছোট-বড় অনেক যানবাহন দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে। কোথাও সড়ক সংস্কারের কাজ করছে খোদ সিটি করপোরেশন, আবার কোথাও ঢাকা ওয়াসার পানির সরবরাহের সংযোগ স্থাপন ও অন্যান্য সেবা সংস্থার উন্নয়নকাজের জন্য সড়ক কেটে রাখা হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক এলাকার সড়কের পিচ উঠে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। যত্রতত্র গর্ত-ম্যানহোলের ঢাকনাবিহীন হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগÑকোনো কোনো সড়কের এমন বেহাল দশা যে, দেখে বোঝার উপায় নেই এগুলো রাজধানীর সড়ক। যে কেউ দেখলে মনে করবে গ্রামের কোনো রাস্তা। কারণ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা দুই সিটিতে মেয়র ও কাউন্সিলর নেই। প্রশাসক দিয়ে চলছে বিভিন্ন কাজকর্ম। যার একটি বড় প্রভাবও পড়েছে সড়ক সংস্কারে। জনপ্রতিনিধি না থাকায় সড়কের সংস্কারে ধীরগতি এবং মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করেছেন দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও। তারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরও সড়ক মেরামতের কাজে হাত দিতে পারেনি। ফলে খোঁড়াখুঁড়ি, কাটাকাটি কিংবা খানাখন্দের কারণে এখন অনেক সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরও এ বিষয়ে কার্যত কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
জুরাইনের স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক দিন ধরে এই সড়কের বেহাল দশা। সংস্কার না হওয়ায় এ সড়কে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আমার বাসা এখানে হওয়ায় প্রতিদিন কষ্ট করে বাচ্চাদের স্কুলে যেতে হয়। একটু বৃষ্টি হলেই কেউ কোনো চালক যেতে চায় না। বেশি ভাড়া দিয়েও নেওয়া যায় না। আমরাও আতঙ্কে চলাচলা করি, কখন দুর্ঘটনায় পড়ে যাই। বৃষ্টি হলেই ভয়ে থাকি। সড়কের এই বেহাল দশা থেকে মুক্তি চাই।
পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, আমার বাসা যাত্রাবাড়ী এলাকায় আর ব্যবসা করি দয়াগঞ্জে। ফলে নিয়মিত চলাচল করতে হয়। কিন্তু এই সড়ক দিয়ে হেঁটে চলতেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পুরান ঢাকার সিক্কাটুলি এলাকার মাজেদ সরদার লেন ঘুরে দেখা গেছে, পুরো সড়কজুড়ে খানাখন্দে ভরা। আবার কোথাও কোথাও হাঁটু সমান পর্যন্ত পানি জমে রয়েছে। অনেক স্থানে ইট উঠে গেছে। রেস্টুরেন্ট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়ির পরিত্যক্ত ময়লা-আবর্জনা বা উচ্ছিষ্ট এই সড়কে ফেলা হচ্ছে। সড়কে ওয়াসার পানির লাইন বসানোর কাজ চলছে। ইট-বালু সিমেন্ট ও খোয়া সড়কে স্তূপ আকারে ফেলে রাখা হয়েছে। কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এখানে সিক্কাটুলি এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, এখানে একটি পার্ক রয়েছে। এই পার্কের আশপাশের রাস্তায় ছোট-বড় অসংখ্য গর্তে পানি জমে একেক জায়গা যেন ডোবায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, এই সড়কের অনেক দিন ধরেই খুবই ভয়াবহ অবস্থা। সব সময় কাদা থাকে। আর বৃষ্টি হলে কোমর সমান পানি। তখন রাস্তার সব ময়লা বাসার গিয়ে ঢুকে। এই রাস্তার জন্য কেউ বাসা ভাড়া নিতে চায় না।
রাজধানীর উত্তর মুগদাপাড়ায় মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে বড় মসজিদ পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা খুবই বেহাল। এখানে দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই প্রধান সড়ক থেকে হাসপাতাল যাওয়ার সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এ ছাড়া সরেজমিন পুরান ঢাকার বংশাল রোড, খিলগাঁও ফ্লাইওভারের মুখ থেকে শুরু করে নন্দীপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত সড়কটি (এটি বাসাবো-মাদারটেক সড়ক নামে পরিচিত) গেন্ডারিয়া, টিকাটুলী, ওয়ারী, নারিন্দা, মানিকনগর, টিটিপাড়া, গোপীবাগ, রাজারবাগ, সায়েদাবাদ, কমলাপুর, খিলগাঁও এবং হাতিরপুল এলাকার বিভিন্ন এলাকার সড়কে খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আবার অনেক সড়কের রাস্তা পুরোপুরি ভেঙে গেছে। কোথাও আবার ম্যানহোলের ঢাকনা নেই। যেখানে লাল কাপড় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একজন প্রকৌশলী বলেন, আমরা জানি অনেক রাস্তাঘাটের খারাপ অবস্থা। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। আর বৃষ্টির মধ্যে কাজ করলে সেই কাজগুলো তেমন টেকসই হয় না। ফলে জনগুরুত্বপূর্ণ স্থান বিবেচনা করে অনেক রাস্তা তাৎক্ষণিক সংস্কার করা হচ্ছে। তবে নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মিরপুর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সেনপাড়া-পর্বতা এলাকায় সড়কটির অবস্থা খুবই বেহাল। সড়কে খানাখন্দে ভরা, কোথাও পিচ ঢালাই আছে, কোথাও নেই। বৃষ্টির পানি-কাদায় একাকার। দিন দিন এসব খানাখন্দ বড় আকার ধারণ করছে। কাদাপানি ছিটকে কাপড়-চোপড় নষ্ট হচ্ছে। এমন দুর্ভোগ নিয়ে হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
এ এলাকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা ওমর ফারুক জানান, বিভিন্ন সময় সড়কটি সংস্কার করা হলে কিছু দিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এখন এই সরকার আসার পরে আর সংস্কার হচ্ছে। ফলে এ সড়ক দিয়ে এলাকার স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ছাড়াও পানিবদ্ধ এ সড়কপথে হাসপাতালে আসা মুমূর্ষু রোগীদের ভয়ানক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে। জনস্বার্থে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে এ ব্যাপারে শিগগিরই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। মিরপুর ১০, ১১ ও ১৩ এলাকা এবং শেওড়াপাড়ার অলিগলির সড়কগুলোতে কোথাও কোথাও কার্পেট ও বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্ত আর খানাখন্দে ভরে গেছে। ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশান ও বাড্ডার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া লেকপাড়ের ‘গুলশান লেক ড্রাইভ’ সড়কটির অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় অনেকেই বিকল্প পথ বেছে নিয়ে চলাচল করছেন।
স্থানীয়রা জানান, গুলশান অ্যাভিনিউতে যানবাহনের চাপ কমানো এবং বাড্ডা, শাহজাদপুর ও বারিধারার মধ্যে বিকল্প যোগাযোগ নিশ্চিত করতেই ২০১৮ সালে সড়কটি উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু তারপর আর সংস্কার না করায় বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।
এ ছাড়া ডিএনসিসির এলাকার জনবহুল এলাকা উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের সংলগ্ন কামারপাড়া দীর্ঘদিন ধরে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছে। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মানুষকে। আবার ১৬ নম্বর সেক্টরের কিছু জায়গায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও সড়ক দেবে গিয়ে হয়েছে উঁচু-নিচু। বাড্ডার গোপীপাড়া, সাতারকূল, ভাটারা মাদানি অ্যাভিনিউ, কাফরুল, পূর্ব বাইশটেকি, মহাখালী দক্ষিণপাড়া, মধুবাগ, মালিবাগ চৌধুরীপাড়া, রামপুরা, হাতিরঝিল এসব এলাকায় অলিগলির অনেক সড়ক ভেঙে গেছে।
দুই সিটির কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় মোট সড়ক রয়েছে ১ হাজার ৬৫৬ কিলোমিটার। আর উত্তর সিটিতে সড়কের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ৩৪০ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রধান সড়ক হচ্ছে ১৯০ কিলোমিটার, সংযোগ সড়ক রয়েছে ৩৪৫ কিলোমিটার, আর অলিগলি রয়েছে ৮০৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে নতুন যুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডসহ প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার সড়কের এখনই সংস্কার করা জরুরি।
একজন প্রাইভেট কার মালিক বলেন প্রতিবছর আমরা মোটা অংকের টাকা দিচ্ছি, গাড়ির ট্যাক্স, ফিটনেসবাবদ। সড়কে চলাচলের জন্য এই টাকার পবিবর্তে আমরা সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি না। মেহেদী নামের একজন বাস মালিক বলেন, আমাদের সিটি সার্ভিস শুধু শহরের মধ্যে চলে না। এগুলো ঢাকার বাইরে যেমন, গাউসিয়া, ধামরাই, মানিকগঞ্জ, সাভার পর্যন্ত চলাচল করে কিন্তু সড়কের বেহাল দশার কারণে আমাদের সময় লাগছে বেশি। তাতে গাড়ির জ্বালানী যেমন বেশি খরচ হচ্ছে, একইসাথে সময়ও নষ্ট হচ্ছে। গাড়ির ট্রিপ কমে যাচ্ছে, পক্ষান্তরে গাড়ির টায়ার, টিউবসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তাড়াতাড়ি নষ্ট হচ্ছে। এসব কথা কাকে বলবো? তিনি বলেন, একটা কথা খেয়াল করলেই দেখবেন, ঢাকা শহরের সড়ক মেরামত হয়না বললেই চলে। দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা না থাকায় বর্ষা এলেই শুরু হয় মেরামতের কাজ। এটা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। ঢকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির প্রচার সম্পাদক সাইদুর রহমান বাবু বলেন, ঢাকার সড়কগুলো দূরাবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা গাড়ির মালিকরা। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গাড়ির ট্যাক্স অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়েছে। আমাদের মহাসচিব এ বিষয়ে সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়, এনবিআরসহ বিভিন্ন সংস্থায় চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার তা মানে নি। এতে করে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। এ পেশায় এখন লাভের চেয়ে লোকসানের পাল্লা ভারি বেশি। সরকারের কাছে আমাদের দাবি সড়ক সংস্কারসহ আমাদের ট্যাক্স যাতে কমানো হয়। তা না হলে অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে। এতে করে পরিবহন সেক্টরে বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে।
নগর পরিকল্পনাবিদ প্রফেসর ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, বর্ষা মৌসুমে উন্নয়নকাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে যথাযথ পরিকল্পনা, বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা এবং দ্রুত কাজ শেষ করার সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে নতুন সড়কও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়নকাজে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে, যাতে একই সড়ক বারবার খুঁড়তে না হয়। তিনি বলেন, নির্মাণকাজে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে এবং নি¤œমানের কাজের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলে বৃষ্টির পানি দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে।