সরকার উৎপাদনমুখী দেশ গড়ার পরিবর্তে কার্ডের নামে বাড়িতে বাড়িতে বেকারত্বকে উৎসাহিত করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। দেশকে এগিয়ে নিতে এনসিপি নামের চারাগাছকে বৃক্ষে পরিণত করতে জনগণের সমর্থন চেয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমরা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করব না।’
আজ শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে যশোরের অভয়নগর পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির অভয়নগর উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী শাহজাহান কবীর।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বললেন, ‘দেশের মালিক জনগণ ভোট বিক্রি করে গোলামির শৃঙ্খলে আটকে যায়। এর ফলে পাঁচ বছর ধরে জনগণকে নানা দুর্ভোগের ঘানি টানতে হয়। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। জনগণ সচেতনভাবে ভোট দিলে জনপ্রতিনিধিরাই পাঁচ বছরের জন্য জনগণের সেবক হয়ে কাজ করতে বাধ্য হবে।’
রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘রাজপথে নারীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের উপেক্ষা করা হয়। দেশের ৫১ শতাংশ নারী জনগোষ্ঠীকে বাইরে রেখে কখনোই একটি সুষম রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। তাই নারীদের সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে হবে।’
পথসভায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বলেছেন, ‘পলাতক শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার হুমকি দিচ্ছেন। কিন্তু শেখ হাসিনা এ দেশে আর কখনো ফিরতে পারবেন না। শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের কারও এ দেশে দাফনও হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।’
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. মাহমুদা মিতু এমপি বললেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীদের প্রবেশে নানা বাধা তৈরি করা হচ্ছে। নারীদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে তাদের চরিত্রহনন করা হয়। এসব বাধা উপেক্ষা করে নারীদের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণভোট বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কার করতে হবে। তা না হলে জুলাইয়ের তরুণদের আবারও গুলি খেতে হবে।’
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল হক এবং যশোর জেলা সমন্বয়কারী মো. নুরুজ্জামানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।