Image description

সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ব্যাংকের টাকা লুটপাট ও পাচারসহ আনীত সব অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। একইসঙ্গে পদত্যাগের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের সরে যাওয়াকে স্বাগত জানিয়ে দলটি।

 

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় যৌথ বিবৃতি দিয়েছেনএবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

 

ওই বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, আমরা চেয়েছিলাম জুলাইয়ের সব অংশীদারের ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত এই বিতর্কিত ব্যক্তির অপসারণ বা পদত্যাগ। কিন্তু ক্ষমতাসীন দল বিএনপি শুরু থেকেই এ ব্যাপারে সম্মত ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তহীনতাও এর জন্য কম দায়ী নয়। বিএনপি বারবার সাংবিধানিক শূন্যতার কথা এবং রাষ্ট্রপতির অধীনে শপথ নেওয়ার বিষয়টিকে সামনে এনে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা তৈরি করেছে। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর পতিত ফ্যাসিবাদের পুতুল এই বিতর্কিত ব্যক্তিকে দিয়ে সংসদে জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ানোর মাধ্যমে পুরো পরিস্থিতিকে আরও হাস্যকর ও তামাশায় পরিণত করা হয়েছিল। সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) করার উদ্যোগ গ্রহণেও বিএনপি ব্যর্থ হয়েছে।

 

 

তারা আরও বলেন, জনগণের ওপর চেপে বসা ফ্যাসিবাদের মূল শেখ হাসিনা, তার চোর-লুটেরা মন্ত্রিসভা, পদলেহনকারী প্রধান বিচারপতি, পুলিশ বাহিনীর হোতারা, দালাল সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীসহ মূল চরিত্রগুলোর বেশিরভাগ অংশকে বিতাড়িত করতে সংগ্রামী ছাত্র-জনতার লেগেছিল মাত্র ৩৬ দিন। আর এর পেছনে ছিল সবার ঐক্যবদ্ধতা; সংবিধানের দোহাই, সংসদ বা আইনের ফাঁকফোকর—কিসব কিছুরই প্রয়োজন হয়নি। অথচ ফ্যাসিবাদের অংশীদার ও পুতুল রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে সরাতে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী বিএনপির লেগে গেল ১৫৮ দিন! এর অন্তরালে কী উদ্দেশ্য কাজ করেছে, তা আশাকরি জনগণ বিবেচনায় নেবে।

 

সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যাংকের টাকা লুটপাট, পাচার ও দুর্নীতিসহ সব অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে ওই বিবৃতিতে।