Image description

যশোর শহরে চাঁদার টাকা না পেয়ে বসতবাড়িতে হামলা এবং গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির চেষ্টাকালে প্রতিবেশী নারীর দায়ের কোপে একাধিক হত্যা মামলার এক আসামি নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভোরে নড়াইলের তুলারামপুর এলাকায় পৌঁছালে তার মৃত্যু হয় বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

নিহত মো. জিতু (৩৫) শহরের বারান্দীপাড়া মোল্লাপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। মারা যাওয়ার পর তার মরদেহ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে আনা হয়।

এ ঘটনায় শুকরান বেগম (৫২) ও তার ছেলে সুমন হোসেন (২৮) নামে দুজন আহত হয়েছেন। তারা যশোর জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বারান্দীপাড়া ফুলতলা মোড় এলাকায় জিতু গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকার খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। পথে নড়াইলের তুলারামপুর এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শুকরান বেগম দাবি করেন, বুধবার রাতে জিতু তাদের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে তার ছেলের কাছে টাকা দাবি করেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ছেলে সুমনকে আঘাত করেন। ছেলেকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। একপর্যায়ে ঘরের ভেতরে তার পুত্রবধূকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করা হলে আত্মরক্ষার্থে ঘরে থাকা একটি দা দিয়ে জিতুকে আঘাত করা হয়।

জিতুর স্বজন হাসিনা বানু বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শে জিতুকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। নড়াইলের তুলারামপুর এলাকায় পৌঁছানোর পর তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ আবার যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন, জিতু একাধিক মামলার আসামি ছিল। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।