বেলায়েত হোসাইন
সাতক্ষীরার ওই মেয়েটা চাইলে এই দেশের হাজার হাজার মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করে দিতে পারে। এখন পর্যন্ত কেন করছে না, সেটাই বুজতেছি না।
গাজী নজরুল সংক্রান্ত ঘটনায় যেসব গণমাধ্যম, যেসব বুজর্গ বুদ্ধিজীবীরা ওই মেয়েটির ছবি প্রকাশ করেছেন, তারা অন্ততপক্ষে প্রচলিত বেশ কয়েকটি আইন লঙ্ঘন করেছেন। সামাজিক হারমনি নষ্ট করেছেন। কোনো নারীর আপত্তিকর ছবি প্রকাশ করা বাংলাদেশের আইনে গুরতর অপরাধ। ছবি প্রকাশ না করেও ওই ঘটনা নিয়ে লেখা যেতো। কিন্তু সেটা না করে আপনারা নিজেরাই একেকটা গাজী নজরুলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।
বাংলাদেশের আইনে অনুমতি ছাড়া কোনো নারী বা যেকোনো ব্যক্তির আপত্তিকর, সংবেদনশীল বা ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশ, প্রচার, বিকৃতি কিংবা তা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা একটি জামিনঅযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের অপরাধ দমনে বাংলাদেশে একাধিক আইন কার্যকর রয়েছে, যার মধ্যে ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনটি সবচেয়ে কঠোর।
এই আইন অনুযায়ী, কোনো নারীর অজান্তে বা প্রতারণা করে আপত্তিকর ছবি ধারণ করলে সর্বোচ্চ ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। আবার সেই ছবি বা ভিডিও ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছড়ালে অথবা এর মাধ্যমে নারীর মানহানি ও মানসিক নির্যাতন চালালে সর্বোচ্চ ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
এছাড়া ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে এ ধরনের ছবি ছড়ানো বা বিকৃত করার ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল অপরাধ বিষয়ক আইনের আওতায় সশ্রম কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের অর্থদণ্ডের মাধ্যমে বিচারের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি অনুযায়ী, কোনো নারীর শ্লীলতাহানি বা সামাজিক সম্মানহানির উদ্দেশ্যে আপত্তিকর ছবি ব্যবহার করা এবং ৫০০ ধারা অনুযায়ী মানহানি করার অপরাধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের শাস্তির উল্লেখ আছে।
এখন প্রশ্ন- আমরা কি তাইলে ওই এমপির কুরুচিপূর্ণ কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলবো না? হ্যাঁ, অবশ্যই তুলবো। কিন্তু, তাই বলে হরেদরে দেশের তথাকথিত মেইনস্ট্রিম গণমাধ্যমগুলো পর্ণ ভিডিও ছেড়ে দিবে? রথি মহারথীরা এখন আর নারীর অধিকার নিয়ে কিছু বলবে না। আসলে মুখোশের আড়ালে সবাই ভণ্ড, স্বার্থান্বেষী এবং একেকটা গাজী নজরুল।