Image description

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভারতের দিল্লিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনে ইন্ধন জোগাচ্ছে, এমন একটি চিঠি ভাইরাল হয়েছে ভারতে। বিষয়টি ঘিরে ভারতের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়। সেই চিঠির বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যমে আন্দোলনে জামায়াতের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

 

এদিকে চলমান ছাত্র বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নামে প্রচারিত ওই কথিত চিঠিটি তদন্তের আওতায় নিয়েছে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগ। অভ্যন্তরীণ আন্দোলনের আন্তর্জাতিক মাত্রা পাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিভিন্ন সংস্থা এর সত্যতা যাচাই করছে।

 

কথিত চিঠি অনুসারে, বাংলাদেশ-ভিত্তিক সংগঠনটি ছাত্র আন্দোলনের প্রতি তাদের ‘পূর্ণ ও নিঃশর্ত সংহতি’ জানিয়েছে।

 

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় জি নিউজ। চিঠিটি আদৌ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে কি না, এমন প্রশ্ন তুলেছে গণমাধ্যমটি।

 

 

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

 

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা চিঠিটি আসল কি না তা নিশ্চিত করেননি। তবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো বিদেশি রাজনৈতিক বা আদর্শিক সংগঠনের সম্পৃক্ততা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

 

এ ছাড়া ভারতীয় গণমাধ্যম মানিকন্ট্রোল জানিয়েছে, জামায়াতে ইসলামী চিঠিটিকে ভুয়া বলে অস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে ভারতীয় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও নথিটির সত্যতা যাচাই করছে।

 

যদিও এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি, যা থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে ওই চিঠি পাঠিয়েছে। ফলে বিষয়টি অভিযোগ ও পাল্টা অস্বীকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

 

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

 

 

জি নিউজ জানায়, ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, চিঠিটি যদি সত্য বলে প্রমাণিত হয়, তবে এর প্রভাব শুধু প্রতিবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তারা যুক্তি দেন যে একটি কট্টরপন্থী ইসলামপন্থী মতাদর্শের বিদেশি সংগঠনের প্রকাশ্য সমর্থন একটি দেশীয় ছাত্র আন্দোলনকে বহিরাগত শক্তি দ্বারা প্রভাবিত হিসেবে চিত্রিত করার সুযোগ করে দিতে পারে, যা এর বিশ্বাসযোগ্যতা ও জনমতকে সম্ভাব্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

 

প্রতিবেদন অনুসারে, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, শিক্ষার্থী আন্দোলনে বিদেশি রাজনৈতিক বা ধর্মীয় সংগঠনের সম্পৃক্ততা অভ্যন্তরীণ নীতি বিতর্কে বাইরের প্রভাব আনার মাধ্যমে ভারতের জাতীয় সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তারা আরও সতর্ক করেন যে এই ধরনের হস্তক্ষেপ স্থানীয় উদ্বেগ থেকে মনোযোগ সরিয়ে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক বা মতাদর্শগত বিষয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

 

গত সোমবার নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সংসদ অভিযানের কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তবে কর্মসূচির অনুমতি না দিয়ে তাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

নতুন গঠিত ককরোচ পার্টির উদ্যোগে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে শিক্ষাব্যবস্থার দুর্নীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষার অতিরিক্ত ব্যয় এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের দায়বদ্ধতার অভাবের বিষয়গুলো তুলে ধরা হচ্ছে। আন্দোলনটি ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এতে সমর্থন জানিয়েছেন।