নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার হাজীগঞ্জে স্থাপিত দেশের প্রথম জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার রাত তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। স্মৃতিস্তম্ভের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলেন। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক বা শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে আশপাশের সড়ক ও এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বা তাদের কেউ জড়িত কি না তা তদন্তের পর নিশ্চিত করে বলা যাবে। আমরা দ্রুতই অগ্নিসংযোগকারীদের শনাক্তে কাজ করছি।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব বলেন, গত ১৬ জুলাই এ স্মৃতিস্তম্ভে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নেতারা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন। ওই অনুষ্ঠানের জন্য চারদিকে কাপড়ে মোড়ানো হয়েছিল। ভোররাতের দিকে দূর থেকে ছোট কোনো কাপড়ের দলায় আগুন ধরিয়ে ছুড়ে মারলে তা স্মৃতিস্তম্ভের পাশে থাকা কাপড়ে ধরে যায়। আগুন অল্প ছিল। দ্রুতই তা নেভানো হয়।
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আগুন অনেক বেশি দেখা গেছে। তবে সেটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি দিয়ে করা বলে দাবি ফতুল্লা থানার ওসির।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার বিপ্লবে শহীদদের স্মরণে গত বছরের ১৪ জুলাই এ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের দিন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচজন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। চাষাঢ়া-আদমজী সড়কের হাজীগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত এ স্থাপনাটি দেশের প্রথম ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ।’ এরপর দেশের অন্যান্য জেলাতেও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপিত হয়। প্রতিটি স্মৃতিস্তম্ভে গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের নাম লেখা রয়েছে।
উদ্বোধনের পর থেকে নিরাপত্তার স্বার্থে নারায়ণগঞ্জের এ স্মৃতিস্তম্ভের পাশে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এ ক্যাম্পটি ফতুল্লা মডেল থানার অধীন।