Image description

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসসহ একাধিক রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন অভিযোগ তুলেছিল, ক্ষমতায় এলে রাজ্য থেকে বাংলা ভাষা তুলে দেবে বিজেপি। তবে ক্ষমতায় আসার পর সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে এক ঐতিহাসিক ঘোষণা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাই হতে চলেছে রাজ্যের প্রধান সরকারি ভাষা। এখন থেকে রাজ্য সরকারের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বাংলায়।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসেছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ। গত রোববার (১৯ জুলাই) কলকাতায় দেশের প্রথম ভারতীয় ভাষা বিষয়ক শব্দ জাদুঘর ‘মিউজিয়াম অব ওয়ার্ডস’-এর উদ্বোধনে এসে তিনি একটি বিশেষ ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাতৃভাষার ব্যাপক প্রয়োগ, প্রসার ও সর্বস্তরে তা পৌঁছে দেওয়ার আকুল আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একটি চিঠি দিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের পরদিনই সোমবার (২০ জুলাই) রাজ্য বিধানসভায় ঐতিহাসিক এই সিদ্ধান্ত জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, এখন থেকে রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরের যাবতীয় কাজ বাংলা ভাষায় সম্পাদিত হবে। এমনকি রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের থানাতেও বাংলা ভাষায় এফআইআর (FIR) করা যাবে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

চিঠিপত্রেও বাংলা-হিন্দি

কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যকার যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ইংরেজি পরিহার করে বাংলা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিলেন অমিত শাহ। কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলার পাশাপাশি হিন্দিতেও চিঠি লেখা যেতে পারে বলে জানান তিনি। এই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে ১ সেপ্টেম্বর থেকে।

বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথমেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সেই চিঠিটি পড়ে শোনান। এরপর তিনি বলেন, ‘আমি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করছি, আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে পশ্চিমবঙ্গের সবস্তরে আমরা বাংলা ভাষাকে বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর করলাম। মাঝের এই সময়টুকুতে সরকারি দপ্তরে অনুবাদক নিয়োগসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি শেষ করা হবে।’

মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, ভারত সরকার বা অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আমরা বাংলা ভাষাতেই চিঠিপত্র আদান-প্রদান করব। তবে ভারত সরকারের ক্ষেত্রে বিশেষ যোগাযোগের সুবিধার্থে বাংলার পাশাপাশি হিন্দি ভাষাও ব্যবহৃত হতে পারে। সামগ্রিকভাবে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে মাতৃভাষাকে সর্বোচ্চ স্তরে কার্যকর করার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপদেশকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।