Image description

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় অতিবৃষ্টি এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস ও শ্রেণিকক্ষ ভেসে গেছে। এছাড়াও তীব্র স্রোতে সড়ক ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে, ভেসে গেছে মাছের পুকুর ও আমনের বীজতলা।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, কৃষক ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার নাজিরপুর ও লেংগুরা ইউনিয়নের নলছাপ্রা বাজার–বালুচড়া উচ্চবিদ্যালয় সড়ক। পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে সড়কটির প্রায় ১০০ ফুট অংশ ধসে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

 
 
 

লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, নলছাপ্রা বাজার–বালুচড়া উচ্চবিদ্যালয় সড়কসহ ইউনিয়নের একাধিক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চেংনী নদীর ভাঙনে প্রায় ৫০ একর ফসলি জমিতে বালু জমে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ছোট-বড় মাছের পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং আমনের বীজতলাও নষ্ট হয়েছে।

 
 

এদিকে খারনৈ ইউনিয়নের গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিদ্যালয়টির অফিস ও একটি শ্রেণিকক্ষ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দ্বীন ইসলাম বলেন, ‘পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে মুহূর্তের মধ্যে বিদ্যালয়ের অফিস ও একটি শ্রেণিকক্ষ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এতে বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় নথিপত্র, আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণের ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে নেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত ভাঙনরোধ এবং বিদ্যালয় পুনর্নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন।’

খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবাইদুল হক বলেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে ইউনিয়নের বিভিন্ন কাঁচা ও পাকা সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি আমনের বীজতলা ও মাছের পুকুরেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রধান উব্দাখালী নদীর পানি কলমাকান্দা সদর ডাকবাংলো পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলে নতুন করে প্লাবন ও নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।