সীমান্ত সংযোগ সড়ক উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ছয় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘সীমান্ত সংযোগ সড়ক পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’ শীর্ষক একটি নতুন প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) প্রস্তুত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গত ১২ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পত্র পাঠানো হয়।
প্রকল্পের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৯১ কোটি ২৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত।
চিঠিতে প্রকল্পটি অনুমোদনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। ওই চিঠির সঙ্গে প্রকল্পের ডিপিপির দুই সেট অনুলিপি সংযুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) গণমাধ্যম শাখা থেকে জানানো হয়, বাহিনীর সদস্যরা সীমান্ত শান্তিপূর্ণ রাখতে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে সীমান্ত সংযোগ সড়ক পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের যে ডিপিপি প্রেরণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিজিবিকে সম্পৃক্ত করা বা জ্ঞাত করা হয়নি। তাই আপাতত এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিজিবির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, সীমান্তে যেকোনো সমস্যা মোকাবিলায় তারা আগের চেয়ে এখন আরো বেশি জনগণের সমর্থন এবং সহযোগিতা পাচ্ছেন। তবে রাস্তাঘাটগুলো অনুন্নত থাকায় বিজিবি সদস্যদের চলাচলে একটু কষ্ট হচ্ছে। আমার দেশ সীমান্তে বিজিবি ও সাধারণ জনগণের সম্পৃক্ততা এবং চলাচলের সড়কসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করেছে, এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি সীমান্তসংলগ্ন যোগাযোগের সড়কগুলো পাকা করার যে উদ্যোগ নিয়েছে, এজন্য বর্তমান সরকার এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে আমরা সাধুবাদ জানাই।
বাংলাদেশ পুলিশের রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম বলেন, আমার দেশ সীমান্তে বিজিবির সমস্যাগুলো তুলে ধরে যে সংবাদ প্রকাশ করেছে, তার আলোকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সীমান্তের সংযোগ সড়কগুলো উন্নয়নের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন হলে মাদক ও চোরাচালান থেকে শুরু করে পুশইন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে।
তিনি আরো বলেন, এ কারণে আগে থেকেই আমরা বলে আসছি, যদি সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমানার পাশ দিয়ে সড়কগুলো পাকা করা যায়, সেক্ষেত্রে বিজিবি সদস্যরা যেকোনো সমস্যা মোকাবিলায় স্বল্প সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারবেন।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার সীমান্তের সমস্যাসহ ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো নিয়ে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের কাছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সীমান্ত সংযোগ সড়ক পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের যে চাহিদা পাঠিয়েছে, তা যদি বাস্তবায়ন করা হয় তাহলে সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা অতিদ্রুত যেকোনো সমস্যা মোকাবিলা করতে পারবেন।
গত ১ জুলাই বুধবার আমার দেশ ‘সীমান্তে বিজিবি-জনতার অভূতপূর্ব প্রতিরোধ’ ও ৩ জুলাই শুক্রবার ‘সীমান্তে বিজিবির অপ্রতুল সরবরাহ, ওপারে প্রযুক্তিনির্ভর বিএসএফ’ শিরোনামে এবং ৮ জুলাই সম্পাদক ও প্রকাশক মাহমুদুর রহমান ‘সৈনিক-জনতার স্বাধীনতা রক্ষার সম্মিলিত লড়াই’ ও ১১ জুলাই শনিবার ‘বিএসএফের বুলেটে চোখ হারিয়ে অনিশ্চিত জীবন’ শিরোনামে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনের আলোকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ‘সীমান্ত সংযোগ সড়ক পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’ শীর্ষক প্রকল্পের ডিপিপিসহ সচিব বরাবর একটি আবেদন প্রেরণ করে।