Image description

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। তবে ঘরে ফিরেও স্বস্তি নেই দুর্গত মানুষের। এক সপ্তাহ পানিবন্দি থাকার পর এখন তাদের লড়তে হচ্ছে কাদা-ময়লা পরিষ্কার, ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামত এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে।

গত সপ্তাহে টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে চরলক্ষ্যা, চরপাথরঘাটা, শিকলবাহা, জুলধা ও বড়উঠান ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। শিকলবাহার চুন্নার বাড়ি, চরপাথরঘাটার খোয়াজনগর এবং বড়উঠানের শাহমীরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ও সড়ক দেড় থেকে দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। বর্তমানে পানি সরে যাওয়ায় অন্তত আড়াইশ পরিবার নিজ ঘরে ফিরেছে। তবে মানুষ ঘরে ফিরে দেখছেন, দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে থাকায় অনেক কাঁচা ও টিনশেড ঘরের ভিটেমাটি নরম হয়ে গেছে। আসবাবপত্র, পোশাক ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বাসিন্দারা এখন ঘর পরিষ্কার ও ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় ব্যস্ত। এদিকে সড়ক থেকে পানি নেমে যাওয়ায় যান চলাচল ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের খালগুলোর অকার্যকারিতার কারণে সামান্য 
ভারী বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। স্থায়ী সমাধানে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এবারের বন্যায় জুলধা ও বড়উঠান ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি কাঁচা ঘর সম্পূর্ণ ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো বন্ধ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে চাল, ত্রাণ, নগদ অর্থ ও ঢেউটিন বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় মেডিকেল টিম মাঠে কাজ করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিদুয়ানুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে গেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। এখন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা চূড়ান্ত করে দ্রুত পুনর্বাসন সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। প্রশাসন শুরু থেকেই মানুষের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’