Image description

‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সম্ভাব্য নাশকতা, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ পলাতক ফ্যাসিবাদী আওয়ামী উগ্রবাদী তৎপরতা কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, এপিবিএন, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

প্রকাশ্য টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, চেকপোস্ট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড এবং প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নিরাপত্তাবলয়ের আওতায় আনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব রোধে সাইবার প্যাট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে।

দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে ভুল বোঝাবুঝির প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে আওয়ামী গুপ্ত নাশকতাকারীসহ সুযোগসন্ধানীরা যাতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে না পারে, সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তর ও গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রে আরো জানা গেছে, ‘জুলাই শহীদ দিবস’ ঘিরে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। রাজধানীসহ বিভাগীয় শহর, জেলা সদর, স্মৃতিস্তম্ভ, শহীদ স্মরণ কর্মসূচির স্থান এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাকে নিরাপত্তার বিশেষ আওতায় রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে আগে থেকেই পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। সে অনুযায়ী বাহিনী মোতায়েন, টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুইক রেসপন্স টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিয়মিত মোবাইল ও ফুট পেট্রোল জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশিও চালানো হচ্ছে। অনুষ্ঠানস্থল, স্মৃতিস্তম্ভ এবং জনসমাগমের স্থানগুলোতে নিরাপত্তা সদস্যদের উপস্থিতি দৃশ্যমান রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সুইপিং কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। সম্ভাব্য বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু শনাক্ত এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ডিএমপির নিয়মিত ফোর্সের পাশাপাশি বিশেষায়িত সোয়াট টিমকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে । মহানগরীর প্রধান প্রবেশদ্বার ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জোরদার করা হয়েছে তল্লাশি চৌকি।

র‌্যাব জানিয়েছে, দিবসটি উপলক্ষে তাদের প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজস্ব নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। র‌্যাবের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে তথ্যদাতা ও স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে আগাম তথ্য সংগ্রহ, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সম্ভাব্য তৎপরতার ওপর নিবিড় নজরদারি এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাদা পোশাকে সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নিয়মিত টহল বৃদ্ধির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, জনসমাগমস্থল এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে তা মাঠপর্যায়ে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরে সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) শাহাদাত হোসাইন বলেন, সব মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশকে নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও নিষিদ্ধ সংগঠনের নাশকতা রোধে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব রোধে সাইবার প্যাট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় জাতীয় দিবস বা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে শুধু দৃশ্যমান নিরাপত্তেই নয়, গোয়েন্দা নজরদারি, প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রমকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত ও প্রতিরোধের সক্ষমতা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে স্মরণসভা, দোয়া ও অন্যান্য কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। এসব কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।