Image description

আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষামন্ত্রীর পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান।

আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে জানতে চাইলে স্ট্রিমকে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভকে ছাত্রলীগ সাবোটাজ করার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান স্ট্রিমকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের রাগ বা ক্ষোভ যৌক্তিক। তবে শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভকে ব্যবহার করে ছাত্রলীগ মুভমেন্টকে সাবোটাজ করার চেষ্টা করছে। এই বিষয়ে সবাইকে সাবধান থাকতে বলেছি। অন্যরাও যাতে সাবধানে থাকেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, গতকালই সরকারের পক্ষ থেকে সাড়া দেওয়া উচিত ছিল। সরকার দেরি করে ফেলেছে। দেরি না করে ছাত্রপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। ছাত্ররা যাতে ঘরে ফিরে যায়, পড়াশোনা করে এবং পরীক্ষা দেয়, এটি সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের দাবি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। এই দাবির সঙ্গে তারাও একমত কি না জানতে চাইলে ছাত্রশক্তির সভাপতি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর ওপর ক্ষুব্ধ। এই পরীক্ষাটি নেওয়া উচিত হয়নি। অযৌক্তিক ও কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ হয়েছে। আবার শিক্ষামন্ত্রী ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বাজে মন্তব্যও করেছেন। এসব কারণে শিক্ষামন্ত্রীর যে পদ, সেই পদে থাকার যোগ্যতা তিনি হারিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্তে এখন পৌঁছাতে হবে।’

এর আগে গত সোমবার (১৩ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে চলমান বন্যা ও দুর্যোগে সারা দেশে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানানো হয়।

জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ভয়াবহ বন্যা, টানা অতিবর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে লাখ লাখ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। এমন চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আজকের পরীক্ষা চলমান রাখায় আমরা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। অতএব, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষা ও সমতা নিশ্চিত করতে জাতীয় ছাত্রশক্তি চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা দেশব্যাপী অবিলম্বে স্থগিত করার জোর দাবি জানাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর নতুন সময়সূচি ঘোষণা করাই হবে এই মুহূর্তের সবচেয়ে প্রাজ্ঞ ও মানবিক সিদ্ধান্ত।’