সারা বছর নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে আধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি নদীর নাব্যতা রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
সোমবার (১৩ জুলাই) সংসদে লিখিত প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, নদীপথে চলাচলের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বাড়াতে রিমোট মনিটরিং প্রযুক্তিসংবলিত আধুনিক নেভিগেশন সহায়ক বা ‘এডস টু নেভিগেশনের (এটিওএন)’ মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ রিজিওনাল ওয়াটারওয়ে ট্রান্সপোর্ট প্রকল্প-১ (বিআরডব্লিউটিপি-১)-এর আওতায় রিমোট মনিটরিং সিস্টেম (আরএমএস) সমন্বিত নেভিগেশন সহায়ক ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নৌপথে স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শীতলক্ষ্যা নদীর ঘোড়াশাল-ময়মনসিংহ নৌপথ, মেঘনা নদীর নবীনগর লিংক চ্যানেল-৫ এবং আশুগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ নৌপথ।
তিনি আরও জানান, এর ফলে বয়া ও বিকনের কার্যক্রম তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ সম্ভব হচ্ছে এবং ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে।
রবিউল আলম বলেন, এ প্রযুক্তি চালুর ফলে নৌপথ ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হয়েছে, নেভিগেশন সরঞ্জামের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি পরিচালনাগত বিঘ্ন কমেছে এবং ব্যস্ত নৌপথে চলাচলকারী নৌযানের নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রী জানান, বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে নদীর নাব্যতার ওঠানামা এবং পলি জমার সমস্যা মোকাবিলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়েছে। মৃতপ্রায় নদী পুনরুজ্জীবন, নাব্যতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠায় ইতিমধ্যে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সিলেট অঞ্চলে মূলধনী ড্রেজিংসহ সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প। এ প্রকল্পে নাব্যতা বৃদ্ধি, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটনের বিকাশ, জলাভূমির পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সেচ ও ল্যান্ডিং স্টেশন উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-হাতিয়া-চেয়ারম্যানঘাট-ভাসানচরের মধ্যে নৌযোগাযোগ উন্নয়ন এবং কুমিল্লা অর্থনৈতিক অঞ্চলের সংলগ্ন রায়পাড়া থেকে ভাটেরচর পর্যন্ত আপার মেঘনা নদীর নাব্যতা বাড়াতে ড্রেজিং প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, টেকসই নদী ব্যবস্থাপনার উপায় নির্ধারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৃথক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে খুলনা বিভাগের এম-জি খাল ব্যবস্থাসহ নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি, সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ উন্নয়ন, জলাভূমি সংরক্ষণ, সেচ সুবিধা ও ল্যান্ডিং স্টেশন উন্নয়নের সম্ভাব্যতা যাচাই হচ্ছে। একই সঙ্গে বরিশালে মূলধনী ও রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং, নাব্যতা বৃদ্ধি, ড্রেনেজ উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সম্প্রসারণ এবং ল্যান্ডিং স্টেশন উন্নয়নে পৃথক সমীক্ষা চলছে। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও ল্যান্ডিং সুবিধা উন্নয়নে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে।
মন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্প অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হলে নৌপথের নাব্যতা বাড়বে এবং মৌসুমি তারতম্য কমে আসবে। সরকারের লক্ষ্য নিরবচ্ছিন্ন নৌপরিবহনের পাশাপাশি সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। এ ছাড়া বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সেচ ও পর্যটন খাতের বিকাশ এবং নদীর প্রতিবেশ সংরক্ষণ করা।