Image description

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম।  

সোমবার (১৩ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।  

সাদিক কায়েম কেন সংগঠন থেকে বিদায় নিলেন এই বিষয়ে সংগঠনের একটি সূত্র জানিয়েছে তিনি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি দল থেকে বিদায় নিয়েছেন।  

এদিকে সংগঠন ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে ফেসবুকে সাদিক লেখেন, “বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, আমার আবেগ আর ভালোবাসার প্রিয় সংগঠন! দেখতে দেখতে দীর্ঘ এক সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। সংগঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে আজ আমার আনুষ্ঠানিক ছুটি হয়েছে।  

“সবকিছুর জন্য আল্লাহর কাছে অগণিত শুকরিয়া আদায় করছি। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও প্রোডাক্টিভ সময়গুলো কেটেছে এই কাফেলার সাথে।  

 

“এই প্রিয় কাফেলা আমাকে দেশ ও জাতিকে নিয়ে ভাবতে শিখিয়েছে, জড়তা ভেঙে কথা বলতে শিখিয়েছে, নেতৃত্বের গুণাবলিকে পরম মমতায় বিকশিত করেছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরই আত্মিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশে পরিপূর্ণ পথনির্দেশনা দিয়েছে।”  

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “পেছনে ফিরে তাকালে স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে অসংখ্য প্রিয় মুখ আর সংগ্রামী চিত্র। পুরোটা সময় জুড়ে নিবেদিতপ্রাণ দায়িত্বশীল ও জনশক্তিদের যে সোহবত ও সান্নিধ্য পেয়েছি, তা আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন। জীবনের প্রতিটি বাঁকে আপনাদের কাছ থেকে শিখেছি, অনুপ্রাণিত হয়েছি।   

“দোয়া করি, আল্লাহ তায়ালা ইসলামী ছাত্রশিবিরের এই সংগ্রাম ও আন্দোলনের কর্মীদের পবিত্র সম্পর্কগুলোকে কবুল করুন। সামনের দিনগুলোতে এই অঞ্চলের মজলুম মানুষের মুক্তি সংগ্রামের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে পথ চলার তাওফিক দিন এবং এই আন্দোলনকে বিজয়ী করার মতো যোগ্য নেতৃত্ব দান করুন।”  

প্রসঙ্গত গত ১ মে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) কাউন্সিল হলে আয়োজিত থানা ও বিভাগীয় দায়িত্বশীল সম্মেলনে তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। 

পরবর্তী সময়ে এই ঘোষণার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে শিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয় সংগঠনে থাকা অবস্থায় এই ধরনের নির্বাচনের সুযোগ নেই।