আগামী ৫ আগস্ট উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ পরিচালনায় ১৫ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে সরকার।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন, ২০২৬’-এর ক্ষমতাবলে এই পর্ষদ (কমিটি) পুনর্গঠন করা হয়েছে।
পুনর্গঠিত কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। পদাধিকারবলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এই পর্ষদের সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া পদাধিকারবলে সদস্য হিসেবে পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অন্যূন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি।
শিক্ষা ও গবেষক ক্যাটাগরি থেকে পর্ষদের সদস্য মনোনীত হয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ এবং গবেষক ডা. জাহেদ উর রহমান।
পর্ষদে কিউরেটর হিসেবে থাকছেন মোশফিকুর রহমান জোহান। জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধি হিসেবে মাসুদ রানা পর্ষদের সদস্য হয়েছেন। এ ছাড়া গুমের শিকার পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে স্থান পেয়েছেন ব্যারিস্টার মো. আবরার ইলিয়াস, আবু সাঈদ চৌধুরী হিমু ও সানজিদা ইসলাম তুলি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে নির্মিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ আগামী ৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। এরপর এটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই জাদুঘরে জুলাই আন্দোলনের সময়কার বিভিন্ন আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, নথিপত্র, সংবাদপত্রের সংরক্ষিত প্রতিবেদন, আন্দোলনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী এবং শহীদ ও আহতদের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত স্মারক, পোশাক, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শিত হবে। এ ছাড়া মাল্টিমিডিয়া ও ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে আন্দোলনের ধারাবাহিক ইতিহাস, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হবে। গবেষক ও সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এখানে একটি তথ্যভিত্তিক আর্কাইভও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।