মাঝআকাশে হুট করেই বিকল হয়ে যায় বিমানের ইঞ্জিন। সেটির ছুটে আসা ধ্বংসাবশেষের আঘাতে চুরমার হয়ে যায় একটি জানালা। সঙ্গে সঙ্গে বিমানের ভেতরের বায়ুচাপ কমে যাওয়ায় এক যাত্রীর মাথা ও কাঁধ জানালা গলে বাইরে চলে যায়। প্রায় ২০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ন্ত বিমানে তৈরি হয় চরম আতঙ্ক। তবে কোমরে বাঁধা সিটবেল্ট এবং পাশে থাকা স্ত্রীর প্রাণপণ চেষ্টার কারণে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন ৬১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি।
ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে গ্রিস থেকে জার্মানির মেমিংগেনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া রায়ানএয়ারের একটি বোয়িং ৭৩৭ বিমানে। শুক্রবার সকাল ৫টা ৫৫ মিনিটে গ্রিসের থেসালোনিকির মেসিডোনিয়া বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের প্রায় এক ঘণ্টা পর যাত্রীরা একটি বিকট শব্দ শুনতে পান। গ্রিক সংবাদমাধ্যম ইআরটিকে এক যাত্রী জানান, ইঞ্জিনের টুকরো এসে আঘাত করায় জানালাটি ভেঙে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে এক সার্বিয়ান যাত্রীর মাথা ও কাঁধ জানালার বাইরে চলে যায়। কেবিনের ভেতরে তখন অক্সিজেন মাস্ক ঝুলে পড়ে এবং তীব্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ওই যাত্রীর স্ত্রী টানা ৫ মিনিট ধরে তাকে শক্ত করে ধরে রাখেন, যেন তিনি পুরোপুরি বাইরে ছিটকে না যান।
রেডিও থেসালোনিকি ৯৪.৫-কে এক নারী যাত্রী বলেন, হঠাৎ টায়ার ফেটে যাওয়ার মতো একটা শব্দ হলো। বাতাসের চাপ কমে যাওয়ায় বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করায় চারদিকে চিৎকার-চেঁচামেচি আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি ভেবেছিলেন কেউ বুঝি জরুরি বহির্গমন দরজা খুলে ফেলেছে। তিনি আরও বলেন, ভাগ্যিস ওই ব্যক্তি সিটবেল্ট খোলেননি। সবাই মিলে তাকে টেনে ধরে রেখেছিলেন, অথচ তার মাথা তখন পুরোপুরি বিমানের বাইরে ছিল।
রায়ানএয়ার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাঝআকাশে জানালার কাচ সরে যাওয়ার কারণে বিমানটিকে পুনরায় থেসালোনিকিতে ফিরিয়ে আনা হয় এবং এটি স্বাভাবিকভাবেই অবতরণ করে। দুর্ঘটনায় আহত একজন যাত্রীকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। পরে সকাল ৯টা ৫৩ মিনিটে অন্য একটি বিমানের মাধ্যমে সাধারণ যাত্রীদের গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
সূত্র: উইয়ন নিউজ