দেশীয় পেমেন্ট গেটওয়ে ‘আমার পে’র ৭৫ দশমিক ২৮৪ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছে পাকিস্তানভিত্তিক ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ‘সিম পেয়ছা’। মালিকানা বদলের পর জুয়া ও পর্ন সাইটের পেমেন্ট গ্রহণের চেষ্টা এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) আর্থিক অপরাধ তদন্ত দল।
জুয়া ও পর্ন সাইটের পেমেন্ট ইস্যুতে আমার পের একাধিক মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট স্থগিত করেছে মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান বিকাশ ও নগদ।
‘নেটিং অফ’ পদ্ধতিতে সিম পেয়ছার বাংলাদেশি ও বৈদেশিক মুদ্রার সমন্বয়কে ‘ডিজিটাল মানি লন্ডারিং’ হিসেবে দেখছেন আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা।
এসব অনিয়ম ও বিতর্কের বিষয়ে এশিয়া পোস্টের লিখিত প্রশ্নের জবাব দেয়নি আমার পে কর্তৃপক্ষ। তবে ফোনে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
১০ কোটিতে মালিকানা বদল
প্রাথমিকভাবে ১ মিলিয়ন ডলার বা ১২ কোটি ৩০ লাখ টাকার বিপরীতে আমার পের ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ শেয়ার কিনতে সমঝোতা চুক্তি করে সিম পেয়ছা হোল্ডিং প্রাইভেট লিমিটেড।
আমার পের মালিকানা প্রতিষ্ঠান সফটটেক ইনোভেশন লিমিটেডের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তির মূল উদ্যোক্তারা পাকিস্তানের নাগরিক। প্রতিষ্ঠানটিও সেখানেই নিবন্ধিত। যদিও আমার পের সঙ্গে চুক্তি করে সিম পেয়ছার সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত অংশটি।
শেষ পর্যন্ত মূল চুক্তির চেয়ে দেড় লাখ ডলার কম খরচে ৭৫ দশমিক ২৮৪ শতাংশ শেয়ার কেনে সিম পেয়ছা। ৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা ১০ কোটি টাকার কিছু বেশিতে আমার পের এই শেয়ার কেনার বিষয়ে গত ৬ জানুয়ারি অনাপত্তি দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক।
সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র পাওয়ার আগেই আমার পেতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে সিম পেয়ছা। বাংলাদেশে নিবন্ধিত সিম পেয়ছা লিমিটেডের মাধ্যমে আমার পের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।
আমার পের অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র এশিয়া পোস্টকে জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রণের প্রথম ধাপে বিভিন্ন বিদেশি প্ল্যাটফর্মের পেমেন্ট নেওয়া শুরু করে সিম পেয়ছা।
মিউজিক প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাই এবং গেমিং সাইট পাবজির পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা দিতে থাকে আমার পে তথা সিম পেয়ছা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবহারকারীরা এমএফএস বা ব্যাংক কার্ড দিয়ে অর্থ পরিশোধের সুযোগ পান। পরে বিভিন্ন জুয়া ও পর্ন সাইটের পেমেন্ট গ্রহণে সেগুলোকে আমার পেতে অনবোর্ড বা নিবন্ধনের উদ্যোগ নেয় সিম পেয়ছা।
বিকাশ-নগদের মার্চেন্ট স্থগিত
বিতর্কিত প্ল্যাটফর্মে লেনদেনের বিষয়টি নজরে আসার পর সেসব মার্চেন্ট স্থগিত করে বিকাশ ও নগদ। আমার পের অন্তত তিনটি সূত্র এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছে, এসব লেনদেনের পরিপ্রেক্ষিতে মার্চেন্ট নিবন্ধনে পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করে বিকাশ ও নগদ।
সিম পেয়ছার নির্দেশে ‘পে লোকো’ নামক জুয়া ও অ্যাডাল্ট সাইট এবং একই রকম আরেক প্ল্যাটফর্ম ‘কোয়ার টেক’-এর পেমেন্ট নিতে নিবন্ধনের চেষ্টা করে আমার পে।
এ ছাড়া জুয়া ও পর্নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ‘ওমাজা’, ‘ওক পে’, ‘কোডা পেমেন্ট’, ‘ইউ সলভ পে’, ‘ভি৩৮০ প্রো’, ‘ক্লিপস পে’, ‘নিউ লাইট’ ও ‘অনলাইন ব্যাট’-এর মতো বেশ কিছু মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে বিকাশ ও নগদ।
গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তার যুক্তিতে বিকাশ ও নগদ আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে দুই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা পৃথকভাবে এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন যে সন্দেহজনক লেনদেন ও নিয়মনীতির বাইরে গিয়ে মার্চেন্ট যুক্ত করার চেষ্টার কারণে অ্যাকাউন্টগুলো নিষ্ক্রিয় বা ফ্ল্যাগড করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগদের এক কর্মকর্তা এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হওয়ার পর আমার পের বেশ কয়েকটি মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়েছে। আমাদের ধারণা, সরাসরি অ্যাকাউন্ট স্থগিত থাকায় তারা ‘সাব মার্চেন্ট’ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। অর্থাৎ ব্যাংকিং সিস্টেমে ভালো বা বৈধ একটি ব্যবসার নাম দেখিয়ে তার আড়ালে অন্য অবৈধ বা নিষিদ্ধ ওয়েবসাইটের অর্থ লেনদেন করা হয়েছে।’
এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানে বিশ্বের বিভিন্ন বৃহৎ জুয়া, পর্ন ও অ্যাডাল্ট সাইটের পেমেন্ট সলিউশন প্রদানকারী ‘পে কাজমা’-তে আমার পের লোগোর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ এখানে ‘পে কাজমা’র সঙ্গে আমার পে তথা সিম পেয়ছার লেনদেনের বিষয়টি স্পষ্ট।
সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে ডিবির আর্থিক অপরাধ তদন্ত দল। গত ২৪ জুন এই দলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ আমিনুল হক বাপ্পির দপ্তর থেকে আমার পেকে ইমেইল করা হয়। এতে কোডা পেমেন্ট ও পাবজি গেমসের সেবার বিপরীতে অর্থ আদায় করা মার্চেন্ট ‘মাইডাস বাই’ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য জানতে চাওয়া হয়।
এডিসি আমিনুল হক এশিয়া পোস্টকে জানান, মার্চেন্টের যাবতীয় তথ্য, দলিল, লেনদেন ও অর্থ সমন্বয়ের তথ্য চেয়েছে ডিবি। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
রেমিট্যান্সের আড়ালে ডিজিটাল মানি লন্ডারিং
২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে স্পটিফাই ও পাবজির মতো বিদেশি প্ল্যাটফর্মের পেমেন্ট নেওয়া শুরু করে আমার পে। বর্তমানে এই দুটি প্ল্যাটফর্ম থেকে মাসে গড়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা লেনদেন হয় আমার পের মাধ্যমে।
নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশি গ্রাহকরা স্থানীয় মুদ্রা ‘টাকা’য় যে বিল পরিশোধ করছেন, ডলার বা বৈদেশিক মুদ্রায় তা স্পটিফাই বা পাবজি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর কথা আমার পের। কিন্তু এই টাকা কখনোই ব্যাংকিং চ্যানেলে বিদেশে যায় না। বরং দেশের টাকা জমা হয় সিম পেয়ছার নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। আর বিদেশে স্পটিফাই বা পাবজির পাওনা টাকা সিম পেয়ছা তাদের সিঙ্গাপুর বা দুবাইয়ের তহবিল থেকে পরিশোধ বা সমন্বয় করে।
ঠিক একই সময়ে আরেকটি জালিয়াতি ঘটে রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে। ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন বা রিয়া মানির মতো আন্তর্জাতিক মাধ্যমের সাহায্যে প্রবাসীরা যে রেমিট্যান্স পাঠান, তা বিদেশে গ্রহণ করে সিম পেয়ছা। কিন্তু সেই ডলার বা বৈদেশিক মুদ্রা তারা বাংলাদেশে পাঠায় না, বিদেশেই রেখে দেয়।
তাহলে দেশে থাকা প্রবাসীর আত্মীয়রা কীভাবে টাকা পান? প্রবাসীদের সেই রেমিট্যান্সের টাকা পরিশোধ করা হয় বাংলাদেশ থেকে স্পটিফাই বা পাবজির বিল বাবদ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত ‘টাকা’ দিয়ে।
সহজ কথায়, দেশের টাকা দেশেই থেকে যাচ্ছে, আর বিদেশের ডলার বিদেশেই রয়ে যাচ্ছে। এর ফলে পুরো লেনদেনটি হুন্ডির মতো কাজ করছে এবং রাষ্ট্র তার প্রাপ্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
মানি লন্ডারিংয়ের ডিজিটাল সংস্করণ
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার পের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বিদেশি মার্চেন্টের অর্থ যদি আমার পের মাধ্যমে সরাসরি সেটেলমেন্ট হতো বা দেশের বাইরে যেত, তাহলে আমার পে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হারে মুনাফা পেত। আমার পের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই অর্থ আসে না। বরং বিদেশি মার্চেন্টের বিপরীতে সংগৃহীত অর্থ বাংলাদেশের ভেতরেই দুটি তপশিলি ব্যাংক ঘুরে আমার পের অপারেশনাল অ্যাকাউন্টে আসে। সেখান থেকে রেমিট্যান্সের অর্থ বেনিফিশিয়ারিদের মাঝে বিতরণ করা হয়।’
বিষয়টিকে ডিজিটাল মানি লন্ডারিং হিসেবে দেখছেন ব্যাংকিং খাত বিশেষজ্ঞ ফারুক মঈনউদ্দিন। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমার পের কার্যক্রমের এই বিষয়টি সঠিক হলে এটা স্রেফ মানি লন্ডারিংয়ের ডিজিটাল সংস্করণ। কারণ এটি ফান্ড ট্রান্সফারের মূলমন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এখানকার টাকা এখানে থাকছে, আবার রেমিট্যান্সের বিপরীতে জমা হওয়া বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে থাকছে। কিন্তু এর সমপরিমাণ অর্থ স্থানীয়ভাবে লেনদেন হচ্ছে। এটাকে ফান্ড ট্রান্সফার বলে না।’
অনুমতি ছাড়াই পেমেন্ট গ্রহণ
বিদেশি মার্চেন্টের সেবার বিপরীতে যে অর্থ আমার পে গ্রহণ করে, সেটির পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন এখনও নেই আমার পে তথা সিম পেয়ছার। এ বিষয়ক ‘পিএসডি-১’ অনুমোদনের আবেদন করেছে আমার পে, যা এখনও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনাধীন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান লিখিত বক্তব্যে এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বিদেশি মার্চেন্টদের (বিশেষত ডিজিটাল সার্ভিস) পক্ষে স্থানীয় মুদ্রায় পেমেন্ট কালেকশনের বিষয়ে আমার পে সম্প্রতি পিএসডি-১, বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করেছে। ওই আবেদন বর্তমানে পর্যালোচনাধীন। আমার পে শুধু টাকায় পেমেন্ট কালেকশনের জন্য কমিশন প্রাপ্য। সিম পেয়ছা বাংলাদেশ এ ধরনের লেনদেনে বিদেশি মার্চেন্টদের স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে কাজ করবে। সেটেলমেন্টের ক্ষেত্রে নেটিং একটি প্রচলিত পদ্ধতি। তবে তাদের প্রস্তাবিত নেটিংয়ের ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি আছে কি না, তা পেমেন্ট সিস্টেম সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট এবং বিএফআইইউ নিয়মিত পরিদর্শনের সময় পরীক্ষা করে দেখবে।’
স্পটিফাই গ্রাহকদের ভোগান্তি
আমার পের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করেও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্পটিফাইয়ের গ্রাহকরা। সাবস্ক্রিপশনের ফি দেওয়ার পরও অনেকেই অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারছেন না। এ সংক্রান্ত অসংখ্য অভিযোগে সয়লাব আমার পের ফেসবুক পেজের কমেন্ট বক্স।
তানজিনা নওরোজ নামের এক গ্রাহক জানান, গত ১৬ জুন নিজের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে আমার পের মাধ্যমে স্পটিফাইয়ের বিল দেন তিনি। কিন্তু ২৯ জুনের মধ্যেও তার অ্যাকাউন্টটি সচল হয়নি। বিকাশ ও স্পটিফাই কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছে, তাদের দিক থেকে কোনো সমস্যা নেই; এর সমাধান করতে পারবে শুধু আমার পে।
নিলয় বড়ুয়া নামের আরেক গ্রাহকের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতি মাসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্পটিফাইয়ের বিল কেটে নিচ্ছে আমার পে। কিন্তু সেবা মিলছে না। বিকাশ ও স্পটিফাই তাকেও আমার পের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। ২৯ জুন পর্যন্ত তানজিনা বা নিলয় কেউই কোনো সমাধান পাননি।
এ বিষয়ে আমার পের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, এই সমস্যার সমাধান করা খুব জটিল। কারণ আমার পে সরাসরি অর্থ প্রদানকারীর তথ্য যাচাই করতে পারে না। যেহেতু আমার পে স্পটিফাইকে সরাসরি কোনো টাকা দেয় না, তাই স্পটিফাইয়ের কাছ থেকে তারা সরাসরি কোনো সমাধানও এনে দিতে পারে না।
গ্রাহকের দেওয়া টাকা চলে যায় সরাসরি সিম পেয়ছার কাছে। কোনো গ্রাহক অভিযোগ করলে সিম পেয়ছা স্পটিফাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা যাচাই করে। এরপর সিম পেয়ছা সমাধান দিলে তবেই গ্রাহক সেবা পান।
অর্থাৎ আমার পে-তে দেওয়া গ্রাহকের টাকা সরাসরি স্পটিফাইতে যায় না। গ্রাহক ভাবছেন, তিনি আমার পেকে টাকা দিয়েছেন, কিন্তু ব্যাক-এন্ডের সব ক্ষমতা মূলত সিম পেয়ছার হাতে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য
আমার পের কার্যক্রম নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি লিখিত বক্তব্য দিয়েছে। সেখানে বলা হয়, যে কোনো ইনবাউন্ড রেমিট্যান্সের বৈদেশিক মুদ্রা অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের বিদেশের নস্ট্রো অ্যাকাউন্টে আসে। রেমিট্যান্স সংগ্রহ বা বিতরণকারী প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট পরিচালনার সুযোগ নেই। সিম পেয়ছা, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন বা রিয়া মানির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করে বাংলাদেশি ব্যাংকের নস্ট্রো অ্যাকাউন্টে জমা দেয়। পরে সেই টাকা বাংলাদেশে সুবিধাভোগীদের কাছে বিতরণ করা হয়।
এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রকৃতপক্ষে আমার পে এমন কোনো নস্ট্রো অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত নয়। যে অপারেশনাল অ্যাকাউন্ট থেকে রেমিট্যান্স বিতরণ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকটি আমার পে বা সিম পেয়ছার জন্য কোনো নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে না।
নাম গোপন রাখার শর্তে ব্যাংকটির এক কর্মকর্তা এশিয়া পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওই ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানায়, আরেকটি তপশিলি ব্যাংক থেকে ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে তারা অর্থ পান। এরপর আমার পে বা সিম পেয়ছার নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রাহকদের মাঝে টাকা বিতরণ করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে স্পটিফাইয়ের মতো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ফি সংগ্রহ করে তা রেমিট্যান্সের সঙ্গে নেট অফ বা সমন্বয়ের সুযোগ নেই। এটি বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ বিধির পরিপন্থি এবং এর সঙ্গে মানি লন্ডারিংয়ের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। কোনো প্রতিষ্ঠান এমনটি করে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যা বলছে আমার পে
এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে আমার পে এবং সিম পেয়ছা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এশিয়া পোস্ট। গত ১৭ জুন ইমেইলে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হয় আমার পের মূল উদ্যোক্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম ইশতিয়াক সরওয়ারকে। একই সঙ্গে ইমেইলে প্রশ্ন পাঠানো হয় বিদেশে অবস্থানরত সিম পেয়ছার গ্লোবাল সিইও ইয়াসির পাশাকে।
ইয়াসির পাশাকে ইমেইলের উত্তর মেলেনি। আর গত ২৯ জুন ফিরতি ইমেইলে সিম পেয়ছার প্রতিনিধি সানজানা ফরিদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন ইশতিয়াক।
আমার পের প্রধান নির্বাহী ও সিম পেয়ছার বাংলাদেশ প্রতিনিধি সানজানা ফরিদের সঙ্গে গত ৩০ জুন ফোনে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। এ সময় তিনি আমার পে এবং সিম পেয়ছার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে ইমেইলে প্রশ্ন পাঠাতে বলেন।
একই দিন তাকে ইমেইলে প্রশ্ন পাঠানো হয়। পরদিন বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে তার মোবাইলে খুদেবার্তা পাঠানো হয়। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।