Image description

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পাকিস্তানের ‘সেফ সিটি’ নামের একটি উদ্যোগকে ‘বাংলাদেশের জন্য অনুকরণীয়’ বললেও দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমে একে ‘সাদা হাতির’ খেতাব দেওয়া হয়েছে। সরকারি অডিট রিপোর্টে এই প্রকল্পের চরম ব্যর্থতা, নজিরবিহীন দুর্নীতি এবং অকার্যকর নজরদারির ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক দ্য ডনে ২০২২ সালের ২৪ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে পাঞ্জাব সেফ সিটি অথরিটি (পিএসসিএ)-কে ‘সাদা হাতি’ উল্লেখ করে বলা হয়, ‘এই প্রকল্পের পেছনে বিপুল ব্যয় করে কোনো ফলাফলই পাওয়া যায়নি।’

বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত ৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র (ইন্টেরিয়র) ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নগর নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ‘সেফ সিটি’ উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে।

 
 

দ্য ডনের একাধিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেফ সিটি অথরিটির চরম অসারতা ধরা পড়ে ২০২২ সালের লাহোরের আনারকলি বাজারে বোমা হামলার সময়। সে সময় সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করতে সরকারি ক্যামেরাগুলো অকেজো থাকায় তদন্তকারীরা শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগতভাবে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ব্যবহার করতে বাধ্য হন।

 

পাকিস্তানি সাংবাদিক আসিফ চৌধুরীর সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘লাহোরের প্রায় ৮ হাজার সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে একপর্যায়ে মাত্র ২ হাজারটি সচল থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া বৃষ্টির সময় জেনারেটর বা ব্যাকআপ সুবিধা না থাকায় ৯২টি ফোরজি টাওয়ার বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে জরুরি সেবাও অচল হয়ে পড়ে। এমনকি পুলিশের কল সেন্টারের ৩৩টি সিস্টেমের হেডফোন পর্যন্ত ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়।’

 

৯০০ কোটি রুপির বেশি ব্যয় করা সত্ত্বেও প্রকল্পটি নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ’ হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

দ্য ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানে ব্যাপক নজরদারি সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ এবং রাজনৈতিক সহিংসতা নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, সীমিত ফরেনসিক সক্ষমতা এবং বিচারিক জটের মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলো কেবল ক্যামেরা বসিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও আইনি সুরক্ষা ছাড়া বিপুল অর্থ ব্যয়ে এই প্রযুক্তি গ্রহণ করায় কেবল একটি অকার্যকর ব্যবস্থার ওপর ‘দামি প্রলেপ’ হিসেবে কাজ করেছে।

প্রকল্পটির বিষয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সচিব, বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইসলামাবাদ, লাহোর, মুলতান ও করাচির ‘সেফ সিটি’ মডেল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের শহরগুলোকে আরও নিরাপদ করতে পাকিস্তান কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা দিতে পারে।

এ ছাড়া বৈঠকে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারি ও দক্ষতা বাড়াতে পুলিশ কর্মকর্তাদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদানে পাকিস্তানের সহযোগিতা কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।