বিশ্বকাপের শেষ ১৬তে আর্জেন্টিনা ও মিসর ম্যাচের ‘বিতর্কিত রেফারিংয়ের’ পক্ষে সাফাই গেয়েছেন ফিফার প্রধান রেফারিং অফিশিয়াল পিয়েরলুইজি কলিনা। তিনি বলেছেন, ‘ফাউল তো ফাউলই। ম্যাচে রেফারিদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা বিশ্বের কারও নেই, এমনকি খোদ ফিফা সভাপতিরও না।’
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ফুটবল নিয়ন্ত্রক সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার অফিশিয়াল সাইটে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্ট্রি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকসের বিচারে ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত টানা ছয়বার বিশ্বের সেরা রেফারির খেতাব পেয়েছেন ৬৬ বছর বয়সী এই রেফারি। তাঁর মতে, আর্জেন্টিনার সঙ্গে ম্যাচে মিসরের দ্বিতীয় গোল বাতিলের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ নিয়মমাফিক হয়েছে।
কলিনা বলেন, ‘ভিএআরের কাজ হলো প্রতিটি গোলের আক্রমণের শুরু থেকে বিল্ড-আপ পর্ব (এপিপি) পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করা। যদি সেখানে কোনো ফাউল শনাক্ত হয় এবং তা গোলের ওপর প্রভাব ফেলে, তবে অন-ফিল্ড রেফারিকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বলা ভিএআরের দায়িত্ব। ফাউল গোলপোস্ট থেকে কত দূরত্বে বা কত সময় আগে হয়েছে, নিয়মে তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।’
ম্যাচের ৯২ মিনিটে মোহাম্মদ সালাহর পেনাল্টি না পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের পায়ে পা দেওয়া নিশ্চিতভাবেই ফাউল। কিন্তু একজন ডিফেন্ডার যদি আগে বল স্পর্শ করেন এবং এরপর খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক শারীরিক সংঘর্ষ হয়, তবে সেটাকে ফাউল গণ্য করা হয় না। রেফারি এবং ভিএআর উভয়ই সালাহ ও আলভারেজের মধ্যকার ঘটনাকে ‘স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংঘর্ষ’ বিবেচনা করেছেন।
ম্যাচ শেষে রেফারিদের দিকে ওঠা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে কলিনা বলেন, ‘গঠনমূলক আলোচনা হতেই পারে, কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের জায়গা এখানে নেই। বিশ্বকাপে রেফারিদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার কারও নেই। এ ধরনের অবান্তর অভিযোগ রেফারি ও তাঁদের পরিবারকে মানসিক ও সামাজিকভাবে ঝুঁকিতে ফেলে।’
তিনি জানান, ফিফার রেফারিদের কেউ প্রভাবিত করতে পারে না এবং খোদ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও কখনো তাঁদের কাজে কোনো হস্তক্ষেপ করেন না।