Image description

হেবা ও দান দলিলে নতুন করে দানকর আরোপ এবং অটোমেটেড চালান (এ-চালান) নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকদিন ধরে হেবা ও দান দলিল রেজিস্ট্রি হচ্ছে না। বিশেষ করে এ-চালান সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা না থাকায় বিক্রি দলিলের সংখ্যাও আগের চেয়ে অর্ধেকে নেমে গেছে বলে জানা গেছে। 

সব মিলিয়ে আগের তুলনায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোয় দলিল রেজিস্ট্রি এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। ফলে রাজস্ব আদায় আগের থেকে অনেক কমে গেছে।

বিদ্যমান অবস্থায় জটিলতা নিরসন ও বিষয়টি সহজ করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত মঙ্গলবার স্পষ্টীকরণ নামে একটি সার্কুলার জারি করেছে। এতে সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখকসহ সেবা গ্রহীতাদের অনেকের ধারণা পরিষ্কার হবে এবং জটিলতার অবসান হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

এনবিআরের সার্কুলারে বলা হয়, সম্প্রতি সম্পত্তি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে দানকর পরিশোধ বিষয়ে আয়কর আইনে বিধান সংযুক্ত করা হয়েছে। যা সবার অবগতির জন্য স্পষ্টীকরণ করা হলো। এতে বলা হয়, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১২৫ এবং উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৬ অনুযায়ী, সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারে উৎসে কর সংগ্রহের বিধান রয়েছে। বর্তমান ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই ১২৫ ধারায় দানকর-বিষয়ক উপধারা (২ক) সংযুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সম্পত্তি হস্তান্তর দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা দানকর আইন, ১৯৯০ এর প্রযোজ্যতা সাপেক্ষে প্রযোজ্য হারে দানকর এ-চালানের মাধ্যমে সংগ্রহ করিবেন। এই উপ-ধারাটি শুধু হেবা বা দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য প্রযোজ্য, ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য প্রযোজ্য নয়। হেবা বা দানের ক্ষেত্রে হেবাকারী বা দানকারীর জন্য দানকর প্রদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই দানকরের হার, পরিমাণ ও অব্যাহতি নির্ধারিত হয় দানকর আইন, ১৯৯০ এর আলোকে। সুতরাং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে হেবা বা দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা দান বা হেবা দাতার কাছ থেকে দানকর আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে দানকর এ-চালানের মাধ্যমে সংগ্রহ করবেন। এক্ষেত্রে, উৎসে কর সংগ্রহের প্রযোজ্যতা নেই। ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দানকর প্রযোজ্য নয়, এক্ষেত্রে নিবন্ধনকারী প্রযোজ্য হারে শুধু উৎসে কর সংগ্রহ নিশ্চিত করবেন। এছাড়া নতুন নিয়মে ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনার রশিদে খাজনা পরিশোধের সন ২০২৬-২৭ না থাকলে দলিল রেজিস্ট্রি করা যাবে না। একইভাবে পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকার বিক্রয় কবলা দলিল, বায়নানামা দলিল, লিজ দলিল, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল রেজিস্ট্রি করতে চাইলে আয়কর রিটার্ন (পিএসআর) দাখিল করতে হবে। অন্যথায় এসব এলাকার উল্লিখিত দলিলগুলো রেজিস্ট্রি করা যাবে না।

জানা গেছে, নতুন নিয়ম অনুসারে দেশের বিভিন্ন কর অঞ্চলে আয়কর ও দানকর জমাদানের অর্থনৈতিক কোড, দলিল রেজিস্ট্রির জন্য সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অনুকূলে অটোমেটেড চালানের (এ-চালান) মাধ্যমে এসব কোডে টাকা জমা করে জমাদানের কপি দলিলের সঙ্গে জমা দিতে হবে।

নতুন নিয়মে জমির দলিল হবে কি না, তা আগে নিশ্চিত হতে বলা হয়েছে।

কারণ এ-চালান হয়ে গেলে পরে কোনো কারণে দলিল রেজিস্ট্রি না হলে এ চালানের টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না।

এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার আমার দেশকে বলেন, নতুন নিয়মে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বিভ্রান্তি দূর করার জন্য তারা বলেন, ছেলেমেয়েদের আগের মতোই সম্পত্তি হেবা করতে পারবেন পিতা-মাতা, কোনো কর লাগবে না। একইভাবে স্বামী-স্ত্রী আগের মতোই পরস্পরকে কোনো কর ছাড়াই হেবা করতে পারবে। আর একই মায়ের পেটের ভাইবোনের মধ্যে সম্পত্তি হেবা করলেও কোনো কর লাগবে না। তবে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দানকরের অন্য বিধানগুলো বহাল থাকবে।