Image description

নওগাঁয় ইট দিয়ে রিকশাচালক বাবাকে হত্যার ঘটনায় মাদকাসক্ত ছেলে সুমনকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) সকালে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বুধবার রাতে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় শহরের সুলতানপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার সুমন শহরের বনানী পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং নিহত মাহতাব সরকারের (৬২) ছেলে।

জানা গেছে, সোমবার ভোরে শোবার ঘর থেকে বাহিরে নিয়ে গিয়ে মারধর করে বাবাকে হত্যা করে সুমন। ঘটনার দিন বাবার পাশে শুয়ে ছিল সুমন। ঘুম না আসায় ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবাকে হত্যা করে সে।

 

পুলিশ এবং নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ছেলে সুমন গত কয়েক বছর আগে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে সংসারে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এ নিয়ে অশান্তি লেগেই থাকত। মাদকাসক্তের কারণে গত এক বছর আগে সুমনকে রেখে তার স্ত্রী সুমা ঢাকায় পোশাক কারখানায় চলে যান। কয়েক দিন আগে সুমা বাড়িতে আসেন। আবারও ঝগড়া হয়। সুমন রাগ করে রোববার রাত ১২টার দিকে তার বাবার কাছে শুয়ে পড়েন। কিন্তু সুমনের ঘুম আসছিল না দেখে বাবা মহাতাব ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া পড়ছিলেন।

এতে আরও রেগে যায় সুমন। পরে ভোর রাতে বাবাকে ঘর থেকে টেনে উঠানে নিয়ে যায়। সেখানে কাঠের বাটাম দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। একপর্যায়ে একটি ইট দিয়ে বাবার মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পরে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে সুমন পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

 

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার দৃষ্টিতে আসার সঙ্গে সঙ্গে জেলা গোয়েন্দা শাখাকে আসামি গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা একটি বিশেষ টিম গঠন করে অভিযান শুরু করে।

তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিবি পুলিশের সদস্যরা নওগাঁ এবং বগুড়ার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে শহরের সুলতানপুর এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুমন ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সব ধরনের অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ সর্বদাই তৎপর রয়েছে।