Image description

চলতি বছরে ১৩ সিটি করপোরেশনে নির্বাচন হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) অনুযায়ী আগামী অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) অথবা পৌরসভা দিয়ে। তবে চলতি বছর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ‘আপাতত’ ভাবছে না সংস্থাটি। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগস্টের মাঝামাঝি তফসিল দিয়ে অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে ইউপি বা পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। চলতি বছর জুড়েই চলবে এ দুই নির্বাচন।

এদিকে সোমবার এক অনুষ্ঠানে সিটি নির্বাচন এ বছর না করার ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) আবদুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রয়োজন অনুযায়ী হবে। সব পেন্ডিং আছে। সব একত্রে করা যাবে না। কোনটা বেশি দরকার? মানুষের উপকার কোথায় বেশি হয়? কোথায় মানুষ অসুবিধা বোধ করছে? সরকারের সঙ্গে এসব বিষয়ে আমাদের কিছু আলাপ-আলোচনা হবে এবং তার ভিত্তিতেই আমরা নির্বাচনের সকল প্রকার তফসিল ঘোষণা করব।’ তিনি বলেন, ‘অক্টোবর সামনে রেখে আমরা কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।

যদি অক্টোবরে নির্বাচন হয় তাহলে ৪৫ দিন আগে শিডিউল ঘোষণা করতে হবে। আমরা সে ব্যাপারে প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইউনিয়ন কাউন্সিল অথবা পৌরসভা থেকে নির্বাচনটা হওয়াটা বাস্তব ক্ষেত্রে অধিক যৌক্তিক, এটা আইনগত যুক্তি। আর সিটি করপোরেশন একটু আলাদা। সিটি করপোরেশন তো চলছে প্রশাসক দিয়ে।’

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, এ বছরে ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে ইসি ব্যস্ত থাকবে। তাই সিটি নির্বাচন এ বছর না করার সম্ভাবনাই বেশি। এ ক্ষেত্রে আগামী বছর সিটি নির্বাচন হবে। তাঁরা বলেন, সাধারণত নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত স্কুল-কলেজে বার্ষিক পরীক্ষা হয়। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে মাধ্যমিক পরীক্ষা হওয়ার ঘোষণা রয়েছে। এ পরীক্ষা শেষেই সিটি ভোট হতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেবে।

ইউপি ছাড়া পৌর, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ২০২৪ সালের আগস্টে অপসারণ করা হয়। এরপর সেখানে প্রশাসক নিয়োগ হয়। স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ পদই এখন নির্বাচন উপযোগী। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম, ২০২২ সালের জুনে কুমিল্লা ও ডিসেম্বরে রংপুর, ২০২৩ সালের মে মাসে গাজীপুর, জুনে খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের ভোট হয়।

সবশেষ ২০২৪ সালের মার্চে ময়মনসিংহ সিটিতে ভোট হয়েছে। এ বছর মে মাসে বগুড়া সিটি করপোরেশন গঠিত হয়েছে।

ইউপি ভোট হয়েছে ২০২১ সালের এপ্রিল, নভেম্বর, ডিসেম্বর এবং ২০২২ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সাত ধাপে। এবারও ইউনিয়ন পরিষদের ভোট ধাপে ধাপে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এক ধাপে ২০০, ২৫০ বা ৩০০টিতে অনুষ্ঠিত হবে। পৌরসভায় ভোট হয়েছে ২০২০ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২১ সালের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিলে ছয় ধাপে। মাঠ পযায়ে ইসির তথ্যানুযায়ী, ৩২০ পৌরসভা এখন নির্বাচন উপযোগী; বাকিগুলো সীমানা ও আইনি জটিলতায় উপযোগী নয়। এবারও এ বছরের সেপ্টেম্বর থেকে আগামী বছরের মার্চকে ভোটের জন্য উপযুক্ত বিবেচনা করে প্রস্তাব রাখছে ইসি সচিবালয়। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে জুনের মধ্যে চার ধাপে এবং বিভিন্ন ধাপে স্থগিতগুলো নিয়ে আরেকটি বিশেষ ধাপ ?মিলিয়ে পৌনে পাঁচ শ উপজেলার ভোট হয়।

ইসি সূত্র জানিয়েছেন, নির্বাচন উপযোগী ৪ হাজার ৫৮১ ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১ জেলা পরিষদ, ৪৯৫ উপজেলা পরিষদ, ৩৩০ পৌরসভা, ১৩ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদের বিষয়ে ইতোমধ্যে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ভোটের প্রস্তুতির লক্ষ্যে আচরণবিধি হালনাগাদ করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সিটি, পৌর, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের জন্য আলাদা আচরণবিধির খসড়ার বিষয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত স্টেকহোল্ডারদের মতামত নিয়েছে ইসি। সেই মতামতের আলোকে আচরণবিধিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে।