Image description

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পুনর্বহালের দাবিতে নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সোমবার (৬ জুলাই) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামি ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন ‘ইসলামি ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর আহ্বায়ক নুরনবী মানিক।

তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে সুশাসন, স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তাসহ যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে গত ২৪ মে থেকে আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি। আমরা মানববন্ধন করেছি, অর্থ মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি পেশ করেছি, সংবাদ সম্মেলন করেছি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের উপযোগী একটি পর্ষদ গঠন ও ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের মাধ্যমে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা ও স্বাভাবিক লেনদেনের পরিবেশ তৈরি করার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এত দিনে শুধু ফ্যাসিস্টদের দোসর, ব্যাংক লুটকারী এস আলমের সহযোগী খুরশিদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ থেকে প্রত্যাহার করেছে। সংসদে মাননীয় অর্থমন্ত্রী ব্যাংক কোম্পানি আইন থেকে ১৮/ক ধারা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও সংসদে বিল উত্থাপন করে তা এখনো বাতিল করা হয়নি।’

নুরনবী মানিক আরও বলেন, ‘গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এসেছে, কিন্তু ব্যাংকটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আগে আমরা যে সাত দফা দাবি পেশ করেছি, তার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরে আসেনি।’

সংবাদ সম্মেলনে সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন, প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধার, লুটকারীদের বিচার ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পুনর্বহালের দাবিতে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

গ্রাহকদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে জানিয়ে নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করেন নুরনবী মানিক। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—আগামী ৯ জুলাই ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত বিক্ষোভ, ১৪ জুলাই জেলা শহরের শাখাগুলোর সামনে অবস্থান এবং ১৮ জুলাই শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে জাতীয় গ্রাহক মহাসমাবেশ।