বিশ্ব ব্যাংক ও এডিবির অর্থায়নের তিনটি গ্যাস প্রিপেইড মিটার প্রকল্প বাতিল প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, নতুন কোনো ঋণের ফাঁদ (ডেবট ট্র্যাপ) তৈরি করতে চাই না। জনস্বার্থেই এই প্রকল্পগুলো বাতিল করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ক্যাব)- এর নাগরিক সংলাপে একথা বলেন তিনি। ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ শীর্ষক এই সংলাপ হয়।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, লাইন গ্যাস নেই, নতুন কোনো কূপ খনন বা গ্যাস উত্তোলন করা হয়নি। অথচ নতুন করে কোটি কোটি টাকা ঋণের বোঝা বাড়িয়ে প্রিপেইড মিটার লাগানো হচ্ছে। এ যেন ঘোড়া নাই, চাবুক কেনার মতো অবস্থা।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে জনস্বার্থে কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি। সবই ছিল ব্যক্তিগত লাভের জন্য। তারা দেশের জ্বালানি খাতকে ধ্বংস করে গেছে। দেশের মানুষ অলরেডি ব্লিডিং করছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, প্রত্যেকের মাথার ওপর প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের দায় চেপে আছে। আমি আর নতুন কোনো ঋণের ফাঁদ তৈরি করতে চাই না।
তিনি মন্ত্রী বলেন, গ্রামে লোডশেডিং থাকলেও তা আগের চেয়ে কম। সেখানে যে লোডশেডিং হচ্ছে, এটা বেশির ভাগ টেকনিক্যাল (কারিগরি) কারণে, বিদ্যুতের শর্টেজের (ঘাটতি) জন্য নয়। এটা আমরা ঠিক করার চেষ্টা করছি।
ইকবাল হাসান বলেন, শতভাগ বিদ্যুতায়ন করতে গিয়ে অপরিকল্পিতভাবে যে লাইনগুলো করা হয়েছে, সেখানে যখনই লোড বেশি দেওয়া হয়, তখন লাইনগুলোতে সমস্যা হয় এবং ওই এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ চলে যায়। এ সমস্যা দূর হতে সময় লাগবে। সমস্যার সমাধানে ইতোমধ্যে পল্লী বিদ্যুৎকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি আমদানি কমাতে পারলেই সরকার বিপুল অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় করতে সক্ষম হবে। এই অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া দায় মেটানো সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে আগামী ৫ বছরে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের জন্য কৃষিজমি ব্যবহারের ব্যাপারে সরকার সতর্ক জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এই কারণে প্রকল্পের জন্য পতিত বা অনাবাদি জমিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ক্যাব সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে সংলাপে বক্তৃতা করেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির প্রমুখ।