চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে আবারও ১২ জনকে ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়দের তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার চকপাড়া বিওপির বিপরীতে ভারতের মুসলিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
৫৯ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, রাত ১১টার দিকে আলো নিভিয়ে ১২ জন নারী-পুরুষকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শত শত গ্রামবাসীও সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেন। এতে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হলে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের আবার ভারতের ভেতরে নিয়ে যায়। গতকাল শনিবার ভোরে জানা যায়, বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের ভারতের মালদা হোল্ডার সেন্টারের উদ্দেশে নিয়ে গেছে।
৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিজিবি সব ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সীমান্তে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সতর্কতা আরও জোরদার করেছে। এ ধরনের কার্যক্রম প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এর আগে শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্ত দিয়ে গত ১৯ জুন গভীর রাতে সীমান্ত বাতি নিভিয়ে নারী-শিশুসহ ২০ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। প্রতিরোধের মুখে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
যুবককে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বিএসএফ। গত শুক্রবার বিকেল ও সন্ধ্যায় দুইবার পাটগ্রাম ইউনিয়নের জিমনাল নয়াবাড়ী সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি একই সীমান্ত দিয়ে ওই যুবককে ফেরত পাঠায়।
জানা গেছে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮১৮ নম্বরের ৫ নম্বর সাবপিলারের একদিকে বাংলাদেশের পাটগ্রাম সদর ইউনিয়নের জিমনাল নয়াবাড়ী সীমান্ত এলাকা। অন্যদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার আন্দারবাড়ী সীমান্ত এলাকা। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ১৭৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বাগডোকড়া কোম্পানির টহল দলের সদস্যরা কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে এক যুবককে জোর করে বাংলাদেশের দিকে পুশইনের চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পাটগ্রাম ক্যাম্পের কমান্ডারকে জানান এবং ওই যুবককে তাড়িয়ে দেয়।
এরপর স্থানীয় লোকজনসহ পাহারায় থাকেন বিজিবি সদস্যরা। সন্ধ্যায় বিএসএফ আবারও তাকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করলে বিজিবি ও স্থানীয়রা প্রতিহত করেন। সর্বশেষ ওই যুবক ভারতের ১৫০ গজ অভ্যন্তর শূন্যরেখায় অবস্থান নিয়েছেন।
পাটগ্রাম ও কুচলিবাড়ী বিজিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিএসএফকে বলা হয়েছে, তাঁকে যেন ফিরিয়ে নিয়ে যায়।