Image description

বাজেট প্রস্তাবনার পর নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও সম্প্রতি কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে ব্রয়লার মুরগি, পোলাও চাল, টমেটো আর নতুন শিমের দাম এখন আকাশচুম্বী। বাজারে আগেই কয়েক প্রজাতির চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। যা আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে স্বস্তি মিলছে কাঁচা তরকারির বাজারে। সবজির দাম বেশির ভাগই হাতের নাগালে। অর্থাৎ, ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। পিয়াজ, রসুনসহ মুদি পণ্যের মতো অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা। তবে সোনালি মুরগির দাম পরিবর্তিত আছে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেড়েছে। তারা বলছেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে অনেক খামারে মুরগি মারা গেছে, যার প্রভাব পড়েছে সরবরাহে। আবার কোরবানির ঈদকে ঘিরে ব্রয়লার বা অন্যান্য প্রজাতির মুরগির চাহিদা অনেকটাই কমে যায়। ফলে কম দামেই বিক্রি হয়েছে মুরগি।

মগবাজারের মুরগি ব্যবসায়ী মো. মঈনুদ্দিন বলেন, চাহিদামতো মুরগি পাওয়া যাচ্ছে না। যে পরিমাণ মুরগি ঢাকায় ঢুকছে, তারও বেশি চাহিদা আছে। তা ছাড়া, ঈদের পর পর মুরগির দাম অনেক কম ছিল, ব্যবসায়ীরা লোকসানে বিক্রি করেছে। একই বাজারের মোহাম্মদ আখতার হোসেন বলেন, ব্রয়লারের দাম বেড়েছে। তবে প্রতি শুক্রবারেই দাম একটু বেশি বেড়ে যায়। এর কারণ হচ্ছে, এদিন বেশি বিক্রি হয়। শুক্রবার গেলে আবার কিছুটা কমে যায়। এটাই নিয়ম। কাওরান বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী সেলিম বলেন, ব্রয়লার আমদানিই কম। আমরা পাচ্ছি না চাহিদামতো। তাই গত ৪/৫ দিন ধরে কেজিতে ৩০ টাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে।

মুদিপণ্যের দাম অপরিবর্তিত, পোলাও চালের দাম আকাশচুম্বী
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপণ্যের মধ্যে মুদিপণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিশেষ করে পিয়াজ-রসুন থেকে শুরু করে মসলা; গত দুই সপ্তাহ একই দামেই বিক্রি হচ্ছে। সামান্য বেড়েছে আলুর দাম। বিভিন্ন জাতের পোলাও চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ থেকে ৮০ টাকা। আর বস্তাপ্রতি বেড়েছে ৯০০ থেকে ২০০০ টাকা। ঈদুল আজহার আগ থেকেই এই পোলাও চালে লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের নাভিশ্বাস উঠেছে। বিশেষ করে যারা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান বা মেজবানের আয়োজন করছেন, তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। ব্যসায়ীরা বলছেন, মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে চালের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং বেশি মুনাফা করছেন।
নিত্যপণ্যের মধ্যে মুদিপণ্যের দাম অপরিবর্তিত থাকার কথা জানিয়ে মগবাজার কাঁচাবাজারের কিশোরগঞ্জ স্টোরের সাব্বির রহমান বলেন, মুদিপণ্যের মধ্যে আলু ছাড়া অন্য কোনো কিছুর দাম বাড়েনি। আলু ২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করতাম, এখন ৩০ টাকা। বাকি সবকিছুই আগের দাম। অর্থাৎ অন্তত দুই সপ্তাহের মধ্যে কিছুর দাম বাড়েনি। তবে দাম বাড়বে এমন আভাস পাচ্ছি।

কাওরান বাজারের নোয়াখালী রাইচ ট্রেডার্সের শাওন বলেন, পোলাও চাল বস্তায় ৪০০ টাকা বেড়েছে। আর কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। এখন আমরা ৮ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করছি বস্তা। গত ছয় মাসে টানা পোলাও চালের দাম বাড়ছেই। ছয় মাসে ৭০ থেকে ৮০ টাকা বেড়েছে। প্রতি মাসে ১০ থেকে ১৫ টাকা করে বাড়ে। এই বিক্রেতা বলেন, যদ্দূর জানি, বাইরে রপ্তানি হচ্ছে পোলাও’র চাল। তাই দেশে সরবরাহ কমছে। দামও বাড়ছে।