Image description

পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রুখতে অভিযান জোরদার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গত ২৪ জুন থেকে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে সেনাবাহিনী। সবশেষ বৃহস্পতিবার বান্দরবানের রেতলাং এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শুক্রবার টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘হঠাৎ করে পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠনগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধির পেছনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা ইস্যু রয়েছে। পাহাড়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করে একটি পক্ষ দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। সেই তৎপরতা রুখতেই সেনাবাহিনী কাজ করছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে।’ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে, গত ২২ জুন টাইমস অব বাংলাদেশে ইউপিডিএফের তৎপরতা বৃদ্ধি: পাহাড়ে সশস্ত্র কর্মকাণ্ড পুনরুত্থানের শঙ্কা শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেখানে ইউপিডিএফ নতুন করে সদস্য সংগ্রহ, সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্ত্র প্রশিক্ষণ এবং সংগঠন পুনর্গঠনের কার্যক্রম জোরদারের তথ্য দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনের পর ২৪ জুন থেকে অভিযানে নামে সেনাবাহিনী।

রেতলাংয়ে কেএনএ-ইউপিডিএফের যৌথ আস্তানায় অভিযান

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, গত বৃহস্পতিবার বান্দরবান রিজিয়নের দুর্গম রেতলাং এলাকায় কেএনএ ও ইউপিডিএফের (মূল) একটি যৌথ গোপন আস্তানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে নিরাপত্তা বাহিনী।
বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। বর্তমানে আশপাশের এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আভিযানিক নিরাপত্তার স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছে আইএসপিআর। একই সঙ্গে বিভ্রান্তিকর ও অপপ্রচারমূলক তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

এক সপ্তাহে একাধিক অভিযান

এর আগে ২৪ জুন খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও রামগড় উপজেলার পৃথক অভিযানে সশস্ত্র সংগঠনের এক সদস্য নিহত হন। পানছড়ির বরকলক এলাকায় অভিযানের সময় সংগঠনের দুই সদস্য দুটি একে-৪৭ রাইফেল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৩২ রাউন্ড গুলিসহ আত্মসমর্পণ করেন।

অন্যদিকে, রামগড়ের হাজাছড়া এলাকায় আরেক অভিযানে এক সশস্ত্র সদস্য নিহত হন। সেখান থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল, একটি ম্যাগাজিন, একটি পাইপগান ও ২৭ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

আইএসপিআর জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সব জাতিগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

টাইমসের প্রতিবেদনের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন

গত ২২ জুন টাইমস অব বাংলাদেশে ‘ইউপিডিএফের তৎপরতা বৃদ্ধি: পাহাড়ে সশস্ত্র কর্মকাণ্ড পুনরুত্থানের শঙ্কা’ শিরোনামে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নিরাপত্তা সংস্থার একাধিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছিল, ইউপিডিএফ নতুন করে সদস্য সংগ্রহ, সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্ত্র প্রশিক্ষণ এবং সংগঠন পুনর্গঠনের কার্যক্রম জোরদার করছে। প্রতিবেদনে আরও উঠে আসে, সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা দেশের বাইরে অবস্থান করলেও অভ্যন্তরে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পাহাড়ের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ শুরু করে এবং ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করছে।

সাম্প্রতিক ধারাবাহিক অভিযান প্রমাণ করছে, পার্বত্য অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পুনরুত্থান ঠেকাতে এখন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা, দুই পর্যায়েই সমন্বিত কৌশল নিয়েছে সরকার।