Image description

২৫ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে করা দুদকের মামলার অগ্রগতি না হওয়া, সরকারি দলের সাথে সম্ভাব্য ‘আন্ডারটেবিল সমঝোতা’ এবং গ্রুপটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কেউ বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে কথা বললে তারা তাদের মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম ব্যবহার করে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো শুরু করে। হাসনাতের এই বক্তব্যের পর থেকে গত চারদিনে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে বসুন্ধরার মালিকানাধীন ৫টি সংবাদমাধ্যমে সংঘবদ্ধভাবে  ধারাবাহিক সমন্বিত নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। 

দ্য ডিসেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখেছে, হাসনাত আব্দুল্লাহ এর সংসদের বক্তৃতার পর গত ২৮ জুন সকাল ৭টা থেকে আজ ১ জুলাই দুপুর ৩টা পর্যন্ত মোট ৪ দিনে (৮০ ঘণ্টায়) বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন পাঁচটি সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, নিউজ ২৪, ডেইলি সান এবং বাংলানিউজ২৪ ডটকমে হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে সর্বমোট ৯৯টি নেতিবাচক কন্টেন্ট প্রচার করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই হুবহু একই প্রতিবেদন অল্প সময়ের ব্যবধানে ৫টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

সংসদে কী বলেছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন “আমরা দেখেছি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বসুন্ধরার পুত্র আনভির দেশে ঢোকার সাহস পায় নাই। কিন্তু এই সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পরে আমরা দেখেছি সদর্পে এই সোবহানের পুত্র, এই ধর্ষক, দেশে ঢুকেছে।”

তিনি সেখানে বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন বসুন্ধরার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এই মামলার কি অগ্রগতি হয়েছে সেটা আমরা জানতে চাই। আমরা জানতে চাই আন্ডারটেবিল কোন ধরনের সমঝোতা হয়েছে কিনা। যদি সমঝোতা না হয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধাটা কোথায় সেটা বাংলাদেশের মানুষের সামনে প্রকাশ করতে হবে।”

হাসনাত আরও বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বসুন্ধরা গ্রুপ যারা বিদেশে টাকা পাচার করেছে, মানুষের সম্পদ দখল করেছে এবং মিডিয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের গুম খুন হত্যাকে যারা বৈধতা দিয়েছে তাদের খুঁটির জোর কোথায় সেটা আমরা জানতে চাই।” “ সরকার দলের অনেকেই মাঝে মাঝে আমাদের কাছে এসে দু:খ প্রকাশ করে যে আসলে আমরা জেল খেটেছি, আমরা কষ্ট করেছি, আমাদের সন্তানদের সাথে আমরা থাকতে পারিনাই, কিন্তু আমাদের দলেরই কিছু কিছু মানুষ বসুন্ধরার এডভাইজর হিসেবে কাজ করে। তাদের মিডিয়ার এডভাইজর হিসেবে কাজ করে।”

“যেই মিডিয়া তারেক রহমানকে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশদ্রোহী হিসেবে ফ্রেমিং করেছে, সেই মিডিয়ার এডভাইজর হিসেবে আজকে বসুন্ধরা গ্রুপে আজকে এই সংসদ সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের অনেকেই তারা সেখানে যুক্ত”, বলেন তিনি। 

“এই বসুন্ধরার বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে মিডিয়া লেলিয়ে দেওয়া হয়।”

“এতদিন ধরে যারা মিডিয়াকে, যারা নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার মাধ্যমে এই ফ্যাসিবাদের পক্ষে যারা বয়ান উৎপাদন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে উনি সুবিচার নিশ্চিত করবেন” তিনি দাবি করেন। 

৪ দিনে ৫ মিডিয়ায় ৯৯টি কন্টেন্ট

দ্য ডিসেন্টের এই বিশ্লেষণে শুধুমাত্র বসুন্ধরা গ্রুপের পাঁচটি সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠ, ডেইলি সান, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪ ও নিউজ২৪-এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত কনটেন্ট পর্যালোচনা করা হয়েছে। কনটেন্ট সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান করা হয়েছে। এই বিশ্লেষণের আওতায় প্রিন্ট সংস্করণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

২৮ জুন সকাল ৭টা ৪ মিনিটে কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটে “হাসনাত আবদুল্লাহ : সাদা সাদা, কালা কালা” শিরোনামে প্রথম প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। এর আট মিনিট পর, সকাল ৭টা ১২ মিনিটে একই বিষয় নিয়ে একটি ফটোকার্ডও প্রকাশ করা হয়।

ওই সময় থেকে ১ জুলাই দুপুর ২টা পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় ৭৯ ঘণ্টায়, বসুন্ধরা গ্রুপের এই পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে হাসনাত আবদুল্লাহকে নিয়ে মোট ৯৯টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়।

পাঁচটি সংবাদমাধ্যমের মধ্যে কালের কণ্ঠে সর্বাধিক ৭৬টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে ছিল ৩৫টি ভিডিও (ইউটিউব, ওয়েবসাইট ও ফেসবুক মিলিয়ে),১১টি সংবাদ প্রতিবেদন এবং ৩০টি ফটোকার্ড।

কোন সংবাদমাধ্যমে কতটি কনটেন্ট?

সংবাদমাধ্যমের নাম

কনটেন্টের সংখ্যা

কালের কণ্ঠ

৭৬ 

ডেইলি সান

বাংলাদেশ প্রতিদিন

বাংলানিউজ২৪

নিউজ২৪

সর্বমোট

৯৯

 

ডেইলি সানে মোট ৯টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়, যার মধ্যে ছিল ৬টি সংবাদ ও ৩টি ফটোকার্ড। 

বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত হয় মোট ৫টি কনটেন্ট, যার মধ্যে ছিল ৩টি সংবাদ ও ২টি ফটোকার্ড। 

বাংলানিউজ২৪ এ প্রকাশিত হয় মোট ৫টি কনটেন্ট, যার মধ্যে ছিল ৪টি সংবাদ ও ১টি ফটোকার্ড। 

অন্যদিকে নিউজ২৪ এ একই সময়পর্বে হাসনাত আব্দুল্লাহকে নিয়ে ৪টি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

দিনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি কনটেন্ট প্রকাশিত হয় ২৮ জুন। সেদিন পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে মিলিয়ে মোট ৩৭টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়। পরদিন ২৯ জুন প্রকাশিত হয় ১৮টি কনটেন্ট। আর ৩০ জুন প্রকাশিত হয় ২৭টি কনটেন্ট। ১ জুলাই প্রতিবেদন লেখার সময় (দুপুর ২টা) পর্যন্ত আরও ১৭টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়েছে।

 

৯৯টি কনটেন্টে ঘুরেফিরে ৯টি ‘খবর’ 

২৮ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত প্রকাশিত ৯৯টি কনটেন্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, এগুলোর বড় অংশই কোনো স্বতন্ত্র প্রতিবেদন নয়। একই বিষয় বা অভিযোগকে বিভিন্ন ফরম্যাটে সংবাদ, ভিডিও, ইংরেজি অনুবাদ এবং ফটোকার্ড হিসেবে বসুন্ধরা গ্রুপের পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে একাধিকবার প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে অন্তত ৯টি স্বতন্ত্র বা মূল কনটেন্ট চিহ্নিত করা যায়, যেগুলো খণ্ডিত করেই অধিকাংশ কনটেন্ট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো  "হাসনাত আবদুল্লাহ: সাদা সাদা, কালা কালা", "মব বিতর্কে হাসনাত আবদুল্লাহ", "হাসনাতের দাপটে আক্রান্ত এক দিনমজুর পরিবার", মো. তারেক রহমানের একটি ভিডিও বক্তব্য, রাশেদ খানের বক্তব্য, "হাসনাত আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দিয়েছিল" শিরোনামের ভিডিও এবং "চেতনাবোধ না থাকলে মানুষ হাসনাতদের প্রত্যাখ্যান করবে" শিরোনামের ভিডিও। পরবর্তীতে এর সাথে নতুন করে যুক্ত করা হয় বিএনপি নেতা এম এ আউয়াল খানের বক্তব্য ("নেতারা শুধু জয় দেখেছেন...") এবং নির্দিষ্ট প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে "মসজিদের অর্থ বরাদ্দে ই-টেন্ডার নৈরাজ্য" সংক্রান্ত সংবাদ।

এই নয়টি মূল কনটেন্ট থেকেই বিভিন্ন শিরোনাম, ভাষা, প্ল্যাটফর্ম ও ফরম্যাটে বাকি কনটেন্টগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।

 

দিনভিত্তিক প্রচার

২৮ জুন: এই দিন সবচেয়ে বেশি (৩৭টি) কনটেন্ট প্রকাশিত হয়। এদিন একই শিরোনাম, একই বিষয় এবং একই কনটেন্ট একাধিক সংবাদমাধ্যম ও প্ল্যাটফর্মে পুনঃপ্রচার করা হয়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য "হাসনাত আবদুল্লাহ : সাদা সাদা, কালা কালা" শিরোনামে কালের কণ্ঠ, ডেইলি সান, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪ ও নিউজ২৪ বসুন্ধরা গ্রুপের এই পাঁচটি সংবাদমাধ্যমেই সংবাদ প্রকাশিত হয়। একই শিরোনাম কালের কণ্ঠে আবার ফটোকার্ড হিসেবেও প্রকাশ করা হয়।

একই দিনে "হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ" ভিডিওটি কালের কণ্ঠের ইউটিউব, ওয়েবসাইট ও ফেসবুক এই তিনটি প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হয়। এছাড়া "হাসনাত আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দিয়েছিল" এবং "হাসনাত ও হান্নান মাসউদ বাজেট বাদ দিয়ে চানাচুর মার্কা আলোচনা করেছেন" এই দুটি ভিডিও ইউটিউব ও ফেসবুকে প্রকাশিত হয়।

২৯ জুন: আগের দিন প্রকাশিত একই অভিযোগ ও বক্তব্য নতুন প্ল্যাটফর্ম ও নতুন সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রচার করা হয়। "হাসনাতের দাপটে আক্রান্ত এক দিনমজুর পরিবার" শিরোনামটি কালের কণ্ঠে ইউটিউব ভিডিও, সংবাদ ও ফটোকার্ড এই তিনটি ফরম্যাটে প্রকাশ করা হয়।

২৮ জুন কালের কণ্ঠে প্রকাশিত "স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণকারী হাসনাত-সারজিসরা ৬০০ শিশুর মৃত্যুর পেছনে দায়ী : মো. তারেক" শিরোনামটি পরদিন (২৯ জুন) বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪ ও নিউজ২৪-এ প্রকাশিত হয়। একই দিনে ২৮ জুনের "হাসনাত ও হান্নান মাসউদ বাজেট বাদ দিয়ে চানাচুর মার্কা আলোচনা করেছেন" ভিডিওটি কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটেও নতুন করে প্রকাশ করা হয়।

৩০ জুন: এদিনও একই শিরোনাম ও একই ধরনের কনটেন্ট একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। "মব বিতর্কে হাসনাত আবদুল্লাহ" শিরোনামের সংবাদটি কালের কণ্ঠ, বাংলানিউজ২৪, নিউজ২৪ এবং ডেইলি সানের বাংলা সংস্করণে প্রকাশিত হয়।

ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সানে "Hasnat Abdullah: White outside, black inside", "Day labourer's family alleges brutal assault by supporters of Hasnat Abdullah" এবং "Tale of Hasnat Abdullah’s rise as a ‘mob emperor’" এই তিনটি শিরোনামে সংবাদ ও ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়। 

একই সঙ্গে "Tale of Hasnat Abdullah's rise as a 'mob emperor'" শিরোনামে বাংলাদেশ প্রতিদিনেও সংবাদটি প্রকাশিত হয়। এছাড়া এই দিন নতুন করে বিএনপি নেতা এম এ আউয়ালের বক্তব্য নিয়ে "এনসিপির নেতারা শুধু জয় দেখেছেন, পরাজয় দেখেননি : আউয়াল খান" শিরোনামে কালের কণ্ঠে সংবাদ, একাধিক ভিডিও (ইউটিউব ও ফেসবুক) এবং ফটোকার্ড প্রচার করা হয়।

১ জুলাই: সর্বশেষ এই দিনে প্রচারণায় আরও কয়েকটি নতুন অভিযোগ যুক্ত করা হয়। বিশেষ করে "মসজিদের অর্থ বরাদ্দে হাসনাতের ই-টেন্ডার নৈরাজ্য" শিরোনামে কালের কণ্ঠে একটি সংবাদ, দুটি ভিডিও (ইউটিউব ও ফেসবুক) এবং অন্তত ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়।

পাশাপাশি "‘খেজুরের মতো হাসনাতের কাছে ল্যাম্পপোস্টসহ অন্যান্য কাজের হিসাব চান এলাকাবাসী’" শিরোনামের সংবাদটি কালের কণ্ঠ ও বাংলানিউজ২৪-এ প্রকাশিত হয় এবং কালের কণ্ঠে এ নিয়ে একাধিক ফটোকার্ড ছড়ানো হয়। 

এছাড়া "হাসনাত-সারজিস কোন অতিগোপনীয় অভিযোগ নিয়ে দুদকে গিয়েছিলেন, তদন্ত চান রাশেদ খান" শিরোনামেও কালের কণ্ঠে সংবাদ ও ফটোকার্ড প্রকাশিত হয়। এদিন আগের "মব বিতর্কে হাসনাত আবদুল্লাহ" সংবাদটি নিউজ২৪-এ পুনরায় প্রচার করা হয়।

 

প্রচারণার নেতৃত্বে কালের কণ্ঠ

পর্যালোচনায় দেখা যায়, বসুন্ধরা গ্রুপের পাঁচটি সংবাদমাধ্যমের মধ্যে হাসনাত আব্দুল্লাহকে ঘিরে প্রকাশিত কনটেন্টের প্রধান উৎস বা কেন্দ্র ছিল কালের কণ্ঠ। ২৮ জুন থেকে ১ জুলাই দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রকাশিত মোট ৯৯টি কনটেন্টের মধ্যে ৭৬টিই প্রকাশ করেছে কালের কণ্ঠ। অর্থাৎ, এই সময়পর্বে গ্রুপটির মোট কনটেন্টের প্রায় চার ভাগের তিন ভাগই এসেছে একটি সংবাদমাধ্যম থেকে।

কালের কণ্ঠ টেক্সট প্রতিবেদনের তুলনায় ভিজ্যুয়াল কনটেন্টে বেশি প্রকাশ করেছে। ৭৬টি কনটেন্টের মধ্যে ছিল ৩৫টি ভিডিও (ইউটিউব, ফেসবুক ও ওয়েবসাইট মিলিয়ে), ৩০টি ফটোকার্ড এবং ১১টি সংবাদ প্রতিবেদন।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত কনটেন্টগুলোর পর্যালোচনায় তিনটি ধারাবাহিক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

প্রথমত, একই কনটেন্ট একাধিক প্ল্যাটফর্মে একযোগে প্রকাশ করা হয়েছে। একটি ভিডিও একই দিনে ইউটিউব, ফেসবুক এবং ওয়েবসাইটে পৃথকভাবে প্রকাশ করে কনটেন্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। 

যেমন, ২৮ জুন প্রকাশিত ‘হাসনাত ত্রাণের হিসাবও দিতে পারে নাই: তারেক’ এবং ৩০ জুন প্রকাশিত ‘হাসনাত আবদুল্লাহর ব্যাপারে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন বিএনপি নেতা এম এ আউয়াল’ উভয় ভিডিওই একই সময়ে একাধিক প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হয়।

দ্বিতীয়ত, একটি সংবাদ বা বক্তব্যকে ভেঙে একাধিক স্বতন্ত্র কনটেন্টে রূপ দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। 

বিশেষ করে ফটোকার্ডে একই বক্তব্যের বিভিন্ন অংশ আলাদা শিরোনাম ও ক্যাপশন দিয়ে পুনরায় প্রচার করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, ১ জুলাই ‘মসজিদের অর্থ বরাদ্দে হাসনাতের ই-টেন্ডার নৈরাজ্য’ বিষয়টি নিয়ে অন্তত ছয়টি পৃথক ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়। একইভাবে ২৮ জুন মো. তারেক রহমানের বক্তব্য থেকেও একাধিক ফটোকার্ড তৈরি করা হয়েছে।

তৃতীয়ত, কালের কণ্ঠকে এই কনটেন্ট প্রবাহের প্রাথমিক উৎস হিসেবে দেখা যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রথমে কালের কণ্ঠে সংবাদ, ভিডিও বা ফটোকার্ড প্রকাশিত হয়েছে। 

পরে একই শিরোনাম, একই বক্তব্য বা একই তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট ডেইলি সান, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বাংলানিউজ২৪ ও নিউজ২৪-এ প্রকাশ করা হয়েছে। তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, একাধিক কনটেন্ট প্রথমে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হওয়ার পর একই গ্রুপের অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে প্রচারিত হয়েছে। ফলে বসুন্ধরা গ্রুপের এই সমন্বিত কনটেন্ট প্রবাহে কালের কণ্ঠ কার্যত মূল ফিডার বা প্রাথমিক উৎসের ভূমিকা পালন করেছে।

 

কালের কণ্ঠের কনটেন্ট টাইপ

তারিখ 

কনটেন্ট সংখ্যা

ভিডিও (ইউটিউব, ফেসবুক, ওয়েব)

৩৫

ফটোকার্ড

৩০

সংবাদ প্রতিবেদন 

১১

সর্বমোট 

৭৬

 

তিন রাজনীতিকের বক্তব্য দিয়ে ৩৩টি কনটেন্ট!

গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এবং আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমানের পাশাপাশি বিএনপি নেতা এম এ আউয়াল খানের বক্তব্যও এই চার দিনের কনটেন্টে উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।

 বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই তিন রাজনীতিবিদের উদ্ধৃতি দিয়ে সর্বমোট ৩৩টি কনটেন্ট প্রচার করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে মো. তারেক রহমানের বক্তব্য। তাকে উদ্ধৃত করে মোট ১৮টি কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে কালের কণ্ঠে ১৪টি (ইউটিউব-ফেসবুক ভিডিও, সংবাদ ও ফটোকার্ড), বাংলাদেশ প্রতিদিনে ১টি, বাংলানিউজ২৪-এ ২টি (সংবাদ ও ফটোকার্ড) এবং নিউজ২৪-এ ১টি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

রাজনীতিবিদের নাম

কনটেন্ট সংখ্যা

মো. তারেক রহমান 

১৮

এম এ আউয়াল খান 

রাশেদ খান 

মোট 

৩৩

 

অন্যদিকে, ৩০ জুন নতুন করে যুক্ত করা হয় বিএনপি নেতা এম এ আউয়াল খানের বক্তব্য। শুধু তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই কালের কণ্ঠে একদিনে ৯টি কনটেন্ট (সংবাদ, ভিডিও এবং ফটোকার্ড) প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে "এনসিপির নেতারা শুধু জয় দেখেছেন, পরাজয় দেখেননি : আউয়াল খান" এবং "হাসনাত আবদুল্লাহর ব্যাপারে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন বিএনপি নেতা এম এ আউয়াল" শিরোনামগুলো উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া, রাশেদ খানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে কালের কণ্ঠে মোট ৬টি কনটেন্ট প্রকাশিত হয়েছে। ২৮ ও ২৯ জুনে "হাসনাত ও হান্নান মাসউদ বাজেট বাদ দিয়ে চানাচুর মার্কা আলোচনা করেছেন" এবং "শেখ হাসিনার মতো গলাবাজি করছেন" শিরোনামের পর, ১ জুলাই নতুন করে "হাসনাত-সারজিস কোন অতিগোপনীয় অভিযোগ নিয়ে দুদকে গিয়েছিলেন, তদন্ত চান রাশেদ খান" শিরোনামে সংবাদ ও ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়।

সব মিলিয়ে, রাশেদ খান, মো. তারেক রহমান এবং এম এ আউয়াল খান—এই তিন রাজনীতিবিদের বক্তব্যকে খণ্ডিত করে বসুন্ধরা গ্রুপের সংবাদমাধ্যমগুলোতে মোট ৩৩টি কনটেন্ট সংবাদ, ভিডিও ও ফটোকার্ড ফরম্যাটে পুনঃপ্রচার করা হয়েছে।

রাশেদ–তারেক ও আউয়াল খান ছাড়াও যাদের বক্তব্য ব্যবহৃত হয়েছে

রাশেদ খান, মো. তারেক রহমান এবং বিএনপি নেতা এম এ আউয়াল খান ছাড়াও হাসনাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ উপস্থাপনে আরও বেশ কয়েকজন ব্যক্তি, ভুক্তভোগী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং নাম-পরিচয় প্রকাশ না করা সূত্রের বক্তব্য ব্যবহার করা হয়েছে। 

এর মধ্যে বিএনপির সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া, হামলার শিকার দিনমজুর মহিউদ্দিন, তার স্ত্রী হ্যাপি বেগম, বড় ভাই ও বাবা মনু মিয়া, দেবীদ্বারের স্থানীয় রাজমিস্ত্রিরা এবং দুদকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। 

পাশাপাশি কয়েকটি ভিডিওতে নাম-পরিচয়হীন ব্যক্তি, সাধারণ নাগরিক ও উপস্থাপকদের বক্তব্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

 

আছে বক্তব্য আর অভিযোগ, নেই কোন প্রমাণ

২৮ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত প্রকাশিত কনটেন্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, হাসনাত আব্দুল্লাহকে ঘিরে একই ধরনের কয়েকটি অভিযোগ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, ভিন্ন শিরোনাম এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উদ্ধৃতিতে ধারাবাহিকভাবে প্রচার করা হয়েছে।  

"হাসনাত আব্দুল্লাহ এখন শেখ হাসিনার মতো গলাবাজি করছেন : রাশেদ" শিরোনামের সংবাদে উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়ে রাশেদ খান অভিযোগ করেন, "নিজের এলাকায় যে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার অধিক উন্নয়ন প্রকল্পের নামে বাজেট নেওয়া হল এটা কী দুর্নীতি না"।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসকের একটি বক্তব্য থেকে, যেখানে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। রাশেদ খানের উল্লিখিত ৭০০ কোটি টাকার দাবির সঙ্গে এসব তথ্যের মিল পাওয়া যায় না।

এ ছাড়া অভিযোগে যে বরাদ্দকে ব্যক্তিগত অর্থ বা রাজস্ব তহবিলের অর্থ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী সেটি ছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বিশেষ প্রকল্প বরাদ্দ। এ ধরনের বরাদ্দ সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ব্যয় করা হয় এবং তা সরাসরি কোনো ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয় না।

৩১ মে প্রকাশিত একটি সংবাদে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়ার সঙ্গে হাসনাত আব্দুল্লাহর ৫৩ সেকেন্ডের একটি ফোনালাপ প্রকাশিত হয়। সেখানে মোস্তাক মিয়াকে বলতে শোনা যায়, "টাকা আপনি খাইছেন এটা তো আমি বলিনি" এবং "আমি বলছি আপনার এলাকায় কাজের জন্য নিছেন, কাজ ছাড়া তো হবে না, আপনি খাইছেন এটা তো বলি নাই।"

জেলা পরিষদের প্রশাসকও পরে বলেন, দুই উপজেলায় উন্নয়নকাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া অর্থের কথা তিনি বলেছেন, ব্যক্তিগতভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেননি।

হাসনাত আব্দুল্লাহ পরবর্তী সময়ে ফেসবুক লাইভে দাবি করেন, আলোচিত অর্থ ১৪৮টি পৃথক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে। তিনি প্রকল্পভিত্তিক ব্যয়ের তালিকা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য সরকারি ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। একই বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মো. আমিরুল কায়সারও গণমাধ্যমকে বলেন, প্রকল্পগুলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুসরণ করে অনুমোদিত হয়েছিল।

ত্রাণের অর্থের হিসাব না দেওয়ার বিষয়ে কালের কণ্ঠ তাদের "All Allegations Against Hasnat Abdullah | Hasnat Abdullah | Kaler Kantho" শিরোনামের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে: "২০২৪ সালের বন্যার ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা নিয়ে স্বচ্ছ হিসাব দিতে পারেননি তিনি"।

তবে দ্য ডিসেন্টের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গণত্রাণ কার্যক্রমের নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে জানানো হয়, ব্যয় বাদে অবশিষ্ট ৯ কোটি ৯১ লাখ ৫১ হাজার ২১৩ টাকা ব্যাংকে সংরক্ষিত ছিল, যার মধ্যে ৮ কোটি টাকা প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে দেওয়া হয়। একটি আন্তর্জাতিক অ্যাকাউন্টিং নেটওয়ার্কের সদস্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত নিরীক্ষায় ত্রাণ তহবিল ব্যবস্থাপনায় কোনো অস্বচ্ছতা পাওয়া যায়নি। ত্রাণের অর্থ ব্যাংকে রাখার বিষয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বিবিসি বাংলাকে বলেন, তাৎক্ষণিক ব্যয়ের পরিবর্তে বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনের জন্য অর্থ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

"হাসনাতরা ত্রাণের হিসাবও দিতে পারেনি : মো. তারেক" শিরোনামের সংবাদে আমজনতার দলের তারেক রহমান বলেছেন,: "টিএসসিতে ত্রাণের জন্য কাপড়চোপড় যা আসছিল, তা তারা কেজি দরে বিক্রি করেছে"।

তবে এই দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। 

বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত মসজিদের কাজে অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে "হাসনাত আবদুল্লাহ : সাদা সাদা, কালা কালা" শিরোনামের প্রতিবেদনে স্থানীয় রাজমিস্ত্রিদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়: "২০ ফুট ইন্টু ৪০ ফুট পাকা কাজের একটি টেন্ডার ১১ লাখ ৮১ হাজার টাকা দিয়ে করা হয়েছে... এ কাজ সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকাতেই করা সম্ভব। প্রায় ৯ লাখ কোথায় গেল?"।

দুদকে গিয়ে চাঁদাবাজির বিষয়ে কালের কণ্ঠের "All Allegations Against Hasnat Abdullah" শিরোনামের ভিডিও প্রতিবেদনে বলা হয়: "দুদক যাওয়ার পেছনে ছিল বড় চাঁদাবাজির অংশ। একটি বিশেষ শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ জমা দিয়ে তাদের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়"।

বিলাসবহুল ইফতার আয়োজনের বিষয়ে মো. তারেক রহমান অভিযোগ করেন, যা "অনিয়মের জবাব চাইলে হাসনাত একচুলও নড়তে পারবে না : মো. তারেক" শিরোনামে প্রকাশিত হয়। তিনি বলেন: "যে ব্যবসায়ীদের মব সৃষ্টি করে, টাকা লুটপাট কইরা এই রকমভাবে ইফতার আয়োজন করতে হবে... কোটি কোটি টাকা নিয়ে ইফতার আয়োজন করল, এটা কি জুলাইয়ের স্পিরিট"

দ্বিতীয়ত, একাধিক প্রতিবেদনে হাসনাত আব্দুল্লাহকে 'মব কালচার' ও সহিংস রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপন করা হয়।

তাকে মব সন্ত্রাসের কারিগর হিসেবে উল্লেখ করে "হাসনাত আবদুল্লাহ : সাদা সাদা, কালা কালা" প্রতিবেদনে বলা হয়: "হাসনাতের রাজনীতির প্রধান উৎস হলো মবসন্ত্রাস। প্রতিপক্ষকে হুমকি দিয়েই রাজনীতির মাঠ দখল করা তার প্রধান কৌশল"।

লন্ডনের ঘটনার বিষয়ে ডেইলি সানের বিশেষ প্রতিবেদন "মব বিতর্কে হাসনাত আবদুল্লাহ"-তে উল্লেখ করা হয়: "লন্ডনে তার সমর্থকদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ‘মব’–সংক্রান্ত পুলিশি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে"।

তবে প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের পুলিশের পক্ষ থেকে হাসনাত আব্দুল্লাহ বা তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বা অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হলেও এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স অভিযোগ অস্বীকার করে। একই প্রতিবেদনে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্সের নেতা জাকির চৌধুরী দাবি করেন, পুলিশ তদন্তে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ না পাওয়ায় তদন্তটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য পুলিশের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য তখনও পাওয়া যায়নি।

 

হাসনাতের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণাকে ‘শিকারি সাংবাদিকতা’ বলছেন গবেষক

প্রেস ইনস্টিটিউট অফ বাংলাদেশের মিডিয়াবিষয়ক সাময়িকী নিরীক্ষা-এর ২০২৫ সালের এপ্রিল-জুন সংখ্যায় প্রকাশিত "শিকারি সাংবাদিকতার উত্থান পর্ব" শীর্ষক প্রবন্ধে গণমাধ্যম বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক আ-আল মামুন লিখেছেন, বর্তমান মূলধারার সংবাদমাধ্যমের একটি অংশে এমন এক ধরনের সাংবাদিকতা দেখা যাচ্ছে, যাকে তিনি 'শিকারি সাংবাদিকতা' (Predatory Journalism) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

প্রবন্ধে বলা হয়, এ ধরনের সাংবাদিকতায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে বিভিন্ন ক্ষমতাকেন্দ্র ও স্বার্থগোষ্ঠীর যোগসাজশে ধারাবাহিকভাবে কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা হয়। 

লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে সাংবাদিকতার প্রচলিত নীতি-নৈতিকতা অনেক সময় উপেক্ষিত হয় এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, মূলধারার সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পারস্পরিক সংযোগের কারণে একই বয়ান দ্রুত ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।

হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে বসুন্ধরার মালিকানাধীন মিডিয়াগুলোতে নেতিবাচক প্রচারণা সম্পর্কে জানতে অধ্যাপক আ-আল মামুনের সাথে কথা বলে দ্য ডিসেন্ট।

তিনি দ্য ডিসেন্টকে  বলেন, "হ্যাঁ, এটাকে শিকারি সাংবাদিকতা বলা যায়। কয়েক দিনের মধ্যে একজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এতগুলো কনটেন্ট প্রকাশ করা অবশ্যই শিকারি সাংবাদিকতার মধ্যে পড়ে।"

তিনি বলেন, এ ধরনের প্রবণতা সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে নতুন নয়। ৫ আগস্টের আগে যেমন ছিল, পরেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। তাদের উদ্দেশ্য কখনোই সাংবাদিকতা করা থাকে না; বরং নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করে এ ধরনের শিকারি সাংবাদিকতা করা হয়।"

তিনি আরো বলেন, "এধরনের শিকারি সাংবাদিকতাকে জবাবদিহিতা ও শাস্তির আওতায় আনা উচিত।"