Image description

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে বলে প্রক্ষেপণ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এই পূর্বাভাস সরকারের ঘোষিত বাজেটে নির্ধারিত ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহারসহ প্রধান তিনটি নীতিগত সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের মনিটারি পলিসি স্টেটমেন্ট (এমপিএস) প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব তথ্য জানায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের ধারা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, ওই অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি। এই ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও বাড়বে বলে আশা করা হলেও তা সরকারের লক্ষ্যমাত্রার নিচেই থাকবে।

নতুন মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, আগামী অর্থবছরে সরকারের আর্থিক কৌশলের মূল লক্ষ্য হবে প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করা এবং একই সঙ্গে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা। এজন্য কর ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি ব্যয়ের যৌক্তিকীকরণ, লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন ব্যয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, নতুন সরকার প্রবৃদ্ধি সহায়ক হলেও আর্থিকভাবে সতর্ক ও টেকসই নীতি অনুসরণ করছে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ভিত্তি শক্তিশালী করতে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মুদ্রানীতিতে উল্লেখ করা হয়, সরকারের ঘোষিত বাজেটে নির্ধারিত ‘থ্রি-আর’ কৌশল—রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন এবং রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাক্সিলারেশন—এর প্রথম ধাপে আগামী এক বছরে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এই কৌশলের আওতায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করা, সরকারি সেবার মান উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বাজারে টাকার প্রবাহ সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহারে কোনো পরিবর্তন আনেনি। ফলে পলিসি রেপো রেট ১০ শতাংশ, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৭ দশমিক ৫ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী প্রবৃদ্ধির জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি—এই তিনটি লক্ষ্য সামনে রেখেই নতুন মুদ্রানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকারের রাজস্ব ও ব্যয় ব্যবস্থাপনার সংস্কারের পাশাপাশি মুদ্রানীতির সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে আগামী অর্থবছরে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।